নীড় পাতা » পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫ » রাঙামাটিতে নজিরবিহীন জালভোট

রাঙামাটিতে নজিরবিহীন জালভোট

pic-011নজিরবিহীন অনিয়ম,জাল ভোট আর বহিরাগতদের ব্যাপক ভোট দেয়ার মধ্য দিয়ে পার্বত্য রাঙামাটি পৌরসভার নির্বাচন শেষ হয়েছে। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে ভোট জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়। শহরের রিজার্ভবাজারের পাঁচটি কেন্দ্রে,কাঠালতলির ২ টি কেন্দ্রে,তবলছড়ির চারটি কেন্দ্রে ব্যাপক জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সরকার দলের সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে ভোট দিতে দেখা গেছে। দুপুরে শহরের রিজার্ভবাজারে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টোর গাড়ী ও তার নির্বাচনী কার্যালয় ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষে তার উপর দ্বিতীয়দফা হামলা করা হলে তিনি আহত হন এবং তার গাড়ী ব্যাপক ভাংচুরের শিকার হয়। তিনি বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হন।

সকাল ১১ টার দিকে শহরের আব্দুল আলী একাডেমি কেন্দ্রে বাঘাইছড়ি থেকে আসা ছাত্রলীগের চার নেতাকে জাল ভোট দেয়ার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল আলম রবির অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাদের জিজ্ঞাসাবাদেও অভিযোগের সত্যতা পায় তারা। এসময় তাদের চারজনকে আটক করা হলেও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বর আসার পর তার অনুরোধে সাংবাদিকদের সামনেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। সাথে সাথেই সাংবাদিকদের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল আলম রবি। তিনি বলেন,প্রশাসন নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব করছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর তাকে গ্রেফতারের হুমকি দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

দুপুরে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় হেলালউদ্দিন নামের এক যুবলীগ কর্মীকে আটক করে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা রহমান শম্পা।
বিকাল তিনটার দিকে রাঙামাটি পৌর কার্যালয়ের কেন্দ্রে কয়েকটি ব্যালট পেপার বই ছিনিয়ে নিয়ে যায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে তারা সিল মারা শেষে এসব ব্যালট বক্সে ফেলে। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজামউদ্দিন আহম্মেদ তাতক্ষনিক এই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেন। পরে ঠিক দশ মিনিট পরেই ‘উপরের নির্দেশে’ আবার ভোট গ্রহণ শুরু করা হয় এখানে। কতটা ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এইসব ব্যালট বাতিল করা হবে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন।pic-66

শেষ বিকালে শহরের কাঠালতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দক্ষিন বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,গোধূলী আমানতবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ওয়াবদ রেস্ট হাউজ,রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগকে ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এসব কেন্দ্রে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামীলীগ কর্মীরা জালভোট দেয়া শুরু করলে কোথাও বিএনপি,কোথাও জনসংহতি সমিতি, আবার কোথাও আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।

এসব স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ চলাকালে গুলির শব্দও শোনা যায়। এসময় একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত: দশজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কনস্টেবল মো: দিদার, কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মালেক, ও অজিত চাকমা,আব্দর রউফ,মোঃ ইলিয়াছ,বেলাল হোসেন,সালাউদ্দিন,আব্দুল মোমিন, মোঃ শাহ আলম এর নাম পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে শাহ আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ভূট্টো অভিযোগ করেছেন, যেভাবে বিভিন্ন উপজেলা থেকে বহিরাগতদের এনে জাল ভোটের উসৎব করেছে আওয়ামীলীগ,তা রাঙামাটিবাসির জন্য লজ্জার। এইভাবে বিজয়ের মধ্যে কোন অহংকার নেই। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার গাড়ী ভাংচুর এবং নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছে। বিভিন্নস্থানে তাদের কর্মীদের কেন্দ্রের কাছাকাছি ঘেঁষতে দেয়া হয়নি,পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন,ওরা যা করেছে তাকে কোনভাবে ‘ভোট’ বলেনা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন তিনি।
জনসংহতি সমিতির প্রার্থী ডা গঙ্গামানিক চাকমা অভিযোগ করেছেন, যেভাবে ভোটকেন্দ্র দখলের উৎসব করেছে ক্ষমতাসীন দল। তিনি বলেন, এইভাবে ভোটে জয়ের পর,এটাই শেষ কথা নয়। আমরা ভোটের পরেও ছাড় দিবোনা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল আলম অভিযোগ করেছেন,প্রশাসনকে যে বিতর্কিত ভূমিকায় দেখা গেছে তাতেই বোঝা যায় তারা কতটা নিরপেক্ষ ছিলেন। এমন নির্লজ্জ ভূমিকা অতীতে কোন নির্বাচনেই আমরা দেখিনি। এভাবে জাল ভোট,কারচুপি,মারধর করে যে নোংরা রাজনীতির চর্চা করেছে ক্ষমতাসীনরা, তা দুঃখজনক এবং নজিরবিহীন।

তবে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বর ও মেয়র প্রার্থী আকবর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে এবং নৌকার পক্ষে গনজোয়ার দেখেই তারা নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। কোন প্রকার কারচুপি হয়নি বরেও দাবি করেন তারা।
আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো : মুছা মাতব্বর অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরন করেছে এবং বিরোধীদের সহযোগিতা করেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

২ comments

  1. I cast my vote in kathaltali primary school at about 1-30 pm.I observed 3 hours casting vote.I didnt seen any thing wrong.
    Becouse maximum of voter I saw those who are known to me they are living in katlhali para.So if maximum of voter cast thier vote how the vote can cast false?

Leave a Reply

%d bloggers like this: