নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটিতে চলছে ‘নিয়ম মানার’ শান্তিপূর্ণ হরতাল

রাঙামাটিতে চলছে ‘নিয়ম মানার’ শান্তিপূর্ণ হরতাল

123কোথাও কোন সহিংসতা নেই,সেই ন্যুনতম উত্তেজনাও। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঠিকই নীরব দলবেঁধে বসে আড্ডায় পিকেটিংরত দলের সিনিয়র-জুনিয়র নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও এলডিপি বা জামাত-শিবির কর্মীদের দেখা মিললেও সবখানেই সরব উপস্থিতি জোটের প্রধান দল বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের। যানচলাচলহীন নীরব শহরে হঠাৎই মৌনতা ভেঙ্গে ছুটছে সামনে ‘পূজার কাজে ব্যবহৃত’ লেখা কয়েকটা মোটর সাইকেল। বিরোধী ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৮৪ ঘন্টা হরতালে পার্বত্য শহর রাঙামাটির চিত্র ঠিক এমনই। একেবারেই শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে হরতালের দ্বিতীয় দিন। পিকেটারদের মধ্যেও নেই কোন বাড়তি তাড়া বা উত্তেজনা। যেনো নিয়ম মানার হরতাল ! আর এমন হরতালেও স্বস্তি নেই স্কুল কলেজ বা অফিসগামী শহরবাসি,তাদের যে হাঁটাই একমাত্র অবলম্বন গন্তব্যে পৌঁছাতে। তবে শহরবাসীর জন্য আশার কথা হলো,শহরের হ্যাপীর মোড়ে জগদ্বাত্রী পূজা ও মেলা উপলক্ষ্যে সোমবার বিকেল থেকেই শহরে শিথিল হরতাল পালিত হবেনা। প্রকাশ্যে কোন ঘোষণা দেয়া না হলেও পূজারীদের সুবিধার্থে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিকেলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে পিকেটার তুলে নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। তারা জানিয়েছেন,যেহেতু কেন্দ্রঘোষিত হরতাল তাই স্থানীয়ভাবে হরতাল প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়,কিন্তু স্থানীয়দের আবেগ অনুভূতি বিবেচনায় বিকেলে হরতাল কিছুটা নমনীয় হবে। শহরে বিকেল থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত যান চলাচলে স্বাধীনতা থাকলেও দুরপাল্লার সকল বাস লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে এবং শহরের বাইরে যথারীতি হরতাল চলবে।  প্রসঙ্গত,সোমবার থেকে শুরু হওয়া জগদ্বাত্রী মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত।

এদিকে হরতালের সকালে শহরের তবলছড়িতে পিকেটিং শুরু করেন বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ,জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল,জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম এখানে পিকেটিং-এ নেতৃত্ব দেন।

শহরের পৌর এলাকায় হরতালের পিকেটিং করেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম। সাথে ছিলেন জয়নাল আবেদিন,যুগ্ম সম্পাদক আলী বাবর,আব্দুল কুদ্দুছ,সাব্বির আহম্মেদ মহিলা দলের মিনারা আরশাদ,শাহেদা আলম, মনোয়ারা বেগমসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বনরূপা এলাকায় পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শফিউল আজম,সারোয়ার আলম,জাসাসের নাসির খান,যুবদলের কেন্দ্রীয় সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নেতা জীবক চাকমা,,জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজিমউদ্দিন,সাইফুল ইসলাম,যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন,কলেজ ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক অলি আহাদ,সদর থানা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম রাজু,জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন সহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রিজার্ভবাজারে বিএনপির আব্দুল মান্নান,যুবদলের সিরাজুল মোস্তফা,ছাত্রদলের জসীমউদ্দীনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করেন। এছাড়া শহরের প্রবেশপথ মানিকছড়িতে পিকেটিং করেন জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারের ছাত্রদল,যুবদলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা।

বিরোধীজোটের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করায় স্বস্তিতে দেখা গেছে পুলিশকেও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,ওরা ওদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে,করুক। কিন্তু কোন জুটঝামেলা না করে এইভাবে শান্তিপূর্ণভাবেই পালন করলে উভয়েরই লাভ। শুধু শুধু সংঘাতে যাওয়ার দরকার কি। শান্তিপূর্ণ শহর হিসেবে রাঙামাটির ভাবমূর্তি বহাল থাকলেই ভালো।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন,আমরাও ভীষণ ক্লান্ত ভাই। টানা হরতাল আর রাজনৈতিক কর্মসূচী,পুলিশী মামলা,হয়রানি আর কত সহ্য করা যায়। তবুও আমরা বেগম জিয়ার ডাকে মাঠেই আছি,দাবি না হওয়া পর্যন্ত মাঠেই থাকবো। কিন্তু এইভাবে আর কতদিন থাকতে হবে সেটাই বুঝতে পারছিনা। দেশের অন্য অসংখ্য জেলা শহরের চেয়েও রাঙামাটিতে সবচে শান্তিপূর্ণ কিন্তু সর্বোচ্চ সফলতার সাথেই দলীয় সকল কর্মসূচী পালন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ের তিন দোকানকে ৪০০০ টাকা অর্থদণ্ড

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বড়ইছড়ি বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের …

Leave a Reply