নীড় পাতা » ফিচার » ক্যাম্পাস ঘুড়ি » যেমন আছেন রাঙামাটির স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তী ছাত্রনেতারা

যেমন আছেন রাঙামাটির স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তী ছাত্রনেতারা

নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে অনেকটা তারাই নিয়ন্ত্রন করেছেন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। সারাদেশের মতো স্বৈরাচারি এরশাদ শাহীর বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের জোয়ার আর তীব্র ছাত্রআন্দোলনের ঢেউ ছুঁেয় গেছে এই পাহাড়ী শহরেও। আর সেইদিন যে ছাত্র নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আন্দোলনে তাদের অনেককেই ভুলে গেছে রাঙামাটির মানুষ। তবুও ইতিহাস সচেতন মানুষ আর সেইসব আন্দোলনমুখর দিনগুলোর প্রত্যক্ষদর্শীরা আজো শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায় স্মরণ করে সেদিনের ছাত্রনেতাদের। সেই ছাত্রনেতারা কেউ এখনো রাজনীতিতে,আর কেউ জীবন আর জীবিকার প্রয়োজনে বেছে নিয়েছেন নিজস্ব জীবন। রাঙামাটিতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যেসব ছাত্রনেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুন্না,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান,ছাত্রলীগ নেতা স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা,ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,সাইফুল ইসলাম পনির,জাতীয় ছাত্রলীগ নেতা ফজলুল করিম ফজলু।

তবুও ইতিহাস সচেতন মানুষ আর সেইসব আন্দোলনমুখর দিনগুলোর প্রত্যক্ষদর্শীরা আজো শ্রদ্ধায় আর ভালোবাসায় স্মরণ করে সেদিনের ছাত্রনেতাদের। সেই ছাত্রনেতারা কেউ এখনো রাজনীতিতে,আর কেউ জীবন আর জীবিকার প্রয়োজনে বেছে নিয়েছেন নিজস্ব জীবন।

সময়ের পরিক্রমায় পেরিয়ে গেছে প্রায় দুইযুগ। তবুও সেইসব দিন আর সেইসব দিনের গল্প এখনো কতটা জীবন্ত এই ছাত্রনেতাদের কাছে তা বোঝা গেলো তাদের সাথে কথা বলেই।

জাহাঙ্গীর আলম মুন্না

মুন্না তখন বাম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সভাপতি আবার একই সাথে রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তাই তার বিশাল অবস্থান। তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকেই সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় বলেও জানালেন তিনি। সেসব দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুন্না বলেন,আশ্চর্যরকম ছিলো সেই দিনগুলো। প্রতিদিনই আমরা মিছিল,মিটিং,পথসভা করতাম। পুলিশের সাথে সংঘাত হতো প্রায়ই। বনরূপায় একটি বড় মারামারির ঘটনাও ঘটেছিলো। একবার আমি আর মাহফুজ জেলে যেতে হয়। তবুও আমাদের আন্দোলন থামেনি। আমরা সব ছাত্র সংগঠন মিলেই সেদিন যূথবদ্ধভাবে স্বৈরাচারি এরশাদ সরকারের পতক ঘটাতে এই পাহাড়ে ভূমিকা রেখেছি। সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন,মূলতঃ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই এ্ই পার্বত্য জেলায় ছাত্র রাজনীতি একটি রূপ লাভ করে। এরশাদ পতনের পর নানান রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মুন্না মধ্যপ্রাচ্যে চলে যান। সেখানে প্রায় একদশক থাকার পর দেশে ফিরে রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ। তবে গণআন্দোলনের সেইসব দিনের কথা স্মরণ করাতেই সেইদিনের সহযোদ্ধার ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না তিনি। জানালেন,ছাত্র ইউনিয়নের পরাক্রম চাকমা,শাওন ফরিদ,শোভন ধর,রিতেশ তালুকদার রানা,বশীর মৃধা,শাহনেওয়াজ চৌধুরীসহ নাম না জানা অসংখ্য নেতাকর্মীর অবদানের কথা। একই সাথে,যে এরশাদকে ক্ষমতা থেকে সড়াতে আমরা আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো ব্যয় করেছি,আজ যখন সেই বিশ্ববেহায়াকে দুইজোটের নেত্রীদের সাথে দেখি তখন খুব কষ্ট লাগে।

মাহফুজুর রহমান

আশির দশকের পুরোটা জুড়েই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিলেন ছাত্রনেতা মাহফুজুর রহমান। ১৯৮২ সাল থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক,১৯৮৬-৮৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালণ করা মাহফুজ আবার ১৯৯৮ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে পুননির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত পুরো একদশক জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনকারি এই ছাত্রনেতার জনপ্রিয়তাও ছিলো আকাশচুম্বি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের এই পুরোধা ছাত্রনেতা সেইসব দিনের গল্প বললেন প্রাণ উজাড় করেই। জানালেন,‘এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আমি অন্ততঃ বারোটি মামলার আসামী হয়েছিলাম,কিছু হলেই আমাকে এক নম্বর আসামী করে মামলা করে দেয়া হতো। সেই সময় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিলো জাতীয় পার্টি কার্যালয় ভাংচুর,পুলিশের গাড়ী ভাংচুর,কলেজগেইটে ব্যারিকেড। মাহফুজ ছাড়াও সেই সময় আন্দোলনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ছাত্রনেতা বলেন্দ্র চাকমা,জাকির হোসেন চৌধুরী,কান্তি ত্রিপুরা,মুছা মাতব্বর,প্রভাকর বড়–য়া,পলাশ কুসুম চাকমা,সন্তোষ চাকমা,রেজাউল করিম রেজা,সুরজ্ঞিত তালুকদার পাপ্পু,নীহার দেব,আরিফুর রহমান মানিক,মনিরুল ইসলাম রতন,মিন্টু মারমাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। যাদের আন্তরিকতা,শ্রম আর মেধার সংমিশ্রনে গড়ে উঠা আন্দোলনেই পতন ঘটনা সম্ভব হয়েছিলো স্বৈরাচারের।
সেদিনের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ছাত্রনেতা মাহফুজুর রহমান গত দুইদশক ধরেই রাঙামাটি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনঠাসা। মাহফুজুর ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার আগমুহুর্তে ভারত থেকে এসে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই রাঙামাটি আওয়ামী লীগের ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠা দীপংকর তালুকদারের সাথে বৈরিতার কারণে জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা এতোবছরেও জেলা আওয়ামী লীগে ঠাঁই পাননি,আর মেলেনি কোন পদও। তবুও সম্প্রতি স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতির মেরুকরণে তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ পেয়েছেন,সক্রিয় আছেন দলের রাজনীতিতেও। তিনি বলেন,একথা সত্য যে,এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতারা নিজ নিজ দলে মূল্যায়িত হননি। দলের মূল নেতাদের ব্যক্তি স্বার্থের তৈলাক্ত রাজনীতি,গৃহপালিত নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা,ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করা আর সর্বোপরি রাঙামাটি আওয়ামী লীগের দীপংকরকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করেন এই সাবেক ছাত্রনেতা।

এসএম আব্দুল কাদের

নব্বই দশকে রাঙামাটির রাজপথে জাতীয়বাদী ছাত্র আন্দোলনেক শক্তিশালি করার পেছনে যে কয়জন ছাত্রনেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাদেরই একজন তৎকালিন ছাত্রনেতা এসএম আব্দুল কাদের। আশির দশকেই যিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও পরে যুবদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজেদেরকে নব্বইয়ের সফল ছাত্রআন্দোলনের ফসল উল্লেখ করে এই সাবেক ছাত্রনেতা বলেন,সেইদিনগুলোর জন্য আমরা এখনো গর্ব করি। উত্তাল সেইসব দিনে নানান আদর্শের ছাত্রনেতারা আমরা সবাই এক হয়ে আন্দোলন-লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গেছি। বর্তমানে জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেও জেলা বিএনপির রাজনীতিতে এখন তিনি অনেকই বিবর্ণ। বর্তমানে কিডস এক্সপ্লোরার নামের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে সেখাইে বেশিরভাগ সময় কাটে তার। নিজের সেরা সময়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা আব্দুল কাদের বলেন,এটা কঠিন বাস্তবতা যে,নব্বইয়ের ছাত্রনেতারা দলে খুব একটা মূল্যায়িত হননি। এর জন্য সিনিয়র নেতাদের পরশ্রিকাতরতা,সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গী আর স্থানীয় রাজনীতির নানান মারপ্যাঁচকে দায়ি করেন তিনি।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছাড়াও ছাত্রদলের যেসব নেতাকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালণ করেছেন তারা হলেন,আব্দুস সবুর,শাহনেওয়াজ আমিন বাবু, শাহনেওয়াজ ফারুক,জয়নাল আবেদীন,তাতু মার্মা,বর্তমান পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,সাইফুল ইসলাম পনির,মামুনুর রশীদ মামুনসহ অনেক ছাত্রনেতা।

ফজলুল করিম ফজল

একসময় শহরের রিজার্ভবাজারের ছেলে ফজলুল করিম ফজলের ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা পুরো জেলায় তার স্বতন্ত্র একটি অবস্থান তৈরি করেছিলো। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ(বাকশাল) এর সহযোগি ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি হিসেবে তার ছিলো অনন্য ভূমিকা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে। মাঠে ময়দানে আন্দোলন কিংবা প্রতিরোধ সর্বত্রই অগ্রণী সৈনিক ছিলেন ফজল। রিজার্ভবাজারের অসংখ্য তরুণকে সাথে নিয়ে জাতীয় ছাত্রলীগকে এই পার্বত্য জেলায় অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেন ফজল। সেইসব দিনের স্মৃতির জাবর কেটে ফজল বলেন,এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা যে সুখী সমৃদ্ধ গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বেড়ে উঠেছি,আজ দেশের অবস্থা দেখলে কষ্ট লাগে। দলেও আমাদের মূল্যায়ন নেই। নব্বই দশকে নিজে একসময় জেলা যুবলীগের সম্পাদকের দায়িত্বর দায়িত্ব পালন করলেও এখন তিনি নেই কোথাও। দল থেকে দূরে। ঠিকাদারি ব্যবসায় সময় দেন আর রাইজিং স্টার ক্লাবে বন্ধুদের সাথেই কাটে বেশিরভাগ সময়। বললেন,আমরা যে রাজনীতি করেছি,সে রাজনীতি তো এখন আর নেই,সেই আওয়ামী লীগও নেই। দলে এখন সুবিধাভোগী,তেলবাজদের দ্বৈরাত্ব। এরা দলকে কতটা ভালোবাসে সময়েই তার প্রমাণ মিলবে। বর্তমানের ক্ষয়িঞ্চু রাজনীতিতে নিজের অনাস্থা জানিয়ে আর রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই বলেও জানালেন একসময়কার প্রবল দাপুটে ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। সেই সময় ফজলুর করিম ফজল ছাড়াও জাতীয় ছাত্রলীগের মনসুর আলী,হযরত আলী নিক্সন,মাইনুদ্দিন সেলিম,শিবু দত্তদের রয়েছে বিশাল ভূমিকা।

স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা

নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের মাঠে ময়দানে যার জোরালো কন্ঠ আর বাগ্নিতা মুগ্ধ করতো আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রদের তাদেরই একজন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা স্মৃতি বিকাশ এখনো রাজনীতিতে সমানভাবে সক্রিয়। তবে মূল দলে এখনো দায়িত্বশীল কোন পদ পাননি। ঠিকাদারি পেশার পাশাপাশি রাজনীতি আর সামাজিক কর্মকান্ডে সক্রিয় এই সাবেক ছাত্রনেতাও তার জীবনের সেরা সময় হিসেবে বিবেচনা করেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সেইসব উজ্জ্বল দিনগুলোকে। এখনো চোখ বুজে ফিরে যান সেইসব দিনে যেখানে ইচ্ছে ডানায় ভর করেই হওয়া যায় গনতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের সেই পুরনো ময়দানে। স্মৃতির ডানায় ভর করে ফিরেও গেলেন সেইসব দিনে। জানালেন,নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনই এ্ই দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে। এখন সেই গনতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব নতুন প্রজন্ম সহ সবাইকে নিতে হবে। আমার যেনো স্বৈরাচারি এরশাদশাহীর সেই দুঃশাসনের দিনগুলো ভুলে না যাই।

সাইফুল ইসলাম ভূট্টো

নব্বইয়ের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সফল বলা যায় বর্তমান রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টোকেই। নব্বইয়ের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,সেই সময় আমাদের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ছিলো,সবুর ভাই ছিলেন আহ্বায়ক। আমরা একই ব্যাচের বিরাট একটি অংশ সেদিন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখি। আমি সেই সময় অন্ততঃ ১৩/১৪ টি মামলার আসামী ছিলাম। সেইসময়কার ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আব্দুস সবুর.একএম শরীফ ডাব্লিউ,আশরাফুজ্জামান,আবুল হোসেন বালি,নুরুল আব্বাস ঝিনুক,শামীম হায়দার,নন্দন বড়–য়া,তাতু মার্মা,নাসিরউদ্দিন আলম মামুন ,মজিবুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেইসব দিনের কথা মনে করে সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন,এরশাদ বিরোধী আন্দোলন স্বাধীনতার পর সবচে তীব্র ও জোরালো ছাত্র আন্দোলন,যা পুরো দেশকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য সেই আন্দোলনের ফসল আমরা কতটা ঘড়ে তুলতে পেরেছি এনিয়ে তো নানান বিতর্ক আছেই। তবুও আমি আশাবাদী মানুষ নব্বইয়ের পর থেকেই তো এই দেশ গনতন্ত্র অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। মাত্র বাইশ বছর বয়সী এই গনতন্ত্রকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে আমাদেরকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা মানে সেইসব ছাত্রনেতারা যারা নব্বইয়ের আন্দোলনে রাজপথে লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছেন।

নব্বইয়ের বিজয়ী ছাত্রনেতারা কেউ কেউ আজ জীবনযুদ্ধে পরাজিত,কেউ নিজ দলেই অপাংক্তেয়। তবুও যে আদর্শ আর চেতনাকে ধারণ করে সেইদিন লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন সেই চেতনা আর বিশ্বাসের সঙ্গে আজো আপোষ করেননি এমন দাবি তাদের। তবে বাংলাদেশের গনতন্ত্রে উত্তরণের সেই অগ্নিমুখর দিনগুলোকেই এখনো নিজেদের জীবনের শ্রেষ্ঠতম দিন বলেও জানালেন তারা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পিসিপি’র সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা

দেশে অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকুরীতে সংরক্ষিত ৫% কোটা পুনর্বহালের দাবিতে …

Leave a Reply