নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » রহস্যাবৃত গুহা-পুকুর আর ঝর্ণার টানে খাগড়াছড়িতে পর্যটকরা

রহস্যাবৃত গুহা-পুকুর আর ঝর্ণার টানে খাগড়াছড়িতে পর্যটকরা

alutila-guhaনৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলায় অনেকগুলো পর্যটন স্পট থাকলেও সবকিছুকে ছাপিয়ে পর্যটকদের অপার আকর্ষনে টানে আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ এবং কয়েকটি নান্দনিক ঝরনা। প্রাকৃতিক এসব গুহা ও ঝরনার মায়ায় প্রতি বছর ঈদে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে আসেন। এবারও ব্যাতক্রম ঘটেনি। ইতিমধ্যে জেলার পর্যটন স্পটসমূহ পর্যটকদের পদচারনায় মূখরিত।
পর্যটকরা ঈদের বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে বেড়াতে ছুটছেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। এরিই মধ্যে বহু পর্যটক খাগড়াছড়ি আসতে শুরু করেছেন। হোটেল মোটেল বুকিং শেষ। এবারও পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষন আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ এবং জেলার বেশ কয়েকটি ঝরনা।
শহরের অদুরে আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ। টিকেট কেটে হাতে মশাল নিয়ে সারি সারি সিড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামতে হয়। কয়েক‘শ সিড়ির পরই দেখা মিলে সুরঙ্গটি। হিমশীতল গা ছম ছম উঁচু-নীচু এবং আকাবাঁকা পথে পাড়ি দিতে হয়, এই সুড়ঙ্গ। কৌতুহলী শিশু কিংবা বয়স্ক তরুণরা এই সুড়ঙ্গের স্বাদ নিতে নাছোড়বান্দা। সুড়ঙ্গ’র জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। এই সুড়ঙ্গকে ঘিরে আলুটিলা পরিচিতি পেয়েছে ভিন্নরূপে।

কুমিল্লার কলেজ পড়–য়া একদল শিক্ষার্থীও এসেছেন এবার ঈদে ঘুরতে। তারা আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ দেখে সৌন্দর্যের বর্ণনা করতে ভাষা হারিয়ে ফেলেন। নাঈম হাসান বলেন, ‘আমরা এত আনন্দ আর রোমাঞ্চকর অনুভূতি কখনো পাইনি। এমন গুহা দেশে আর কোথাও আছে কিনা জানিনা।’

শুধু রহস্যময় গুহা নয়; প্রতি ঈদে দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক খাগড়াছড়িতে ছুটে আসেন বিভিন্ন এলাকার প্রাকৃতিক ঝরনা উপভোগ করতে। জেলার মাটিরাঙ্গার হৃদয়মেম্বার পাড়ার রিছাং ঝরনা, দীঘিনালার তৈদুছড়া ঝরনা, বাঘাইহাটের হাজাছড়া ঝরনার অপরুপ সুন্দর্য্যে ভরপুর। দীঘিনালার তৈদুছড়া ও তৈদুঝর্নাটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। নতুনভাবে অবিস্কৃত বাঘাইহাটের হাজাছড়া ঝরনাটিও অনেকের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট।

সমূদ্র সমতল হতে প্রায় ৭শ ফুট উচুতে রহস্যময় পুকুরটিও খাগড়াছড়িতে। রাঙ্গামাটি সড়কের নুনছড়ি হয়ে যেতে হয় সেখানে। এটি দেবতা পুকুর নামেও বেশ পরিচিত। ঈদ এলে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে যান ওই পুকুরে। আবার কেউ কেউ তো মানত নিয়েও গিয়ে থাকেন। উত উচুতে পুকুরে শুস্ক মৌসুমে পানি দেখে বহু পর্যটক অবাক হয়ে যান। এজন্য দেবতা পুকুরটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষনীয় জায়গায় পরিনত হয়েছে।debota-pukur

জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে সবচেয়ে বেশি বেড়ানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দীঘিনালা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজিব ত্রিপুরা বলেন, খাগড়াছড়ির ঝরনাগুলো খুবই সুন্দর। চমৎকার সব ঝরনাগুলো সম্পর্কে সে তুলনায় সারাদেশে প্রচার কম পেয়েছে। তবে ঝরনায় যেতে এখনো পর্যটককে বহু কষ্ট করতে হয়। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়নের প্রয়োজন। এদিকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা ঝরনা, গুহা ও আকর্ষনীয় স্পটগুলোর কাছেই হোটেল-মোটেলসহ আরো সুব্যবস্থার দাবী করেছেন।

চারিদিকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ পাহাড়, এবং আদিবাসিদের বৈচিত্র্যময় জীবন-সংস্কৃতির কারনে এমনিতেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এ জেলা। জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম বলেছেন, শান্তিচুক্তির পর হতে পাহাড়ে নিরাপত্তার কোন সমস্যাই নেই। এছাড়া পর্যটকদের যাতায়াত, আবাসনসহ সব ধরনের সুযোগ রয়েছে এখানে। জেলা প্রশাসক খাগড়াছড়িতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আমন্ত্রন জানিয়েছেন।
সুড়ঙ্গ আর ঝরনা দেখতে এসে জেলার নান্দনিক সব বৌদ্ধ বিহার আর নয়নাভিরাম পাহাড়ের সবুজ সৌন্দর্য্য দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ হবেন নিশ্চয়ই। JORNA

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply