নীড় পাতা » পার্বত্য উন্নয়ন » রাঙামাটিতে অধিকারের আলোচনা সভা

রাঙামাটিতে অধিকারের আলোচনা সভা

DSC08381‘বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ধারন ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। কারাগারগুলোতে বিরাজ করছে দুরাবস্থা,১৩ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশে মোট কারাগার রয়েছে ৬৮টি। এসব কারাগারে সরকারি হিসাব মতে, ধারণক্ষমতা ৩৩ হাজার ৮২৪। কিন্তু ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা ছিল ৬৬ হাজার ৪৪৪। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় শনিবার রাঙামাটিতে অধিকারের ‘নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের অপসনাল প্রটোকল অনুমোদন এবং নির্যাতন প্রতিরোধে গণসচেতনতামুলক কর্মসূচির’ আওতায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ এলায়েন্স এগেইনস্ট টর্চার এর আহবায়ক গৌতম দাশ।
সভায় দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ নির্যাতন-নিপীড়ন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে কনভেনশনের অপশনাল প্রটোকল দ্রুত অনুস্বাক্ষর করে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়।
সভায় জানানো হয় মানবাধিকার রক্ষার্থে বাংলাদেশ বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সনদে অনুসমর্থনকারী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও নির্যাতন-নিপীড়ন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার উপর জোড় দেয়া হয়।
সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্যানেল বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সুনীল কান্তি দে, রাঙামাটি বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট পরিতোষ কুমার দত্ত, দৈনিক গিরিদর্পন পত্রিকার সম্পাদক একেএম মকছুদ আহমেদ, দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার সম্পাদক আনোয়ার আল হক, জেলা যুব ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক বখতেয়ার উদ্দিন ও উদীচি শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার।
অধিকারের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাজ্জাদ হোসেন তার প্রতিবেদনে জানান, কারাগারে বর্তমানে বন্দিদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ২০ হাজার ৭৪ এবং বিচারাধীন ৪৬ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়াও রয়েছেন ৮৪ বিদেশী বন্দি। ২০১৩ সালে মোট ৫৯ জনের কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে অসুস্থতার কারণেই বেশির ভাগ বন্দির মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করে বলা হয়, ২০১৩ সালে সারাদেশে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের হাতে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের ফলে ২০১৩ সালে মারা গেছেন ১১ জন। এদের মধ্যে পুলিশের হাতে ১০ এবং র‌্যাবের হাতে ১ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি ঠাসা কারাগারগুলো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যাগুলো কেবল বন্দি-হাজতিদের বেলায় নয়, সংশ্লিষ্ট কারাগারগুলোর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কারারক্ষীরাও সেসব সমস্যায় ঘুরপাক খাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানা হাজত, কারাগারসহ অন্য ডিটেনশনের স্থানগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। আটক ব্যক্তিদের রিমান্ডে নিয়ে থানা হাজতে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের নামে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোও পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
অধিকারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি। সেই কারণে মানবাধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাষ্ট্র নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। ফলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল তা অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বদলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিটি সরকারের আমলেই নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক আচরণ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুমসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ আইনপ্রয়োহকারী সংস্থার সদস্যদের হাতে নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্র বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এসব কাজে ব্যবহার করছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply