নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » চোর এবং চুরির সম্প্রীতি !

চোর এবং চুরির সম্প্রীতি !

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলছে রক্তের হোলি খেলা। ১৯৭৬ সালে শান্তি বাহিনী গঠনের পর থেকে পাহাড় হয়ে উঠে উত্তপ্ত। জুম্ম জনগণ তাদের স্বাধিকার আন্দোলনে অস্ত্র হাতে নেয়। দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই অঞ্চলে শান্তি বিরাজ করলেও বাড়তে থাকে জাতিগত সংঘাত। গত দুই দশকেও এই অঞ্চলে ছোট বড় অনেক সংঘাত লক্ষ্য করা যায়। আর প্রতিবারই এই সংঘাত শেষে শান্তি বা সম্প্রীতি র‌্যালি করতেও দেখা যায়।
এই অঞ্চলে প্রত্যেককেই প্রতিটি পরতে পরতে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেড়ে উঠার মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। ছোট থেকেই এই অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হচ্ছে আমাদের জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে। কেউ আমরা এগুলো সচেতনভাবে করে যাচ্ছি আবার কেউ কেউ আবার তা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বার্থ হাসিলের জন্য করে যাচ্ছে। একটি শিশু ছোট থেকে বেড়ে উঠা পর্যন্ত আমরা তাকে সাম্প্রদায়িকতার কঠিন ছোঁয়ায় বড় করে তুলছি। আমরা প্রতিটি কাজেই ভাগ হয়ে যাচ্ছি পাহাড়ি -বাঙালি বলে। সৃজনশীল কাজ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এই পাহাড়ে এখন জাতিগত পরিচয়ই সবচে বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষণে ক্ষণে আমরা ছাত্ররাই পাহাড়ি-বাঙালি বলে মারামারিও করছি। আবার নির্বাচনে নিজের স্বজাতির জয়ের জন্য জান কোরবানি করে দিচ্ছি।
প্রতিটি কাজেই এখন এখানে বড় পরিচয় পাহাড়ি-বাঙালি। আমরা সবকাজেই এখানে পাহাড়ি-বাঙালি খুঁজি। এইখানেই পাহাড়ি ও বাঙালিদের নামে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। একদিকে রয়েছে বাঙ্গালি ঠিকাদার সমিতি, অন্যদিকে রয়েছে উপজাতীয় ঠিকাদার সমিতি, একদিকে বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাঙামাটি অটোরিক্সা সমিতি অন্যদিকে রয়েছে আদিবাসী অটোরিক্সা সমিতি, একদিকে রয়েছে রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি অন্যদিকে রয়েছে উপজাতীয় কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি। শুধুমাত্র এখানেই নয়। সচেতন ব্যক্তিরা পাহাড়ি ও বাঙালি নামে বেশ কিছু নাগরিক কমিটিও গঠন করেছে। এছাড়া আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোতে রয়েছেই। তাই এখানে প্রতিটি পরতে পরতে পাহাড়ি, বাঙালির বীজ বপন করা হয়েছে।

কিন্তু অন্ধকারের এই সময়েও আমরা একটা ঘটনায় খুবই আশাবাদী হয়েছে। আর তা হচ্ছে রাঙামাটিতে সম্প্রতি মোটর সাইকেল সিন্ডিকেটের যে ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে, তারা চমৎকারভাবে পাহাড়ি-বাঙালি ব্যালেন্সড করেছে। শুধুই পাহাড়ি-বাঙালি নয়; তারা এলাকাভিত্তিক ছেলে নিয়েও কাজ করছে। যেখানে আমরা ‘সচেতন মানুষ’রা এক হতে পারছি না, সেখানে অন্তত মোটর সাইকেল চোরদের এমন দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য অনুকরণীয়। আমরা সবকাজের নেতিবাচক দিক দেখতে দেখতে এই কাজের অন্তত একটি ইতিবাচক দিক দেখা হলো না। ‘চোরে চোরে মাসতুত ভাই’ এমন প্রবাদটি সত্য প্রমাণ করে মোটর সাইকেল চুরির সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের অনন্য একটি গুণ আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। সত্যিই তাদের এই গুণ আমরাও সমাজের বিভিন্ন কাজের মধ্যে লাগাতে পারলে সমাজের অনেক পরিবর্তন হতো। যেখানে সচেতন মানুষগণ পাহাড়ি-বাঙালির স্বার্থের জন্য এক হতে পারছেন না সেখানে এই চোর সিন্ডিকেট তাদের নিজের স্বার্থে অন্তত এক হয়েছে। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলের কারণে শহরের বেশ কিছু মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে। আবার অভিনব পদ্ধতিতে তা বিক্রিও করেছেন। আবার বাইরের থেকেও শহরে মোটর সাইকেল নিয়ে এসে সবকিছু পরিবর্তন করে মোটর সাইকেল বিক্রি করেছেন। তাই এসব অসাম্প্রদায়িক মানুষদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা উচিত।

অফিসের বস তিনি। তাঁর অফিসের একজন কর্মচারী বলল, ‘এই, আমি একটা কৌতুক বলব।’
সবাই বলল, ‘বলো বলো।’
কর্মচারীটি কৌতুক বলতে শুরু করল: ‘এক লোক একটা পার্টিতে ঢুকেছে। তার দু’পায়ে বেড়ি করে ব্যান্ডেজ বাঁধা। সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছে না। সবাই বলল, তোমার পায়ে কী হয়েছে? লোকটা বলল, আমার পায়ে নয়, মাথায় হয়েছিল। আমার মাথা ফেটে গিয়েছিল। মাথা ফেটে গেছে? তাহলে তুমি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধেছ কেন? আরে, আমি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধেছি নাকি? ডাক্তারের কাছে গেছি। ডাক্তার আমার মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে দিয়েছেন। এত ঢিলা করে ব্যান্ডেজটা বেঁধে দিয়েছেন যে গড়াতে গড়াতে পায়ে এসে পড়েছে।’

এই কৌতুক শুনে অফিসের সবাই হেসে উঠল। শুধু বস হাসতে পারলেন না। তাঁর মনে হতে লাগল, এটা কি সম্ভব?
মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা হলে সেটা কি পা পর্যন্ত নেমে যেতে পারে?

রাতের বেলায় তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি তাঁর বউকে ঘুম থেকে জাগালেন। বললেন, ‘আচ্ছা বলো তো, একটা লোকের মাথা ফেটে গেছে বলে ডাক্তার তার মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে দিয়েছেন। সেই ব্যান্ডেজটা কি পা পর্যন্ত নেমে যেতে পারে?’
রুশ কৌতুক ম্যাগাজিনটিতে বলা হয়েছে, এই বস আর কেউ নন, তিনি নিজেই একটা কৌতুক ম্যাগাজিনের সম্পাদক।

কৌতুককে কৌতুক হিসেবে নিতে পারতে হবে। কৌতুকে যুক্তি খোঁজা উচিত নয়। তবুও সমাজে যেসব সচেতন মানুষের কাছে সম্প্রীতির আশা করছে এলাকাবাসী, সে সম্প্রীতি যদি আমরা চোরদের থেকে আশা করি তবে সমাজের গতি কি হবে তা সহজেই অনুমেয়।

আরেকটি কৌতুক: সিংহের বিয়ে হবে, ভেড়া খুব লাফাচ্ছে। সিংহের বিয়ে, দাওয়াতে যেতে হবে। একজন বলল, ‘সিংহের বিয়ে তো তুই ভেড়া লাফাচ্ছিস কেন?’ ভেড়া বলল, ‘আরে, বিয়ের আগে আমিও তো সিংহ ছিলাম, বিয়ের পরে না ভেড়া হয়ে গেছি!’ এই কৌতুক শুনে যদি কেউ বলে, যাহ্, একটা সিংহ কীভাবে ভেড়া হয়ে যাবে? এটা সম্ভবই না, তাহলে কিন্তু চলবে না।
তাই দুই চারজন চোর যতই জেলের ভেতরে থাকুক না কেন, পুরো সিন্ডিকেট যতক্ষণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত মোটর সাইকেল চুরিসহ সামাজিক অপরাধগুলো রোধ করা সম্ভব হবে না।

লেখক: সংবাদকর্মী।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

One comment

  1. আসুন আমরা নিজ নিজ এলাকা পরিস্কার রাখি এবং ঢাকা ক্লিন এর এই উদ্যোগ কে স্বাগত জানাই।https://www.facebook.com/events/258949811131871/

Leave a Reply

%d bloggers like this: