নীড় পাতা » ব্রেকিং » রাঙামাটিকে অনেক বেশি মিস করবো আমি

রাঙামাটিকে অনেক বেশি মিস করবো আমি

dc২৪-১২-১৪ ইং তারিখে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্নিগর্ভ একটি অবস্থা থেকে নেতৃত্বের গুণে শান্তির জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি রাঙামাটির জেলা প্রশাসক হিসেবে শেষ কার্যদিবস পালন করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করবেন। বিদায় বেলায় দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামপাহাড়টোয়েন্টিফোর মুখোমুখি হয় জেলা প্রশাসকের সাথে। মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে তাঁর দায়িত্বকালে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন পাহাড়টীমের হেফাজত সবুজশংকর হোড়

রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য অনেক বেশি মিস করবেন বলে জানিয়ে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেছেন, রাঙামাটি আমার নিজের বাড়ির মতোই। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করতো, আপনার বাড়ি কোথায়? আমি উত্তরে বলতাম রাঙামাটি। রাঙামাটির মায়া আমি ছাড়তে পারবো না। যখনই সুযোগ হবে আমি এই মাটিতে বারবার ফিরে আসবো। রাঙামাটি ছেড়ে যেতে হচ্ছে সত্যিই তা আমার জন্য খুবই বেদনার, দুঃখের, কষ্টের। যদি খারাপই না লাগতো তবে বুঝতে পারতাম এখানকার মানুষের জন্য কোনও কাজ করিনি। এখানকার মানুষও আমাকে ভালোবাসিনি। এখানকার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছি বিধায় রাঙামাটি ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাঙামাটির প্রত্যেক মানুষ শান্তিপ্রিয়। সাধারণ জনগণ চায় শান্তি। সেটা পাহাড়ি হোক কিংবা বাঙালি। তারা কেউ অশান্তি চায় না। সকলের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলে অবশ্যই রাঙামাটি আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আমি যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করি তখন রাঙামাটির অবস্থা ছিলো উত্তপ্ত। মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন নিয়ে রাঙামাটিতে অগ্নিগর্ভ অবস্থা বিরাজ করেছে। কিন্তু সকলকে নিয়ে এক সাথে কাজ করার ফলে আমরা সে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হতে পেরেছি। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সকলেরই অবদান রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা সকলের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পেরেছিলাম, তাই আর তেমন কোনো বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে আর তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এক বছর নয় মাস দায়িত্ব পালনকালে তেমন কোনো বড় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়নি বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সকলের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন এবং সমন্বয় স্থাপন করতে পারায় কাজে তেমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি। তবে এখানকার কিছু আইনকানুন আছে, যা সমতলের চাইতেও একটু ব্যতিক্রম। এগুলো কাটিয়ে উঠা একটু সমস্যা হয়ে যায়।dc2

পর্যটন শিল্প এই এলাকার আর্থ-সামাজিক ব্যাপক পরিবর্তনে সক্ষম হবে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা পর্যটনের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু এখানকার কমিউনিটি যদি তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ না করে তবে এই শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। এখানকার কমিউনিটিদের এই শিল্পে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কারো নজর কাটবে। আমরা যদি দেশের ১৬ কোটি মানুষের এক ভাগ মানুষকে পর্যটনমুখী করাতে পারি, আর তার মধ্যে যদি ১০ ভাগ মানুষ রাঙামাটিতে ভ্রমণ করে, তবে প্রতিবছর ১ লাখ ৬০ হাজার পর্যটক রাঙামাটি ভ্রমণ করতে পারবে। আর প্রতি পর্যটক গড়ে ১০ টাকা করেও খরচ করলে তবে কয়েক কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে। যা এই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে।

কালই(বৃহস্পতিবার) রাঙামাটি ছেড়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া বিদায়ী এই জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙামাটিকে এখন যে অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। আমার আশা থাকবে, ভবিষ্যতে সব দিক দিয়ে এর চাইতে আরো অনেক দূরে যাবে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের আয়তনের চেয়ে বড় আমাদের কাপ্তাই হ্রদ। এই জেলার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।

রাঙামাটি নামের দিক দিয়েও স্বার্থকতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানকার মাটিও উর্বর। এখানে সব কিছু ফলানো সম্ভব। এই মাটিতে দেশের প্রধান চারটি ধর্মের লোক বাস করে। তাদের মধ্যে আবার বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীগুলোও এখানে বসবাস করে। তারা সকলেই একে অন্যের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে। তাদের সকলের মনও রঙিন। তাই রাঙামাটি শুধু একটি শব্দ নয়। নামের দিক দিয়েও এর স্বার্থকতা রয়েছে।

তবে সমতলের চাইতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে রাঙামাটি অনেক পিছিয়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য জেলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও এগিয়ে গেলে আমরা সেভাবে এগিয়ে যেতে পারছি না। এক্ষেত্রে এখানকার ভৌগলিক অবস্থাসহ নানান জটিলতা রয়েছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আরো নানা ক্ষেত্রে সুবিধা পেলে এই জেলার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জেলা হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।dc3

রাঙামাটিবাসীর বিষয়ে বলেন, আমার দৃষ্টিতে রাঙামাটির প্রত্যেকটা মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। তারা অশান্তি চায় না। তারা সকল কাজেই সহযোগিতা করে। রাঙামাটিবাসী আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সহযোগিতা করেছে। তাদের সহযোগিতার কারণে রাঙামাটিতে শান্তি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply