নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে বীর বাহাদুর

রাঙামাটিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে বীর বাহাদুর

Rangmati-pic..1পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেছেন, শিক্ষা সম্প্রীতির পথ দেখায়। শিক্ষা ভালো পথের সন্ধান দেয়। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও একটি মহল তা বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা এগিয়ে যেতে চাইলেও তারা বরাবরই পেছাতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন কাজে মহলটি বিরোধিতা করছে। পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রবর্তিত ৪র্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর বাহাদুর একথা বলেন। শনিবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে একজন মেধাবি শিক্ষার্থীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একজন শিক্ষার্থীর জন্য সরকার থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া হার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে শিক্ষক ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সকলের দায়িত্বশীলতায় শিক্ষার্থীরা সঠিক জ্ঞান লাভ করতে পারবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল ও পোশাক ব্যবস্থা করা বলে তিনি জানান।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল, জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান, শিক্ষা বিষয়ক কমিটির আহবায়ক অংসুই প্রু চৌধুরী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম রিয়াজুদ্দিন আহমদ।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, গত ৫ বছরে এ অঞ্চলে দেড় শতাধিক বিদ্যালয় পাকাকরণ, ফার্নিচার সরবরাহ, রেডিস্টার্ডের জন্য অর্থ সহায়তাসহ আরো বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। সাথে সাথে শিক্ষক সঙ্কট দূর করতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছার অভাব নেই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড উল্লেখ করে বলেন, দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়টিতেও শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। কিন্তু আমাদের কিছু বন্ধু শিক্ষার অবকাঠামো ও শিক্ষক সঙ্কটের ধোঁয়া তুলে মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করছে। তিনি এ বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য এতো সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও প্রতিবছর প্রায়১৪-১৫% শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে যাচ্ছে। ড্রপ আউট রোগ করতে মিড ডে মিল ও পোশাক বিতরণসহ আরো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি মন্ত্রী কাছে দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরিবেশ করে দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা প্রসারে পার্বত্য এলাকায় যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে তা অতিতে কোন সরকার করেনি। তিনি শিক্ষার প্রসারে সরকারের গৃহীত উদ্যেগ বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে রাঙামাটি ১০ উপজেলার ৪০১জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। রাঙামাটির ১০ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০১ জন শিক্ষার্থীকে ট্যালেন্টপুল এবং ৩০০ জনকে সাধারণ বৃত্তি ও সনদপত্র দেয়া হয়। এর মধ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার ৮৫ জন, কাউখালীর ১৬, নানিয়ারচরের ১৭, বরকলের ২০, জুরাছড়ির ১৬, লংগদুর ২৮, বাঘাইছড়ির ৬৮, কাপ্তাইয়ের ২৫, রাজস্থলীর ১৩ এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ১২জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সনদ বিতরণ করা হয়। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির অর্থের পরিমাণ ৭০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ৩০০ টাকা করে এ বছর সাত লক্ষ বিশ হাজার টাকা বৃত্তি দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম রিয়াজুদ্দিন আহমদ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply