নীড় পাতা » ব্রেকিং » যে কলেজে ২১ বছরেও হয়নি শহীদ মিনার

যে কলেজে ২১ বছরেও হয়নি শহীদ মিনার

rabeta-collegeলংগদু উপজেলার একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবেতা মডেল কলেজ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ সব সুযোগ সুবিধাই পরিপূর্র্ণ। শুধু নেই একটি শহীদ মিনার। বিজয় দিবস, শহীদ দিবস,স্বাধীনতা দিবসে নেই কোনও শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ। ফলে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ একুশ বছরেও কলেজের শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি।

কলেজটি ২০০১ সালে এমপিও ভুক্তও হয়েছে। ফলে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতাও সরকার প্রদান করে। আর কলেজের আয় রোজগারও একেবারে কম নয়। সরকারি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটকের একটি টাওয়ারের ভাড়াও কলেজের ফান্ডে জমা হয়। কলেজের শিক্ষার্থীরা মনে করে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই শহীদ মিনার না থাকার একমাত্র কারণ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাবেতা কলেজ শাখার সভাপতি নেছার উদ্দীন হৃদয় বলেন, দুর্গমাঞ্চলে এতবড় একটি কলেজ অথচ দীর্ঘ দিনেও একটি শহীদ মিনার হয়নি এটা সত্যিই দুঃখজনক এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাকর বিষয়। কতই আর খরচ হবে একটা শহীদ মিনার নির্মাণে। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে এক সপ্তাহের মধ্যেই করা সম্ভব। প্রয়োজনে আমরা সকল ছাত্র/ছাত্রী মিলে চাঁদা দেবো। তবুও যেন কলেজে শহীদ মিনার হয়।

কলেজ ক্যাম্পাসে গত বিজয় দিবসে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ একুশে ফেব্রুয়ারি বায়ান্নের ভাষা শহীদ’ র স্মরণেও গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। দু’টি অনুষ্ঠানেরই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম পত্রিকাসহ অন্য আরো কয়েকটি পত্রিকায়। অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে অনুষ্ঠানের কোনও বক্তাই কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়ে কথা বলেনি।

এমনকি লংগদু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও কখনো শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখেনি কেউ। লংগদু উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বিশ্বাস যিনি দীর্ঘদিন এ উপজেলায় কর্মরত এবং লংগদু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন বিষয়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জানালেন, আমার মনে পড়ে না রাবেতা কলেজের নামে কেউ কোনওদিন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় অত্র কলেজের অর্থনীতির সিনিয়র প্রভাষক মুসা তালুকদারের সাথে। তিনি বলেন, আমি নিজে কলেজের হয়ে কয়েকবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছি। তবে কলেজে শহীদ মিনার না থাকায় লংগদু এসে সব সময় দেয়া সম্ভব হয় না। লংগদু থেকে রাবেতা কলেজের দুরত্বও প্রায় দু’ কিলোমিটার। যেহেতু দিবসের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয় তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ কেউ আসতে পারে না।

তবে শিক্ষার্থীদের মাঝেও অনেকেই শহীদ মিনারে জীবনে কখনো ফুল দেয়নি। অথবা দেয়ার মতো সুযোগ পায়নি। রাবেতা ক্যাম্পাসের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটিতেও শহীদ মিনার নেই। ফলে এ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী কেউ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে পারে না। তবে রাবেতা ক্যাম্পাসের আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকেই লংগদু শহীদ মিনারে গিয়ে দিবসের প্রথম প্রহরেই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন এবং এখনো করেন।

কলেজের পাশে মুসলিম ব্লক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, রাবেতা কলেজটি জামাত নিয়ন্ত্রিত। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছে। তাহলে কি করে শহীদ মিনারে যাবে? তবে আমরাও চাই আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানুক। বায়ান্নের ভাষা শহীদের স্মরণে, মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদের পায়ে নতুন প্রজন্ম শ্রদ্ধা নিবেদন করুক এবং এ সুযোগ আমাদেরই করে দিতে হবে। রাবেতা কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাই অবশ্যই আমরা করবো।

১৯৯৫ থেকে ২০১৬ দীর্ঘ একুশ বছরে রাবেতা মডেল কলেজে শহীদ মিনার স্থাপিত না হওয়ার প্রশ্নে কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, কলেজটি এ এলাকার মানুষের প্রতিষ্ঠান কিন্তু কলেজের সব নিয়ম কানুন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের ইচ্ছা থাকলেও আমরা কিছু করতে পারি না। দীর্ঘদিন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন বন্ধ হয়ে আছে। ফলে শহীদ মিনারটি করা সম্ভব হয়নি। তবে কিছুদিন আগে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। এটা না হলেও আমরা এ বছরের মধ্যেই কলেজ ক্যাম্পাসে একটা দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার নির্মাণ করবো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply