যাদের ত্যাগে বিদ্যুৎ , তারাই এখনো বিদ্যুৎ সেবার বাইরে

রাঙামাটির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের সময় জীবতলী ও মগবান ইউনিয়নের জনসাধারণের অনেক ত্যাগ থাকলেও অর্ধ শতাব্দীর পরও রাঙামাটি শহরের সবচে কাছের ইউনিয়ন হওয়া সত্ত্বেও এই ইউনিয়ন দুইটির জনসাধারণ বিদ্যুৎ না পাওয়া বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়। রাঙামাটি শহর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হলেও কেন্দ্রের নিকটবর্তী সদর উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মধ্যে চার ইউনিয়নবাসী আজও বিদ্যুৎবিহীন রয়ে গেছেন। এই বিষয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। তিনি দ্রুত এই এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রদীপের নিচে যেমন অন্ধকার, তেমনি যাদের ত্যাগের বিনিময়ে বিদ্যুৎ, তারা এখনো বিদ্যুৎ সেবার বাইরে। মঙ্গলবার জীবতলী ও মগবান ইউনিয়নে সোলার প্যানেল বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্যর জন্য বরাদ্দকৃত ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরের ২য় ও ৩য় পর্যায়ে টিআর, কাবিখা এবং কাবিটা প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দুর্গম এলাকাতে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী এবং মগবান ইউনিয়নে সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে।
মগবান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা ও জীবতলী ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সোলার প্যানেল বিতরণকালে সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার বর্তমান সরকারের দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সোলার প্যানেল দেয়ার প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে অন্ধকারে থাকার এলাকাগুলো আলোকিত হবে। তবে কেবল সরকারের সহযোগিতার ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির ৫০ ভাগ বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী এবং ধর্মীয়, শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বিতরণের জন্য ব্যয় করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী সোলার প্যানেল বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি অর্থবছর পার্বত্য অঞ্চলে রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমেও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে গৃহীত সরকারের উন্নয়নমূলক সব কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সঠিক বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতার আহবান জানান সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

এদিকে সোলার প্যানেল বিতরণের পূর্বে সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্মাণাধীন বনভান্তের স্মৃতি মন্দিরের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা ও সাস’র নির্বাহী পরিচালক ললিত সি চাকমা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা আশ্রয় অঙ্গন ও সাস’র ব্যবস্থাপনায় এবং সামাজিক সংগঠন একতা সংঘ ও বড়াদম উন্নয়ন সমিতির সহযোগিতায় ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply