নীড় পাতা » ব্রেকিং » রাঙামাটি পৌরসভায় নতুন যুগের শুরু

রাঙামাটি পৌরসভায় নতুন যুগের শুরু

akbar-12
দায়িত্ব নিয়ে মেয়রের চেয়ারে আকবর..

রাঙামাটি পৌরসভা নিবার্চনের দুই মাসের মধ্যেই দায়িত্ব বুঝে নিলেন আকবর হোসেন চৌধুরী এবং তার নতুন পরিষদ। আর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নেন বিদায়ী মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো ও তার নেতৃত্বে পরিচালিত পুরনো পরিষদ।

রবিবার সকালে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পুরাতন পরিষদকে বিদায় এবং নবনিবার্চিত মেয়র ও কাউন্সিলারগনকে বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাঙামাটি পৌরসভার প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল পারভেজ‘র পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি ফিরোজা বেগম চিনু। এসময়  বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান , সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমানও। পুলিশ সুপার সাঈদ তারেকুল হাসান,বিজিবির সেক্টর কমান্ডার, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা  উপস্থিত ছিলেন। এছাড়ও বিভিন্ন সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর রুকসানা আক্তার এবং ৮ নং ওয়ার্ডের পুনর্নিবাচিত কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা।

bhutta-011
বিদায়ী ফুলের তোড়া গ্রহণ করছেন ভূট্টো

আলোচনা সভায় সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ভুট্টো যতদিন দায়িত্ব পালন করেছে তার মধ্যে কোন দিন দলীয়করন করতে দেখা যায়নি, সে দলীয় চিন্তা নিয়ে কোন কাজ করেনি। কম বেশি তিনিও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এই পৌরসভার একটি বড় সুযোগ হচ্ছে তারা পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে সাহায্য সহযোগিতা পাবে। এগুলো একটি সুন্দর ও মডেল পৌরসভা নির্মাণে যথেষ্ট। আকবর তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে পৌর এলাকার উন্নয়ন করতে পারবেে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি ।

আরেক সাবেক চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে মেয়র হয়েছে, সে তরুণ, তার শিক্ষা এবং মেধাকে ভালো ভাবে কাজে লাগাতে পারলে, সে অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এই মাস থেকে সকল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বেড়েছে। এই বেতন দেওয়ার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে কর বা রাজস্ব। সবাই যদি সঠিকভাবে কর পরিশোধ করে এবং বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র যদি সঠিক ভাবে তা পরিচালনা করতে পারে, তবে এর ব্যবস্থা সহজেই করতে পরবে।

পৌরসভার দুই সাবেক বারের মেয়র হাবিবুর রহমান বলেন, এটি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া, চলে যাওয়া নয়,কারন জনপ্রতিনিধিরা কখনো জনগণের কাছ থেকে দূরে থাকতে পারে না,তারা ঘুরে ঘুরে তাদের কাছে আসে, তাদের বিভিন্ন সুখে-দুঃখে কাছে থাকে। তিনি আরো বলেন, আমি যখন দায়িত্ব গ্রহন করি, তখন কেউ ছিলোনা দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। আমি নিজে নিজের দায়িত্ব গ্রহন করেছিলাম। কিন্তু আজ সাইফুল ইসলাম ভূট্টো তা করেননি। তিনি নিজে নির্র্বাচিত মেয়রকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া তিনি তার দায়িত্বের সব কিছু তাকে জানিয়ে এবং দায়িত্ব পরিপূর্ণ বুঝিয়ে দিয়ে সবকিছু বলে যাচ্ছেন। তার এই আচরণ আসলেই প্রসংশার দাবিদার,আমি ভূট্টো ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র তার মেধাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে এই পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় পরিণত করতে পারবে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটন নগরী, এটিকে ভিাবে সুন্দর ও পরিপাটি রাখতে হবে, সেদিকে আমি নজর রাখবো। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমি নিজে একা কাজ করলে হবেনা, আমাকে নগরীর সকল নাগরিকদেরকে সাহায্য করতে হবে।

akbar-11
ফুল হাতে নতুন যুগ শুরু আকবরের

তিনি আরো বলেন, পরিপূর্ণ পর্যটন নগরী নিমার্ণে আমার চেষ্টা থাকবে। এই মাস থেকে বেতন-ভাতা বেড়েছে। এটি পরিপূর্ণ করার উপায় হচ্ছে রাজস্ব আয়। আমার মনে হয় শহরের সকল নাগরিকের চেষ্টা ও সহযোগিতায় এর ব্যবস্থা আমি করতে পারবো বলে বিশ্বাস আছে। তিনি সকল নাগরিককে সাথে নিয়ে নগর উন্নয়নের কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আকবর হোসেন চৌধুরী রাঙামাটি পৌরসভা কার্যালয়কে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করবেন না জানিয়ে বলেন, আমি আমাকে ভোট দেয়া রাঙামাটির সকল পৌরবাসির সবার প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পৌরসভাকে প্রতিষ্ঠিত করবো। এইজন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।

বিদায়ী মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, আমি নিবার্চন নিয়ে ক্ষুদ্ধ, কিন্তু এর ছাপ আমি এখানে পড়তে দেইনি। কারণ আমি এবং আমরা দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। যে নির্বাচিত হয়েছে, তিনি আমার না পারা কাজগুলো করবেন এবং এই পৌরসভা কে মডেলে পরিণত করবেন, আমার আশাবাদ রইলো আমার।

তিনি বলেন, আমি বর্তমান মেয়রকে সব ধরণের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি আমার থেকে যে কোন সাহায্য চাইলে আমি করবো। তিনি বলেন, উচ্চবিলাসী চিন্তা করলে কিছু করা সম্ভব হবে না। যা আছে তা দিয়ে কাজ করতে হবে। আশা করি বর্তমানে যে প্রকল্প আছে, তা সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে, নগরীর জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজা বেগম চিনু এমপি বলেন, বর্তমানের মেয়র এর কাছ থেকে নাগরিকগণ অনেক কিছু আশা করে। আমরাও আশা করি তিনি নিজ মেধা এবং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের জন্য কিছু করতে পারবে।

তিনি বলেন, পৌরসভা সকলের, এখানে রাজনৈতিক কোন প্রভাব ফেলতে দেওয়া যাবে না। যে দলেরই হোক না কেনো, সকলকে পৌরসভা থেকে সুবিধা দিতে হবে। তিনি আরো জানান, পৌরসভার উন্নয়নের জন্য যা কিছু করতে হবে তাতে তিনি সহযোগিতা করবেন। পৌরবাসীর উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আলোচনা সভা শেষে বিদায়ী মেয়র ও কাউন্সিলারগণকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply