নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটিবাসির এ্যাম্বুলেন্স বিড়ম্বনা!

রাঙামাটিবাসির এ্যাম্বুলেন্স বিড়ম্বনা!

Untitled-1জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য যেসব রোগিদের রাঙামাটির বাইরে নিয়ে যেতে হয় তাদের জন্য এ জেলা শহরে বিড়ম্বনার নাম ‘এ্যাম্বুলেন্স। রোগির অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যখন চিকিৎসকরা যখন দ্রুত রাঙামাটির বাইরে নিয়ে যেতে বলেন, তখনই দেখা দেয় এ বিড়ম্বনা। এ্যাম্বুলেন্স খুঁজতেই পার হয়ে যায় ৩-৪ ঘন্টা। রোগির স্বজনদের কখনো মাতৃমঙ্গল, কখনো জেলা পরিষদ, কখনো এফপিএবি, কখনো পুলিশ বিভাগ, কখনো ফায়ার সার্ভিস ঘুরতেই সময় পার হয়ে যায়। তারপরেও মিলে না এ্যাম্বুলেন্স। এরমধ্যে রোগির অবস্থাও হয়ে পড়ে আরো নাজুক। কপালে থাকলে জুটে এম্বুলেন্স নতুবা মাইক্রো বা অন্য কোন গাড়ীই ভরসা। তাতে করেই নিয়ে যেতে হয় রোগিকে।

কেউ কেউ রাঙামাটির বাহির থেকে এ্যাম্বুলেন্স এনেই তবে রোগি নিয়ে যেতে যান,কিন্তু তাও বিপুল সময় ও অর্থব্যয় সাপেক্ষ।

অথচ প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের বিড়ম্বনায় পড়ছেন রোগির স্বজনরা। অধিকাংশ এ্যাম্বুলেন্স দিনের পর দিন গ্যারেজে পড়ে থাকলেও এসব দ্রুত মেরামত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ে না। এতে করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে জরুরী চিকিৎসা সেবা নিতে এসে রীতিমত নাকানি চুবানি খেতে হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনদের।

এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এক রোগির ভাই মাসুদ জানায়, আমার ভাইকে সন্ধ্যায় এখানে ভর্তি করি। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত আটটায় ডাক্তার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার করে। অথচ ৩-৪ঘন্টা আমরা চেষ্টা করেও রাঙামাটির কোথাও এ্যাম্বুলেন্স পাইনি। অবশেষে একই দিন চট্টগ্রাম যাওয়া একটি এ্যাম্বুলেন্স রোগি রেখে ফেরত আসার পর রাত ১২ টায় তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাই। ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়েছে চারটি ঘন্টা। 33

রাঙামাটি শহরে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন আহত হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত লিমনের বন্ধু জামাল জানান, লিমনের লাশ নিয়ে যেতে হবে গ্রামের বাড়ি। তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে এ্যাম্বুলেন্স পেতে ব্যর্থ হই। অবশেষে হাটহাজারি থেকে এ্যাম্বুলেন্স এনে লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে হয় আমাদের। এ ঘটনায় আহত অপর জনের অবস্থার অবনতি ঘটলে ডাক্তার তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে পরামর্শ দেয়। কিন্তু তাও বেলায়ও ঘটে একই বিপত্তি। মুমূর্ষু রবিউলকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং দেরীতে আনার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তাররা জানায়।
আর প্রসুতি মায়েদের জন্য এ বিড়ম্বনা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দেয়।
এ ধরনের ঘটনা প্রায়শই ঘটছে রাঙামাটিতে। অথচ প্রতিবছর উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা জেলা পরিষদ,উন্নয়নবোর্ড,পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খরচ করলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি নিয়ে যেন কারো তেমন মাথা ব্যথা নেই।

রহস্যজনক কারণে মাতৃমঙ্গলের এ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় একবছর ধরে গ্যারেজে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেগম শাহনেওয়াজ জানান, এ্যাম্বুলেন্সটি আমাদের তত্ত্বাবধানে নেই। এটির যাবতীয় বরাদ্দ ও দেখাভাল করেন মাতৃমঙ্গলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার। মাতৃমঙ্গলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ লেলিন তালুকদার এক বছর যাবৎ এ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে পড়ে আছে স্বীকার করে বলেন, এটি মেরামত করতে যে পরিমান টাকার প্রয়োজন তা নেই। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে কিন্তু সাড়া পাইনি। এ্যাম্বুলেন্সটি অনেক পুরনো হয়ে গেছে এবং নতুন এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন বলেও তিনি জানান। তবে নতুন এ্যাম্বুলেন্সের জন্য কোথাও আবেদন করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মাতৃমঙ্গলের এ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত করা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করছেন খোদ মাতৃমঙ্গল সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগিদের সেবা প্রদান করা যথেষ্ট কিনা জানতে চাওয়া হলে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আপনি(প্রতিবেদক) বলার আগে এ বিষয়টি নিয়ে কখনো ভাবিনি।একটি এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে জরুরী রোগিদের সেবা দেয়া যায় না। আমাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভবিষ্যতে আরেকটি এ্যাম্বুলেন্স নেয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখবো।
রাঙামাটির রোগিদের এ্যাম্বুলেন্স বিড়ম্বনা সম্পর্কে সিভিল সার্জন ডা. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি ঠিক আছে। অন্যান্য এ্যাম্বুলেন্স কেন অকেজো পড়ে আছে তা খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে এমএনলারমাপন্থী পিসিপি নেতা খুন

রাঙামাাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহযোগী ছাত্রসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের …

One comment

  1. আমরা নিজেরাও এর প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী, যা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ভোগান্তি আর কষ্ট। এই পার্বত্য রাঙ্গামাটির অন্য অনেক শুভ উদ্যোগের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত…

Leave a Reply

%d bloggers like this: