নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » মৌসুমি ফল পরিবহনে অতিরিক্ত টোল আদায়ে বাগান মালিকদের ক্ষোভ

খাগড়াছড়িতে

মৌসুমি ফল পরিবহনে অতিরিক্ত টোল আদায়ে বাগান মালিকদের ক্ষোভ

পার্বত্য খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত মৌসুমি ফল আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফল পরিবহনের সময় অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ করেছেন বাগান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। একইসাথে টোল কেন্দ্রে সিন্ডিকেট-এর লোকজনের কাছে হয়রানি হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ জানান বাগান মালিকরা। খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমবায় সমিতি ও মারমা ফলদ বাগান মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য বলা হয়, ২০১১-১২ সাল থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং বাজার ফান্ডের টোলের নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তা নিরসনে ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে একাধিকবার সাক্ষাত করেও কোন ধরণের সমাধান পাওয়া যায়নি। যেখানে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১ থেকে দেড় লাখ টাকার আম বা লিচুর গাড়িতে টোল দিতে হয় ৩/৬ হাজার টাকা সেখানে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তামাক পাতার ১০ লক্ষ টাকার গাড়িতে ১ হাজার টাকা ও ৫-৭ লাখ টাকার কাঠের ট্রাকে ৮শ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। একই ভাবে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের রামগড় সোনাইপুল ও মানিকছড়িও গাড়িটানা টোল আদায় কেন্দ্রে সরকারি রেইট সিডিউল অনুসারে গাড়ি প্রতি ২শ-৫শ টাকার নেওয়ার স্থলে ভাউচার বিহীন ৩-৮ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জগৎ জীবন চাকমা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সভাপতি দিবাকর চাকমা, মারমা ফলদ বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুশ্যি চৌধুরী ও অর্থ সম্পাদক মংচিং মারমা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ফলদ বাগান মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি দিবাকর চাকমা বলেন, জেলার রামগড়ের সোনাইপুল এবং মানিকছড়ির গাড়ি টানায় টোল আদায় কেন্দ্রে সরকারি দরে গাড়ি প্রতি ২০০-৫০০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও সেকানে রশিদ ছাড়া গাড়ি প্রতি ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা আদায় করছেন। এর প্রতিবাদ করলে মালামাল এবং গাড়ি গায়েব করে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয় টোল কেন্দ্রে। এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে টোল কেন্দ্রের হুমকি মাথায় রেখে ব্যবসা করতে হচ্ছে আমাদের।

খাগড়াছড়ি মারমা ফলদ বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুশ্যি চৌধুরী বলেন, জেলার বাগান মালিকরা ফল উৎপাদনের শেষে বিক্রি করতে গেলে নানা চিন্তা মাথায় রেখে ব্যবসা করতে হয়। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারনে চট্টগ্রাম ও ফেনী থেকেসহ নিকটবর্তী স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা আম কিনতে জেলায় আসতে চায়না। তাতে আমের বাম্পার ফলন হলেও বিপাকে পড়তে হয় চাষীদের।

তিনি বলেন, এসব সমস্যার মধ্যে এবছর যোগ হয়েছে নভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯। জনসাধারণের অস্বাভাবিক জীবন যাপনের কারনে উৎপাদিত কৃষি পণ্য কোথায় বিক্রি করবো, আদৌ ন্যায্য দাম পাবো কিনা এবং উৎপাদিত ফলের খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় ঘুম নাই বাগান মালিকদের।

এসব কারণে কৃষি পেশাকে অভিশপ্ত পেশা উল্লেখ করে অবিলম্বে সরকারের কাছে দ্রুত সমাধান দাবি করেন। একই সাথে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ ও বাজার ফান্ড ও পৌরসভার অতিরিক্ত টোল আদায় ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিগত ১৫-২০ বছরে সিন্ডিকেট চক্রের দুর্নীতি তদন্তেরও দাবি জানান ফলদ বাগান সমিতির নেতৃবৃন্দ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply