নীড় পাতা » ব্রেকিং » যুবলীগ নেতা হত্যা চেষ্টা, ৩ দিনেও মামলা হয়নি!

মামলা না নেয়ার অভিযোগ পরিবারের

যুবলীগ নেতা হত্যা চেষ্টা, ৩ দিনেও মামলা হয়নি!

দলীয় কোন্দলের জের ধরে নিজ দলের কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার তিনদিন পরও এই ঘটনায় থানায় মামলা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটির কোতয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি অভিযোগকারিপক্ষের ‘সিদ্ধান্তহীনতার’ কারণেই হচ্ছে বলে জানিয়েছে।

গত সোমবার রাতে রাঙামাটি শহরের প্রত্যাশা ক্লাব এলাকায় নাসিরকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তার পায়ের রগ কেটে দেয় একদল সশস্ত্র যুবক। আহত নাসির হাসপাতাল শয্যায় হামলাকারিদের মধ্যে তিনজনকে চেনার কথা জানিয়েছেন। এরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন,জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মিজানুর রুহমান এবং ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আরিফুর রহমান। এই সময় আরো অন্তত ১০/১২ জন সশস্ত্র যুবক ঘটনাস্থলে ছিলো বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গুরুতর আহত নাসিরকে কে বা কারা রাঙামাটি সদর হাসপাতালে ফেলে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশংকাজনক বিবেচনায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন চিকিৎসকরা। সেখানে এখনো চিকিৎসাধীন আছে সে।

এই ঘটনার পর নাসিরের স্ত্রী সালেহা বেগম রাঙামাটি কোতয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে ফেরত পাঠায় বলে অভিযোগ করেছেন নাসিরের পরিবার।

নাসিরের স্ত্রী মোসাম্মদ সালেহা আক্তার অভিযোগ করেছেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় দুইদিন ধরে ঘুরাঘুরি করেও মামলা নেয়নি পুলিশ। পুলিশ বলছে উপরের নির্দেশ আছে এই বিষয়ে মামলা না নিতে এবং বিষয়টি তারা দেখছেন। ’ আমি আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

সালেহা আক্তার অভিযোগ করেছেন, আমি, আমরা শ্বাশুড়ী,নাসিরের ভাই,বোনের জামাই এবং আমাদের দুই সন্তানসহ আমি থানায় গত দুইদিন ধরে গিয়েও মামলা করতে পারলাম না। ওসি আমাদের পাত্তাই দিচ্ছেননা। পরে এসি অফিসে গিয়ে দুই ঘন্টা বসে থেকেও কারো সাক্ষাৎ পেলাম না।’

নাসিরের মা হামিদা বেগম বলেছেন, ‘আমার ছেলে সারাজীবন যে দল করলো সেই দলের লোকটাই তাকে হত্যার জন্য কোপালো। এখন আমি আইনের কাছে গিয়েও বিচার পাচ্ছিনা। আমি রাঙামাটির নেতাদের কাছে,স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি,আমার ছেলেকে হত্যাচেষ্টাকারিদের যেনো গ্রেফতার ও বিচার করা হয়। ভবিষ্যতে আর কোন মায়ের সন্তানকে যেনো এমন বর্বরভাবে কেউ হত্যার চেষ্টা না করে।’

আহত নাসির জানিয়েছেন, আমাকে হত্যাচেষ্টা করা হলো, আমি হাসপাতালে শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি। আমরা মা,স্ত্রী,ভাই ও সন্তানরা কোতয়ালি থানায় বারবার গিয়েও মামলা করতে পারছেনা,এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে। তবে কি আমি বিচার পাবনা ? দল করে কি অপরাধ করেছি ?’

তবে মামলা না নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি জানিয়েছেন, ‘তারা একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছেন,আমরা সেটা রেখেছি। যেহেতু বিষয়টি রাজনৈতিক ,তাই উর্ধতনদের পরামর্শের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিবো। মামলা নিবনা-এমনটা বলিনি,তাদের সাথে খারাপ ব্যবহারের প্রশ্নই উঠেনা।’

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানিয়েছেন, ‘আপনারাও জানেন যে মামলার ইস্যুটি রাজনৈতিক,এখানে আমরা মামলা নেয়া বা না নেয়ার কিছুই নেই। তারা একবার ২০ জন, একবার ১০ জনকে আসামী করে অভিযোগ নিয়ে এসেছে,আবার কারো কারো নাম দিয়েছে,যারা ঘটনার সময় ছিলোনা বলেই জেনেছি আমরা। তাই মূলতঃ তাদের ‘সিদ্ধান্তহীনতার’ কারণেই মামলা হয়নি। এখানে আমরা মামলা নিচ্ছিনা-এমন অভিযোগ সত্য নয়।’ তারা কোর্টে মামলা করবে বলে জানিয়েছে আমাদের।’

কোতয়ালি থানায় জমা দেয়া নাসিরের স্ত্রী মোছাম্মদ সালেহা আক্তারের লিখিত অভিযোগে এই ঘটনায় যুবলীগ,ছাত্রলীগের ৮ জন নেতার নাম উল্লেখ করেছেন। এরা হলেন মোঃ আরিফ (৩৩),আব্দুল জব্বার সুজন (৩২),মিজান (৪০), ইকবাল হোসেন (৩৮), মোঃ শাকিল (২২),আজমীর (২৫),দীপংকর (২৬),আব্দুল ওহাব খান (৪২)। লিখিত এই অভিযোগে, উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বেশি কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দলীয় বিরোধের জেরে গত ২৭ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে রাঙামাটি শহরের প্রত্যাশা ক্লাব এলাকায় ডেকে নিয়ে ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ নাসিরকে কুপিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত এবং পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ কয়েকজন যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন দাবি করেছেন ‘অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply