নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » রাঙামাটির তিন বন্ধুর তিন রাজনীতি

রাঙামাটির তিন বন্ধুর তিন রাজনীতি

চায়ের আড্ডায় তিন বন্ধু
চায়ের আড্ডায় তিন বন্ধু

তারা তিনজনই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী,প্রত্যেকেই  গত দুইদশক ধরে পালন করছেন নিজ নিজ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। কিন্তু বন্ধুত্বের বন্ধন এতোটাই অটুট যে দীর্ঘ সময়েও নানা সংকটে,বৈরিতায়ও সেই সম্পর্কে চিড় ধরেনি এতোটুকুও। তারা তিনজন হলেন রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী,জেলা যুব ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার এবং রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আবু সাদাত মোঃ সায়েম।

শুধু রাজনীতি নয়,রাঙামাটিবাসি এই তিনজনকে চেনেন মানিকজোড় হিসেবে। কেবল রাজনীতিই নয়,সামাজিক কর্মকান্ড এবং সামাজিক সংগঠনেও তারা দায়িত্ব পালণ করেন একসাথে। তিনজনই ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে ছিলেন রাঙামাটি রোটার‌্যাক্ট ক্লাবে সভাপতি,জেলা রেডক্রিসেন্ট-এ সায়েম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব শেষ করার পর আকবর বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সাধারন সম্পাদকের,বখতেয়ারও আছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

বন্ধুত্বের যেভাবে শুরু

আকবর এবং বখতেয়ারের বন্ধুত্ব প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। দুজনই ছিলেন কাঠালতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজ। সেখানে যোগ হন সায়েম। মজার ব্যাপার হচ্ছে তিন বন্ধুরই রাজনীতির সূচনা স্কুল জীবন থেকে। স্কুলে ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি হওয়া আকবর ছাত্রলীগের স্কুল কমিটির সভাপতি হয়ে পরে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক,সভাপতি,জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক,সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এখন জেলা যুবলীগের সভাপতি। আপাদমস্তক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আকবর হোসেন জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন।

আবু সাদাত সায়েম স্কুলজীবনে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কলেজে ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালণ করেছেন। বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালণ করা সায়েম সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ সায়েম কর্মীদেরও মাঝেও সমান জনপ্রিয় তার আন্তরিকতা ও ত্যাগের কারণে।

জিসান বখতেয়ার পারিবারিক সূত্রেই ছোটবেলা থেকেই বাম রাজনীতির সাথে জড়িত। রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন এর সভাপতি,জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক,সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে জড়িত রয়েছে সমাজবদলের সংগ্রামে।

শুধু রাজনীতিতেই নয়,জাতীয় সেবামূলক সামাজিক সংগঠন রোটার‌্যাক্ট ক্লাব,রেডক্রিসেন্টসহ স্থানীয় অনেক সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে অতপ্রোতভাবে জড়িত তারা তিনজনই। দেখা গেছে,কোন কোন অনুষ্ঠানে অতিথির সারিতে স্থান মিলেছে একই সাথে তিন বন্ধুর।
একের বিপদে অন্যরা যেমন ঝাপিয়ে পড়েন,তেমনি সাধারন মানুষের বিপদেও একযোগে ঝাপিয়ে পড়েন তারা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মল্লিকা মারমার জীবন বিপন্ন হলে তাকে বাঁচাতে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে স্মরণকালের বৃহত্তর কনসার্টটিরও আয়োজক ছিলেন তারা।

কি বলেন তারা

এই যে নিজেদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা,হৃদ্যতা এনিয়ে নানা গঞ্জনা,অপবাদও শুনতে হয়। নিজ নিজ দলের ছিদ্রান্বেষীদের সমালোচনা,বিরূপ মন্তব্যেও অনঢ় তারা।
আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা আগে বন্ধু,তারপর রাজনীতিবিদ। মানুষের সামাজিক সম্পর্ক,হৃদ্যিক সম্পর্ক অস্বীকার করা যায়না। একই সাথে আমরাই রাঙামাটির রাজনীতিতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ,সংঘাতহীন পরিবেশ স্থাপনে ভূমিকা রাখছি। আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভেতর দিয়ে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি রাজনীতি হতে হবে বন্ধুত্বপূর্ণ,আন্তরিক এবং প্রতিহংসামুক্ত। নিজ নিজ দল এবং আদর্শের সাথে থেকেও কিভাবে সুন্দরভাবে রাজনীতি করা যায় সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই আমরা।

আবু সাদাত মোঃ সায়েম বলেন,আমরা নিজেদের দল এবং আদর্শের ব্যাপার অনমনীয় থেকেও দীর্ঘদিন আমাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে। আমরা রাঙামাটির রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরাই দেখিয়ে দিয়েছি রাজনীতিতে সহাবস্থান কিভাবে নিশ্চিত করা যায়। আমি মনে করি,রাঙামাটি ছোট শহর,এখানে সবাই সবার পরিচিত। জাতীয় রাজনীতির সহিংসতা,সংঘাত যেনো আমাদের এখানে কোন নেতিবাচক ভূমিকা রাখতে না পারে সেইজন্য আমাদের সবাই কাজ করতে হবে।

জিসান বখতেয়ার বলেন,আমরা প্রত্যেকেই নিজ দল ও আদর্শের প্রতি কমিটেড আবার আমাদের বন্ধুত্বও সবকিছুর উর্ধ্বে। নানা সময় নানা বিষয়ে আমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়,আদর্শিক অবস্থানের কারণে কখনো আমাদের মধ্যে মতদ্বৈততা ও মতভিন্নতাও দেখা দেয়। কিন্তু সবকিছুর পর বন্ধুত্বেরই জয় হয়। আমরা চাই,আমাদের মতো সবাই রাজনীতিকে ব্যক্তিসম্পর্ক,সামাজিক সম্পর্কের বাইরের কিছু মনে না করুক,তাহলেই রাজনীতি সুন্দর হবে,পরিচ্ছন্ন হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

‘আওয়ামীলীগ চুক্তি করেছে, তারাই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে’

‘আওয়ামীলীগ সরকারের আগে অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। উল্টো তারা পার্বত্য …

5 comments

  1. Amra kub kushi………………………………..Alahi vaik onek onek dhonnobad. Asole dhonobad dea ses kora jabena. amra online pahar24.com pea kub kub anonditho.

  2. প্রতিবেদনটি এবং প্রতিবেদনের বিষয় দুটি ভালো লেগেছে…

  3. Hi Sayem This Maya. Onek din por tomay dakhlam valo aso? Mama Kamon asen?

Leave a Reply

%d bloggers like this: