নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটিতে ৩ বন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপহরণ !

রাঙামাটিতে ৩ বন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপহরণ !

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় জোত পারমিটের অনুমতি দিতে বাগান পরিদর্শনে গিয়ে ৩ বন কর্মকর্তা ও কর্মচারি অপহৃত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃংখলাবাহিনী ও স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বনবিভাগ থেকে এখনো অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি কিংবা অপহরণের বিষয়টিও স্বীকার করা হয়নি।

সূত্র গুলো জানায়, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে জেলার লংগদু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কাট্টলীর খাড়িকাটা (হারিপাপ্প্যা) নামক এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা তিন বন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ফরিদ মিয়া, রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল হোসেন ও ফরেস্টার বিবর্তন চাকমা।

জানা যায়, সকালের দিকে ওই তিন বন কর্মকর্তা জোটের বাগানে পাস মার্র্কিংয়ের জন্য লংগদুর কাট্টলীর ওই এলাকায় যান। সেখান থেকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে তিন বন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অপহরণকারিরা ইতোমধ্যে বনবিভাগের সাথে মুক্তিপন নিয়ে দেনদরবার শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

বনবিভাগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র,অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, মূলত: ব্যবসায়ীদের সাথে বিরোধের কারণেই বনকর্মকর্তা কর্মচারীকে আটকে রেখেছে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। তারা বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। জানানোর পর বিভাগীয় বনকর্তা(উত্তর বনবিভাগ) ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপে বসেছে এবং ব্যবসায়ীরা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সময় নিয়েছে।

তবে রাঙামাটি সার্কেলের বনসংরক্ষক মোঃ আবু হানিফ পাটোয়ারি জানান, বন বিভাগের তিনজন লোক ওই এলাকাতে জোটবাগান পরিদর্শনে গেছেন ঠিক, কিন্তু তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা তা এখনো নিশ্চিত জানা যায়নি। ফোনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। অনেক সময় পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা হয়। এজন্য অনেক সময় সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটে। কাজেই সাময়িক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ কাওসার বলেন, জোটবাগান পরিদর্শনে যাওয়া ওই তিন বন কর্মকর্তার কিছুটা সমস্যা হওয়ার কথা শোনা গেলেও বিস্তারিত খবর পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি খবরটি শোনার পর বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা তাদের তিন বন কর্মকর্তা কর্মচারি সেখানে গেছে এবং তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা বলে জানালেও অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। আমাদের লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও ওই এলাকায় যাচ্ছেন,তিনি যাওয়ার পর আমরা হয়তো পরিষ্কার একটা ধারণা পাবো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিং প্রু মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা …

Leave a Reply