নীড় পাতা » ব্রেকিং » ময়লা পরিষ্কার নিয়ে মুখোমুখি জেলা পরিষদ ও পৌরসভা

রাঙামাটি শহরে জেলা পরিষদের ৪০ ডাস্টবিন

ময়লা পরিষ্কার নিয়ে মুখোমুখি জেলা পরিষদ ও পৌরসভা

রাঙামাটি শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শহর জুড়ে ৪০টি ডাস্টবিন বসানো হয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে। গত মঙ্গলবার থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়। তবে ডাস্টবিন বিতরণ করলেও শহরের ময়লা পরিষ্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পৌরসভা এসব ডাস্টবিন থেকে ময়লা পরিষ্কারে আগ্রহী নয়।

পৌরসভা দাবি, শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার যেহেতু পৌরসভার, তাই ডাস্টবিন পৌরসভার মাধ্যমে বসালে তাতে কাজের সমন্বয় হত। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের ভাষ্য, শহরের সৌন্দর্য রক্ষার্থে ও পৌরসভার কাজকে সহজ করতেই জেলা পরিষদ ডাস্টবিন বিতরণ করেছে।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, আমাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে বেশ কিছু ডাস্টবিন হস্তান্তর করেছিল। সেগুলো আমরা প্রতিষ্ঠানটির সৌজন্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে বসিয়েছি এবং সেগুলো থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার করছি। রাঙামাটি জেলা পরিষদ শহরের বেশকিছু স্থানে ডাস্টবিন বসিয়েছে আমরা শুনছি আপনাদের মাধ্যমে, সে জন্য তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু কোন কোন স্থানে এইসব ডাস্টবিন বসানো হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

মেয়র বলেন, তারা যদি উন্নয়ন বোর্ডের মত আমাদের হস্তান্তর করতো তাহলে আমরা সেগুলোর দায়িত্ব নিতাম, সেখান থেকে ময়লাও পরিষ্কার করতাম। যেহেতু তারা আমাদের হস্তান্তর করেনি, সেহেতু সেসব ডাস্টবিনের ময়লা তাদেরই পরিষ্কারের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদেরই এইসব ডাস্টবিনের ময়লা ডাম্পিং স্থানে নিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে, আমরা করব না। আমাদের যে স্বাভাবিক কার্যক্রম পৌর শহর পরিষ্কার রাখার, সেটা আমরা যথানিয়মে চালিয়ে যাব। যেহেতু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের দায়িত্ব পৌরসভার সেজন্য এইসব ডাস্টবিন আনুষ্ঠানিকেভাবে পৌরসভাকে হস্তান্তর করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছি।

মেয়রের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মুছা মাতব্বরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ও শহরবাসীকে যততত্র ময়লা না ফেলে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে উৎসাহিত করতে এবং পরিচ্ছন্ন কাজে পৌরসভাকে সহায়তা করতে এই ডাস্টবিনগুলো বসিয়েছে। কিন্তু পৌরসভা এই কাজটিকে কেন স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা শুনেছি পৌরসভা নাকি জেলা পরিষদ থেকে বসানো ডাস্টবিনের ময়লা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করবে না।

জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, এই ময়লাতো জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে এনে এই ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে না। এই ময়লাতো শহরবাসীর ফেলা আবর্জনা। পৌরসভার দায়িত্বের মধ্যেই তো পড়ে শহরবাসী ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা। কিন্তু পৌরবাসীর এই ডাস্টবিনে ফেলা ময়লা তারা কেন পরিষ্কার করবে না বলছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। ময়লা পরিষ্কারের বিষয়টি যেহেতু পৌরসভার, তাই তারাই ময়লা পরিষ্কার করবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে পর্যটক বাড়লেও বুকিং কম হোটেল-মোটেলে

অন্যান্য পর্যটন মৌসুমের মতো চাপ না থাকলেও মরণঘাতী করোনার ভয়কে উপেক্ষা করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘রাজধানী’খ্যাত …

Leave a Reply