নীড় পাতা » ব্রেকিং » মোবাইল জালে আটক দুর্ধর্ষ ডাকাত মামুন

মোবাইল জালে আটক দুর্ধর্ষ ডাকাত মামুন

Kaukhali-Dakat-News-05-01-2ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামী মামুন অর রশিদ (২২) কে গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। সে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের দক্ষিণ নোয়াগাঁও ফকিরখিল এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে ।
প্রায় তিন মাসের চেষ্টা শেষে মোবাইল ট্র্যাকিং করে শনিবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে বেতবুনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু জাফর তাকে গ্রেফতার করে।

রবিবার রাঙামাটি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরপরই মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে ডাকাতি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় পাহাড়াদারকে হত্যা করার বিষয়টিও।

মূলত কোরবানে ঈদে গরু বিক্রির টাকা লুটে নিতেই গত বছরের ১০ অক্টোবর রাউজান কদলপুরের চিহ্নিত দুর্ধর্ষ ডাকাত তছলিমের নেতৃত্বে আট জনের একটি সশস্ত্র দল বেতবুনিয়ার নাককাটা পাড়া এলাকায় স্থানীয় আবু তালেবের খামার বাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় ডাকাত দল খামারের পাহারাদার হাসু মিয়ার কক্ষে প্রবেশ করে সবাইকে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, মূল্যবান জিনিষপত্র ও নগদ পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতি কালে গৃহকর্তা হাসু মিয়া ডাকাতদলের একজনকে চিনে ফেলেন। প্রমান না রাখতেই তছলিম হাসু মিয়াকে গুলি করে নিরাপদে সটকে পড়ে।
মধ্যরাতে গুলির শব্দে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে হাসু মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই পরের দিন দুপুরে হাসু মিয়া মারা যান।

এ ঘটনায় খামারের মালিক আবু তালেব বাদী হয়ে কাউখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৪, তারিখ ১২/১০/২০১৪ ধারা- ৩৯৬। মৃত্যুর আগে ডাকাত দলের একজনকে সনাক্ত করতে পারা হাসু মিয়ার তথ্য ধরেই ডাকাত দলের নেতা তছলিমসহ ছয়জনকে আটক করে কাউখালী পুলিশ। আটকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় তিন মাস মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবু জাফর জানান, আট সদস্যের ডাকাত দলের মধ্যে ছয়জন রাউজান কদলপুরের বাসিন্দা। অপরজন রোহিঙ্গা নাগরিক যাকে পুলিশ এখনো আটক করতে পারেনি।

গ্রেফতার হওয়া মামুনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে ডাকাতির মূল হোতা তছলিম ও মামুন সরাসরি হত্যার ঘটনায় জড়িত। ডাকাত নেতা তছলিমের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ২০০২ সালের একটি হত্যা মামলা নং- ৪(৬)০২, ধারা- ৩০২(৩৪) দ:বি: ধারায় বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া ২০১৪ সালের একটি ডাকাতি মামলা নং- ৪(৫)১৪, ৩৯৫/৩৯৭ দ:বি: ধারায় তদন্তাধীন এবং একই বছরে একটি মারামারির মামলা নং- ১৫(৯), ১৪৩/১৪৭/৪৫৪/৩৮০/২৩২/৩০৭/৫০৬ ধারায় বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কাউখালী পুলিশ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply