নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » ময়লা-আবর্জনায় শ্রী হারাচ্ছে পর্যটন শহর রাঙামাটি

ময়লা-আবর্জনায় শ্রী হারাচ্ছে পর্যটন শহর রাঙামাটি

dustপর্যটন শহর রাঙামাটি ক্রমেই শ্রী হারাচ্ছে ময়লা আবর্জনা ও বর্জ অব্যবস্থপনার কারণে। পুরো শহরেই যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ সুষ্ঠু পয়ঃপ্রণালী না থাকা এবং সময়মতো ডাস্টবিনগুলো পরিস্কার না করা সর্বপোরী ফুটপাতসমূহে নির্মণ সামগ্রী মওজুদ করার কারণে শহরের পরিবেশ দৃষ্টিকটু হয়ে পড়েছে। এতে যেমন পর্যটকদের কাছে শহরের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, তেমনি পথচারীরা নানা বিড়ম্বনায় পড়ছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়া ময়লা স্তুপ হয়ে থাকার কারণে দুর্গন্ধে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
শহরের পয়ঃব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যপারে জনসচেতনতা এবং পৌর কর্তপক্ষে উদসিনতাই দায়ি বলে অভিযোগ করেছেন সচেতনমহল। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যস্ততম রিজার্ভ বাজার এবং বনরূপা বাজার এলাকাতেই ময়লা- আবর্জনা স্তুপ করে রাখার প্রবণতা সবচেয়ে প্রকট। রিজার্ভ বাজারের কাঁচা বাজার এলাকায় তিনটি ডাস্টবিন রয়েছে। যার মধ্যে প্রতিদিন প্রচুর আবর্জনা জমা করা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিদিন এত পরিমাণ ময়লা- আবর্জনার স্তুপ হওয়া সত্ত্বেও সপ্তাহে একদিন পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মী ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে। মাছ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন পরিস্কার করলে এখানে তেমন দূর্গন্ধ ছড়াতো না। তিনি আরো বলেন, সকাল বেলা ব্যবসায়িক ব্যস্ততার সময় ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করার কারণে দূর্গন্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে থাকা দুস্কর হয়ে পড়ে। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, দিনের বেলায় ময়লা পরিস্কার না করে রাতের বেলায় ময়লা পরিস্কার করলে ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হতো। এছাড়া রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় লেপের দোকানের পাশে যে ডাস্টবিনটি রয়েছে তাতে ময়লার পাশাপাশি দোকানদার ও পথচারীদের অনবরত প্রস্রাবের গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে থাকে।
এদিকে রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপা বাজার এখন যেনো ময়লা- আবর্জনারও প্রাণ কেন্দ্র হয়ে পড়েছে। এখানে পৌর কর্তৃপক্ষ ময়লা-আবর্জনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নিলেও ব্যবসায়ীদের অসচেতনতার কারণে রাস্তাঘাটে সবসময় ময়লা-আবর্জনা স্তুপ হয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকারই ব্যবসায়ীরা। পৌর কর্তৃপক্ষ মাছ, মাংস ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ও পরিত্যাক্ত ময়লা ফেলার জন্য বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে ড্রামের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এতো বিশাল একটি বাজারের জন্য এ ড্রাম যেমন অপ্রতুল তেমনি সময়মতো ময়লা অপসারণ না করার কারণে এই ড্রামগুলোও আরেকটি যন্ত্রনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংশি¬ষ্ট সূত্র মতে, বাজারের ময়লা পরিস্কারের জন্য পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাতের বেলা এক সিফট এবং ভোরের সিফটে কাজ করে আরেক দল। কিন্তু এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও সবসময় রাস্তাঘাটে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণতঃ দেখা যায় ময়লা পরিস্কার করার পর ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনে পুণরায় ময়লা ফেলার কারণে সবসময়ই এলাকাটি ময়লা-আবর্র্জনায় ভরে থাকে। বনরূপার ব্যবসায়ী মোঃ আসলাম বলেন, পৌর পরিচ্ছন্নকর্মীদের অবহেলার কারণেই এলাকাটি সবসময় আবর্জনায় ভর্তি দেখা যায়। পরিচ্ছন্নকর্মীদের যে গতিতে ময়লা পরিস্কার করা দরকার, তা না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, শেভরণের সামনে যে ডাস্টবিন রয়েছে তাতে সারাক্ষণ দূর্গন্ধের কারণে পথচারীদের চলাচল করতে অসুবিধা হয় এ নিয়ে পর্যটকদেরও এই শহর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে। এই ডাস্টবিনটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ফরেষ্ট কলোনীসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
মওসুমী ব্যবসায়ী আবুল হাসেম মনু বলেন, রাঙামাটি পৌরসভা ১৯৯৮ সালে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার পর নাগরিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ড গ্রহণ করে আসছে। কিন্তু নাগরিক সুবিধার মধ্যে চেয়েও যে বিষয়টি নিয়ে রাঙামাটি পৌর কর্তৃপক্ষ সবসময় জনগণের সমালোচনার মুখে পড়ে তা হল শহরের ময়লা-আর্বজনা ও বর্জ ব্যবস্থাপনা। এ বিষয়ে বর্তমান পৌরপরিষদ আশু পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পর্যটকদের জন্য খুলছে সাজেকের দরজা

দীর্ঘ ৫ মাস পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পর আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে এ সময়ের দেশের …

Leave a Reply