নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির ৭ গুদামে খাদ্যশস্য সংকটে ব্যাহত রেশনিং

চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট ট্রাকচালকরা

রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির ৭ গুদামে খাদ্যশস্য সংকটে ব্যাহত রেশনিং

পাহাড়ে সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহনে চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও হয়রানীতে অতিষ্ট হয়ে খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাকচালকরা। এ অবস্থায় খাগড়াছড়ির ৫টি খাদ্য গুদাম ও রাঙামাটির ২টি খাদ্য গুদামে দেখা দিয়েছে খাদ্যশস্য সংকট। ফলে সরকারের বরাদ্দ দেওয়ার পরও খাদ্য সরবরাহ দিতে পারছেনা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে রেশনিং।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ সমস্যা চলছে প্রায় ২ সপ্তাহ যাবৎ। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে খাদ্যশস্য পরিবহন। গুদামে খাদ্য না থাকায় ভারত প্রত্যাগত শারনার্থীদের ত্রৈমাসিক রেশনের ডিও (ডেলিভারি ওর্ডার) কপি পাওয়ার পরও তা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির। চট্টগ্রাম থেকে খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ হওয়ায় সংকটে থাকা গুদামগুলো হলো খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালা (সদর), দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ও মেরুং খাদ্যগুদাম এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি ও লংগদু খাদ্যগুদাম।

উল্লেখ্য, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় খাদ্য পরিবহনের জন্য সড়ক পথে যাতায়াতের রুট খাগড়াছড়ি জেলা সদর এবং দীঘিনালা হয়েই; এছাড়া কোন বিকল্প সড়ক নেই।

মেরুং খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বিধান বড়ুয়া জানান, এখানে পাহাড়ি-বাঙালিদের সরকারি রেশনিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। গুচ্ছগ্রাম এবং ভারত প্রত্যাগত শারনার্থীদের অনুকুলে ত্রৈমাসিক ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) দিয়ে রেশন ছাড় দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী খাদ্যের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখনো খাদ্যশস্য আসেনি। তাই গুদামে খাদ্যশস্য সংকট থাকায় চাহিদার রেশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দীঘিনালা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির জানান, ১৮ফেব্রুয়ারি থেকে খাদ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় গুদামে চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য নেই। ভারত প্রত্যাগত শরনার্থীদের গত ত্রৈমাসিক ডিও’র খাদ্য ছাড় দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৩ফেব্রুয়ারি। কিন্তু খাদ্য না থাকায় ৭১৫মেট্রিক টনের ডিও পাওয়ার পরও তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। নাসির আরও জানান, এ অবস্থা টিকে থাকলে এ মাস থেকে শুরু হওয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকার বিনিময়ে চালও দেওয়া সম্ভব হবে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মোহাম্মদ নাসির।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ জানান, পাহাড়ের পথে পথে চাঁদাবাজি, হয়রানী আর নির্যাতনে চালকরা অতিষ্ট হয়ে এ রুটগুলোতে পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। তাদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া দিলেও ঝুঁকি নিয়ে খাদ্য পরিবহনে কোনো ক্রমেই রাজি হচ্ছেন না। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও এ ৭টি গুদামে খাদ্য পাঠানো যাচ্ছেনা। রশিদ আরও জানান, চাঁদাবাজি আগে থেকে থাকলেও সম্প্রতি সময়ে সে মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজরা টাকাও নিবে আবার চালানের কাগজপত্রও চালকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এমনকি সামান্য অজুহাত সৃষ্টি করে চালক এবং হেলপারদের মারধরও করে। এ অবস্থায় গাড়ি চালক খাদ্যশস্য পরিবহন না করলেতো সংগঠনের কিছু করার থাকে না।

জানতে চাইলে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘খাদ্যগুদাম থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছেন এবং আমরা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply