নীড় পাতা » খেলার মাঠ » রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আলোচিত নির্বাচন আজ

রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আলোচিত নির্বাচন আজ

DSA-logoবহুল আলোচিত রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন আজ। শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ৯২ জন ভোটার নির্বাচনে অংশ নিবেন ২০ জন প্রতিনিধি নির্বাচনে। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সভাপতি হওয়ায়,সহসভাপতির ৩ টি পদ,সহ সাধারন সম্পাদক এর একটি পদ,যুগ্ম সম্পাদকের ২টি পদ,অর্থ সম্পাদকসহ আরো বারোজন সদস্য নির্বাচনের জন্যই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তারা। যদিও মহিলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দুইজন এবং উপজেলা ক্রীড়াসংস্থাগুলো থেকে ২ জনসহ মোট চারজন ইতোমধ্যেই বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

সহসভাপতির তিনটি পদেও জন্য লড়ছেন ছয় হেভিওয়েট প্রার্থী। এরা হলেন বিদায়ী কমিটির দুই সহসভাপতি সুনীল কান্তি দে ও হাজী কামালউদ্দিন,সাবেক কৃতি ফুটবলার শফিকুল ইসলাম মুন্না,এ্যাথলেটিক কোচ আবুল বশর চৌধুরী, ক্রীড়া সংগঠক মঈনউদ্দীন সেলিম ও ক্রীড়াবিদ প্রীতম রায় হিরো । বিগত কমিটির আরেক সহসভাপতি জসীমউদ্দিন বাবুল এবার নির্বাচনে লড়ছেন না। ছয়জনের লড়াইয়ে শেষ হাসি কোন তিনজন হাসেন তা জানা যাবে,শুক্রবার শেষ বিকেলে।

সাধারন সম্পাদক পদে লড়ছেন বিদায়ী কমিটির সম্পাদক ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার বরুন বিকাশ দেওয়ান,সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন,ও বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শফিউল আজম। মেধা,প্রজ্ঞা ও সাংগঠনকি দক্ষতায় তিনজনই যোগ্য এ পদে। মায়ের চিকিৎসার কারণে ভারতে অবস্থান করায় ব্যক্তিগতভাবে তিনি নির্বাচন থেকে দূরে থাকলেও তার নিকটজনেরা তার হয়ে চালাচ্ছেন জোর প্রচারণা। কঠোর আর পরিশ্রমী প্রচারনা চালাচ্ছেন মামুন এবং আজমও। এখানে তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস মিলছে।

সহ সাধারন সম্পাদক পদে লড়ছেন দুই সাবেক ক্রিকেটার আবু সাদাত মো: সায়েম এবং নাছিরউদ্দিন সোহেল। তরুণ প্রজন্মের এই দুই প্রার্থীর লড়াইটা বেশ আলোচনায় এলেও অনেকেই একে ফ্রেন্ডলী লড়াই হিসেবেও দেখছেন। কারণ দুইজনই সাবেক ক্রিকেটার,বর্তমান আম্পায়ার এবং পাশাপাশি তাদের সম্পর্কও বেশ হৃদ্যতাপূর্ণ। কাছাকাছি প্রজন্মের এই দুই প্রার্থীর পক্ষে তাদের বন্ধুরা কাজ করছেন আন্তরিকভাবে।তাই এই পদে জমাট লড়াই প্রত্যাশা করছেন তাদের সুহৃদরা।

যুগ্ম সম্পাদক পদে লড়ছেন সাবেক ক্রিকেটার ও রফিক স্মৃতি ক্রিকেট ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক অধিনায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল করিম, সাবেক জাতীয় ফুটবলার কিংশুক চাকমা,ক্রীড়া সংগঠক শেখর সেন ও নিবানন চাকমা। এখানে দুইপদে চার প্রার্থীর লড়াইয়ে বিজয়ী হতে পারেন যেকোন দুইজনই। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হচ্ছে এপদে। সুতরাং শেষাবধি কে বিজয়ী হবেন বলা মুশকিল।

অর্থ সম্পাদক পড়ে লড়ছেন পুরনো মনিরুল ইসলাম আর নতুন দেবেশ চাকমা চিক্কো। ওয়ান টু ওয়ান লড়াইয়ের এই পদে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস মিলছে।

কার্যকরি কমিটির ১২ টি সদস্যের জন্য লড়ছেন ১৯ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে পরীক্ষিত ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড় যেমন আছেন,তেমনি আছেন একেবারেই নবাগত অনেকেও। যে ১৯ জন এখানে লড়ছেন তারা হলেন মো: শাহ আলম,আব্দুল করিম,আশীষ কুমার চাকমা নব,আলী বাবর,শফিকুল ইসলাম চৌধুরী,টনক চাকমা,মনোজ কুমার ত্রিপুরা,মামুন মিন্টু,রনেন চাকমা,আব্দুস শুক্কুর,জয়জীৎ খীসা নতুন,তাপস চাকমা,আহম্মদ ফজলুর রশীদ সেলিম,রমজান আলী,মৌমিত বড়ুয়া,আহম্মদ হুমায়ুন কবির,বাদশা আলমগীর,ফজলুল করিম ফজল,স্বর্নেন্দু ত্রিপুরা। এখানে নির্বাচিত হতে পারেন যে কেউই,আর তা নির্ভর করছে ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসের উপর।

ইতোমধ্যেই বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মহিলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে বীণাপ্রভা চাকমা ও মনোয়ারা জসীম এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে সাহাবউদ্দিন আজাদ ও সুদর্শন বড়–য়া।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার এবারের নির্বাচনে যারা লড়ছেন তাদের কারো কারো রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও সমানভাবে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ তারা। ফলে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে নির্বাচনী মাঠ তাতাচ্ছেন না কেউই। ধারণা করা হচ্ছে,সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে এবার রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থায় যারাই নেতৃত্বে আসবেন,তারা বলিষ্ঠভাবে আগামীতে রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনকে নেতৃত্ব দিবেন। এখন অপেক্ষা,আজ শেষ বিকেলের। ভোটগ্রহণ শেষে যখন ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply