নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট : প্রকৃতির নির্মলতায় প্রাণের শুদ্ধতা

রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট : প্রকৃতির নির্মলতায় প্রাণের শুদ্ধতা

rainna-tugun-cover-01রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট একটি বেসরকারী উদ্যোগে স্থাপিত প্রথম রিসোর্ট যা সামাজিক ব্যবসায় ধারনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। এই রিসোর্ট থেকে প্রাপ্ত আয় এর একটি নিদিষ্ট অংশ উন্নয়ন সংস্থা সাস’র তহবিলে যুক্ত হবে এবং তা সমাজ উন্নয়নে ব্যয় হবে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ এলাকায় গড়ে উঠা এ রিসোর্টটি গড়ে তোলার পিছনে অন্য যে ধারণা/বিশ্বাস গতিদায়কের ভূমিকা পালন করেছে সেটি হল পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ। প্রতিটি নির্মাণ কাজের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়টি ছিল কিভাবে পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা যায়। পরিবেশের উপাদান যেমন মাটি, পানি, বায়ু, গাছপালা এবং জীবজন্তুর অবাধ বিচরণ ও অভয়ারণ্য কিভাবে তৈরী করা যায় সেদিকে রাখা হয়েছে সতর্ক খেয়াল। ভবিষ্যতে আগত অতিথি ও দর্শণার্থীরা যাতে এর নির্মাণশৈলী, উপকরণ, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, স্থানীয় জনসাধাণের অবদান এবং নানা প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও হস্তশিল্প’র ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের প্রত্রিয়া ও কৌশল থেকে দেখে ও শুনে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে তার জন্য রয়েছে তার জন্য এক অদ্বিতীয় উদ্যোগ।DSC07366

হ্রদ, পাহাড় এবং স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী অধ্যূষিত গ্রামের সান্যিধ্যসহ অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠা এক আবাস হল রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট। এটি শুধু শুধুই রিসোর্টই নয়। এখানে সম্মিলন ঘঠেছে সামাজিক ব্যবসার ধারণা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্যের সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতির আবহ ও লোকজ জ্ঞান এবং শিল্পবোধযুক্ত আধুনিক সুবিধাসহ পরিপূর্ণ রিসোর্ট। থাকা, খাওয়া, বিনোদন/অবকাশ যাপন প্রশিক্ষণ ও মানব সম্পদেও উন্নয়ন, ধ্যান এবং প্রকুতির সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার একটি আদর্শস্থান এটি। একবার ঘুরে না আসলে মনে হবে যেন জীবনে অনেক কিছুই বাকী পড়ে আছে। rainna-02

যেভাবে শুরু :
বেশীদিন হয়নি। ২০০৭ সালে উন্নয়ন সংগঠন সাস ইচ্ছা করেছিল মানিকগঞ্জ জেলায় অবস্থিত প্রশিকা মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের আদলে একটি মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার। এ লক্ষ্যে ২০০৯ সালে কামিলাছড়ি মৌজা হেডম্যানের কাছ থেকে ৫ একর জায়গা ক্রয় করে। মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের পাশাপাশি গোটা কামিলাছড়ি এলাকাকে একটি আদর্শ পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ এলাকায় রুপান্তরিত করতে এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে রাইন্যা ঠুগুন ইকো ভ্যালি নাম করণ করে একটি বেসরকারী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয় যার মধ্যে থাকবে সাস-মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রও। সে সময়ে এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত একটি জায়গা। অপ্রয়োজনীয় ঝোপ-ঝাড়, ফুল ফুটে মরে যাওয়া বাশেঁর গোড়া আর নলখাগড়া ভরপুর ছিল এই জায়গাটি। ২৬ শে আগষ্ট ২০১০ সালে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় উক্ত সাস-মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র তথা রাইন্যা টুগুন ইকো ভ্যালির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে জায়গার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি আরও যুগসই চিন্তা, স্থানীয় চাহিদা, পর্যটন সম্ভাবনা এবং পর্যটকদের আবাসন সমস্যা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে রাইন্যা টুগুন ইকো ভ্যালীর নাম অংশিক পরিবর্তন করে এটিকে একটি পূর্নাঙ্গ রিসোর্ট হিসেবে গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করে সাস কর্তৃপক্ষ। ধারাবাহিক নিবিড় পরিচর্যায় রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট আজ মনোরম একটি স্থানে পরিণত হয়েছে।Rainna-03
কোথায় কী আছে, কী থাকছে এখানেঃ সবমিলিয়ে প্রায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে এখানে রয়েছে দেশী বিদেশী অনেক ফুল, ফল এবং ঔষধী গাছের বিশাল সমারোহ। ভ্রমন পিপাসুদের থাকার সুব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে পাহাড়িদের নির্মাণশৈলী অনুকরনে ভিলা/কটেজ। মানব সম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখতে নির্মিত হতে যাচ্ছে সাস-হিউম্যান রির্সোস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। প্রক্রিয়াধীন আছে-স্থানীয়/আদিবাসী নারীদের তৈরীকৃত পণ্যর প্রমোশনাল সেন্টার, লেকলিংক এবং ঝুলন্ত সেতু, সুইমিং পুল ইত্যাদি। অর্গানিক ফার্মিং সেন্টার, সাস এনিমেল হাসবেন্ড্রি এর কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। rainna-04
ভোরের আদ্রতায় ভেজা ঘাসের বনে যখন চলে ফড়িংসহ নানা কীট পতঙ্গের মিলনমেলা তখন নিশ্চয় মনে পড়বে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত কারিগরী জ্ঞান কত সুক্ষèভাবে প্রয়োগ ঘটিয়েছে উদ্যোক্তারা। পক্ষান্তরে, গোধুলী সন্ধ্যায় রাঙা রবির রক্তিম আভা চিকচিক করে যখন নীল পাহাড় ভেদ করে আধারের সাথে আলিঙ্গনে নেমে পড়ে তখন নাম না জানা হাজারো বুনো পাখির নীড়ে ফেরার আয়োজন সত্যিই রোমাঞ্চকর। আর আপনি যদি নিরালায় বসে একামনে একটু ধ্যান করতে চান তবে এই রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট আপনাকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
এই রাইন্যা টুগুন ইকো-ভ্যালি যেন এক টুকরো পার্বত্য চট্টগ্রাম। রাইন্যা টুগুনের মাঝে যে ছোট ছোট টিলা আছে সেগুলির নামের মধ্যে আছে বেশ বৈচিত্র্য- ফুরোমোন, ফালিটাঙ্যা চুগ, কেওক্রাডং, আলুটিলা, সাইচলমোন যেগুলি দেখার জন্য ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসে বারংবার রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি। ফালিটাঙ্যাচুগ এর খোলা মাঠে আপনি বন্ধুদের সাথে মেতে উঠতে পারেন প্রাণের আড্ডায়। ‘ওপেন ইয়ার্ড’ অণুষ্ঠান করার জন্যে এই ফালিটাঙ্যাচুগ প্রস্তুত করা হয়েছে। অপর দিকে চিম্বুক চুড়ার সন্নিকটে তিনদিক থেকে জল পরিবেষ্টিত ‘নৌগাঙ’ রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীদের নৌযান ভিড়ানোর নির্ধারিত জায়গা। Rainna-05
এছাড়া কাপ্তাইবাধের ফলে বাস্তচ্যুত কামিলাছড়ি পাহাড়ি গ্রাম, এ গ্রামবাসীর সান্নিধ্যে তাদের জীবন প্রণালী আপনাকে ভাবনার এবং দেখার খোরাক জোগাবে। রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্টের চারপাশে কাপ্তাই হ্রদের সবুজ জলরাশিতে গোসল বা সাতাঁর কাটার (লাইফ জ্যাকেট দিয়ে) জন্য অপূর্ব সুযোগ আছে এখানে।
এগুলোতেই শেষ নয়। প্রকৃতির সানিধ্যে থেকে সবুজের সাথে মানুষের মিতালী তৈরী করার জন্যে ভিলা/কটেজ কটেজ নির্মাণের উদ্যোগ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আর যারা নানা অনুষ্ঠান, মিটিং বা সভা করতে চান তাদের জন্য নিমীর্ত হয়েছে কনভেনশন হল। কাম ‘বাওচখানা’ রেস্টুরেন্ট, ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে স্থানীয় খাবারের পাশাপাশি দেশী এবং বিদেশী খাবারের সুব্যবস্থা। DSC01361

 সেবাসমূহঃ

 

 

  •  আবাসন
  • রেষ্টুর‌্যান্ট
  • সভা ও ইভেন্ট
  • স্থানীয় হস্তশিল্প প্রসার
  • মানব উন্নয়ন

 কার্যাবলী

  • সাতার ও নৌকা চড়া
  • ট্রেকিং ও সাইট দেখা
  • ধ্যান
  • স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা
  • কৃষির উৎকর্ষ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ।

যেভাবে যাবেনঃ এখানে যেতে হলে দুই পথে যাওয়া যায়; ১। কাপ্তাই থেকে কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি সড়কে মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। ২ রাঙ্গামাটি থেকে রাঙ্গামাটি- কাপ্তাই সড়কে গাড়িতে এবং নদী পথে দেশীয় বোটে করে। রাঙ্গামাটি শহরের যে কোন স্থান থেকে, তবলছড়ি এবং আসামবস্তী থেকে সিএনজি, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার এবং মোটর সাইকেলে করে খুব সহজে যাওয়া যায়। আর বোটে বা লঞ্চেও যাওয়া যায় রাইন্যা টুগুনে খুব সহজে। রাইন্যা টুগুন যাওয়ার জন্য লোকাল বা লাইন বোটের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ভাড়া করা বোট বা লঞ্চ এর সুবিধা নিতে পারেন। আর এ বোট বা লঞ্চ সহজে পাওয়া যাবে রির্জাভ বাজার এবং তবলছড়ি বোট ঘাট থেকে। বোটে যাওয়ার মধ্যে আলাদা প্রাপ্তি হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের সাথে বন্ধুত্ব এবং তার চারপাশে বির্স্তীণ বিশাল জলরাশির শীতল স্পর্শে স্বর্গ সুখের হাতছানি। সড়ক পথে গেলেও আপনার প্রাপ্তি কম নয় । সাপের মতো আকাঁবাকাঁ পথ আর রোডের এক পাশে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি অন্যপাশে উচু-নিচু আর ছোট বড় সবুজ পাহাড় আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে আপনার গšতব্যে। আর কাপ্তাই থেকে যেতে চাইলেও খুব সহজে আপনারা যেতে পারেন রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট। কাপ্তাই নতুন বাজার থেকে এর দুরত্ব ৩ কিলোমিটার। মোটর সাইকেল, অটোরিক্সা বা মাইক্রো বাস দিয়ে যাওয়া যায় এই রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট এ। তাছাড়া রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট এর খুব কাছে নেভী ক্যাম্পের পর্যটন স্পটও আপনি ঘুরে আসার বাড়তি সুযোগ নিতে পারেন।

যোগাযোগ : E-mail: rainyatugun@yahoo.com, মোবাইল :  ০১৫৫১৭০৮২৪৪

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply