নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » `যেখানেই চাঁদাবাজি,সেখানেই প্রতিরোধ’

`যেখানেই চাঁদাবাজি,সেখানেই প্রতিরোধ’

chada‘খাগড়াছড়িতে এখন থেকে ব্যবসা বাণিজ্যসহ কোন কিছুতে চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবেনা। চাঁদা দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করা যাবেনা। যেখানেই চাঁদার দাবিতে বাঁধা কিংবা হামলা হবে সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা হবে। প্রয়োজনে ‘বিশেষ প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলা হবে।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার হলরুমে জেলা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধ কমিটির আয়োজিত এক জরুরী বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা উপজেলায় প্রত্যেক বাজারে প্রতিরোধ কমিটি গঠন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার লক্ষ্যে প্রচার পত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র ও জেলা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক মোঃ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে জেলা উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে পৌর মেয়র রফিকুল আলম বলেন, ‘পাহাড়ী আঞ্চলিক দলগুলোর চাঁদাবাজীর মাত্রা সীমা অতিক্রম করেছে। আগে ছিল একটি দল আর এখন ইউপিডিএফ ও বিভক্ত জেএসএসসহ ৩টি দল হয়েছে। আর নিরবে চাঁদা দিয়ে যাওয়ার কারনে এখন পাড়ার ছেলেরাও দলবেঁধে চাঁদাবাজিতে নেমেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চাঁদাবাজি প্রশাসনের চোখের সামনেই ঘটছে। কিন্তু প্রশাসন নিরব। দেশের অন্য প্রান্তের তুলনায় এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অনেক বেশি। কিন্তু তাঁরা কোন কাজ করছেনা। উল্টো ‘বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ, চাঁদাবাজি উস্কে দিয়ে টাকা আদায় করছে। মূলত পাহাড়ী ভাতা আর তাদের প্রমোশনের জন্য এই এলাকাকে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত করছেনা।

খাগড়াছড়ি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম শফি বলেন, ‘সব চেয়ে বেশি চাঁদা দিতে হয় পরিবহন সেক্টরকে। চাঁদা পায়নি বলে অনেক গাড়ীর কাগজ তারা রেখে দিয়েছে। হরহামেশাই চাঁদার জন্য শ্রমিকদের নির্যাতন মারধর করে, গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইদানিং তাদের চাঁদার মাত্রও বেড়ে গেছে। এভাবে আর চলতে পারেনা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। টাকা না দিলে মানিকছড়িতে নিহত চিংসামং চৌধুরীর মত পরিণতি হবে বলে হুশিঁয়ারী দেয়া হয়েছে।

পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি রতœ কুসুম চাকমা বলেন, ‘চাঁদাবাজীতে বাঙ্গালীদের চেয়ে পাহাড়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। জুমের ফলন থেকে শুরু করে চাকুরিজীবিদের মাসিক বেতন থেকে পর্যন্ত আঞ্চলিক দলগুলোকে চাঁদা দিতে হয়।
মহালছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলে, প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আর কোন আস্থা নাই। এখন যা করার আমাদের করতে হবে। প্রতিরোধ প্রতিবাদ শুরু যখন হয়েছে এর শেষ নিশ্চিত করতে হবে।

রামগড় শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, চাঁদাবাজীর স্বীকার সবাই। তাই সব জাতিগোষ্টীকে একজোট করে বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষনার দাবী জানান তিনি।
শ্রমযান কল্যান সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘বছর প্রায় শেষ। এখন ডিসেম্বর মাস। ইতিমধ্যে আগামী বছর যানবাহন চলাচলের জন্য টোকেন সংগ্রহ করার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। আর যে চাঁদা দাবী করছে তা বিগত বছরের চেয়ে বেশি।’
পৌর সবজি মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, আগে তাদের গাড়ী প্রতি যে টোকেনের দাম ছিল ২ হাজার টাকা ছিল সেটি এখন বেড়ে দাড়িঁয়েছে ৫ হাজার টাকায়। আর যে টোকেন ৫ হাজার টাকা সেটি এখন ১০ হাজার টাকা হয়ে গেছে। তাঁরা জুম্ম জনগনের অধিকারের কথা বলে রাজনীতি করলেও তাতে বিশ্বাসী নয়।
গুমতি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসনে বলেন, নিরব চাঁদাবাজী চলছে। যেসব জায়গা থেকে চাঁদাবাজরা টাকা আদায় করে ঐসব জায়গায় এখন তারা আর থামানোর জন্য হাত দেখায় না। তবে কোন গাড়ী যদি ঐ সব এলাকা হা না দেখানোর পর না দাঁড়ায় তাহলে তাকে মারধর করবে কিংবা গাড়ীর কাগজ রেখে দেবে কিংবা কয়েকগুন বেশি চাঁদা চাইবে।
পরে বৈঠক থেকে চাঁদা না দেয়া, যেখানে চাঁদাবাজী সেখানে প্রতিরোধ করা, বিশেষ প্রতিরোধ বাহিনী গঠন, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে জেলা উপজেলার সব বাজারে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ কমিটি গঠন, নতুন রিজিয়ন কমান্ডার ও জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা, বৃহত্তর মানববন্দন কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উক্ত বৈঠকে মালিক শ্রমিক সমন্ময় পরিষদের সদস্য সচিব মোঃ ইউনুছ, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র শেখর দাশ, জেলা খাদ্য শষ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম বাবুল, তাইন্দং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply