নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটি বিএনপির গ্রুপিং-এ নয়া মেরুকরণ !

রাঙামাটি বিএনপির গ্রুপিং-এ নয়া মেরুকরণ !

Grouping-Coverরাঙামাটি সদর ও লংগদু উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে,বিএনপির পুরনো গ্রুপিং নয়া মেরুকরনে রূপ নিয়েছে। জেলা বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান সভাপতি দীপেন দেওয়ান ও দলে নবাগত মনীষ দেওয়ান অনুসারিদের নিয়ে পৃথক দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। দলের সকল সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দুই গ্রুপে বিভক্ত,কেউবা দীপেন অনুসারি আবার কেউবা মনীষ অনুসারি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে এই বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

সংকটের শুরু হয় সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়নকে ঘিরে। চেয়ারম্যান পদে দীপেন গ্রুপের অনুসারি হিসেবে পরিচিত মাহবুবুল বাসেত অপুকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পাঁচজনকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয় তৃণমূল দলের সভাপতি ও দীপেন গ্রুপের অনুসারি জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে। ফলে বাকী সকল ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে তথা জাহিদের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং মনীষ গ্রুপের সমর্থক মো: মাহাফুজ এর পক্ষে কাজ শুরু করেন। দীপেন গ্রুপ হিসেবে পরিচিত আরিফুর রহমান সরাসরি মাহফুজের পক্ষে কাজ করছেন। এমনকি দীপেন দেওয়ান ডান হাত হিসেবে পরিচিত মামুনুর রশীদকেও দেখা গেছে মাহফুজের প্রচারে।

আবার দুই গ্রুপের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: শাহ আলম এর অনুসারি হিসেবে পরিচিত নেতারা,যারা কিছুটা দীপেন দেওয়ানের দিকেই হেলে ছিলেন,তারাও প্রকাশ্যে নেমে যান মাহফুজের পক্ষে। মনীষ গ্রুপের সবার সমর্থনের পাশাপাশি,শাহ আলম এর অনসারি হিসেবে পরিচিত আলী বাবর,বাবুল আলী,রিন্টু বড়–য়া,শফিসহ বেশ কিছু সিনিয়র নেতা এবং দীপেন গ্রুপের অনেক নেতার সমর্থনও পেয়ে যান মাহফুজ। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি,সম্পাদক আর দু’একজন সহসভাপতি ছাড়া প্রায় সকল নেতাই মাঠে নেমে পড়েন মাহফুজের পক্ষে,ফলে দৃশ্যত বেকায়দায় পড়েছেন দীপেন দেওয়ান,হয়েছেন আরো কিছুটা নি:সঙ্গ।

অন্যদিকে চেয়ারম্যানপ্রার্থী মাহবুবুল বাসেত অপু দীপেন অনুসারি হিসেবে পরিচিত হলেও নির্বাচনে মাঠে নামার পর তার পাশে তিনি নিজ গ্রুপের নেতাকর্মীদের চেয়ে মনীষ গ্রুপের নেতাকর্মীদেরই বেশি মাঠে পেয়েছেন। কারণ দীপেন গ্রুপের নেতাকর্মীরা প্রায় সবাই ব্যস্ত তাদের নিজেদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদকে নিয়েই। ফলে কিছু অভিমান আর চাপা ক্ষোভ থাকলেও আপাতত: নির্বাচনের কারণে মুখ খুলছেননা অপু। নির্বাচনের পরে এনিয়ে নিজের ক্ষোভের বিস্ফোরনও ঘটাবেন এটা নিশ্চিত।

mamun-bhai
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ মো: মাহাফুজ এর সাথে প্রচারাভিযানে দীপেন দেওয়ানের ‘ডান হাত’ খ্যাত মামুনুর রশীদ ও মনীষ দেওয়ান গ্রুপের ‘কি-মেকার’ পৌরমেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো……..

আবার লংগদু উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী তোফাজ্জ্বল হোসেন হলেও সেখানে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী আছে দলটির। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী ফয়েজুল আজিম জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: শাহ আলম এর অনুসারি ও ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি মো: শাহ আলমকে অন্ধকারে রেখে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে হাজী ফয়েজকে,এনিয়ে ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত শাহ আলমও। শাহ আলম এর ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা,এই বহিষ্কারের ঘটনাটির সাথে জেলায় দলের শীর্ষ নেতার ইন্ধন ও প্রচেষ্টা ছিলো। ফলে তারাও ক্ষুদ্ধ,সময়ে সুযোগে পাল্টা প্রতিশোধ নিতে মরিয়া তারাও।

৩১ মার্চকে তাই নানান সমীকরণে বিবেচনা করা হচ্ছে রাঙামাটি বিএনপির রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে,সেদিন দলীয় প্রার্থীদের জয় পরাজয়ে শুধু সেই প্রার্থীই নয়,নির্ধারিত হবে রাঙামাটি জেলা বিএনপির ভাগ্যও,গতিপথ নির্ধারিত হবে দলটির আগামী দিনের রাজনীতির। আপাত: তাই ৩১ মার্চ’র প্রতীক্ষায় জাতীয়বাদী দলটির নেতাকর্মী সমর্থকরা।

তবে নির্বাচনকে ঘিরে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও তা বড় কিছু নয় দাবি করে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: শাহ আলম বলেন,আমরা আপাতত: চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়েই ভাবছি,ভাইস চেয়ারম্যানদের নিয়ে কিছুই ভাবছিনা। নির্বাচনকেন্দ্রীক কিছু সমস্যা তৈরি হলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে তা কেটে যাবে বলে আশাবাদের কথা শুনিয়েছেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply