মোটিভেশেনের অভাব ও প্র্যাকটিস ফায়ার না থাকায় বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এক আনসার পোস্টে আনসার সদস্যের গুলিতে নিহত হয়েছেন ওই পোস্ট কমান্ডার। ঘটনার পর থেকে অস্ত্র গুলিসহ পোস্টের পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যাওয়া ঘাতক আনসার সদস্যকে আটকে ব্যস্ত সময় কেটেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এর বছর খানেক আগে পার্শ্ববর্তি উপজেলা বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটে পুলিশ ক্যাম্পে এক সদস্যের গুলিতে নিহত হন আরেক সহকর্মী। এখন এ ঘটনার পর প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন মারমুখি কর্মকা- কেন? এমনি এক প্রশ্নের উত্তরে ঘটনার পর থেকে ঘাতক রফিককে আটক পর্যন্ত সময় দেওয়া এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘মোটিভেশনের অভাব এবং প্র্যাকটিস ফায়ার না থাকার কারণে এমনটি হতে পারে; যা সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।’

হত্যাকা-ে নিহতের লাশ উদ্ধারের পর নিহতের ঘটনার চেয়েও এখন সকলেই ব্যস্ত সময় পার করেছেন ঘাতককে আটকের বিষয়ে। কারণ, তার হাতে ছিল অস্ত্রসহ ৮০ রাউন্ড গুলি। এমনকি সে জঙ্গলে যাওয়ার পরও পোস্ট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল। একদিকে সে ঘাতক, আবার সরকারি অস্ত্র গুলি উদ্ধার। সর্বোপরি তাকে আটকের আগ পর্যন্ত আর প্রাণহানি হবে না সে বিষয়েও নিশ্চিন্ত ছিলেন না কেউ-ই।

‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কেন এমন ঘটনা’ এ নিয়ে খাগড়ছড়ির সর্বত্র এখন চলেছে আলোচনা। দীঘিনালা জোনের এক সেনা কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের সাথে এমনি আলোচনায় জানান, ‘সর্বোপরি মোটিভেশনের অভাব, যা মানসিকতার মধ্যে দুরত্ব বাড়ায়। চাকুরির জন্য চাকুরি করা; কিন্তু ক্যাম্প বা পোস্টে কর্মকর্তাদের খোঁজ না রাখা সদস্যদের মধ্যে আরো দুরত্ব বাড়ায়।’ ওই সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো বলেন, ‘এছাড়াও রয়েছে প্র্যাকটিস ফায়ার না থাকা।’ তাঁর মতে প্র্যাকটিস ফায়ার না থাকার কারণে চাকুরির শুরুতে অস্ত্র গুলি হাতে নিল কিন্তু এর ব্যবহার এবং ব্যবহারে ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব ধারণা অস্ত্রধারীর মাথায় থাকে না। ফলে অস্ত্র বহনকারী তার অস্ত্রটাকে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকটা খেলনা হিসাবেই হাতে রাখে। এর থেকেও উত্তরণের ব্যবস্থার দরকার বলে দাবি করেন ওই সেনা কর্মকর্তা।

দীঘিনালা থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, সবারই ব্যস্ত সময় কেটেছে ঘাতক আনসার সদস্য রফিকুলকে আটক এবং অস্ত্রগুলি উদ্ধারে। যতক্ষণ তা সম্ভব না হচ্ছিল ততক্ষন টেনশন শেষ হচ্ছিলনা। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

একই কথা জানিয়ে দীঘিনালা সেনাজোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন তৌহিদুল ইসলাম মান্নান জানান, ঘাতক পালিয়ে থাকাকৃত জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রগুলি পাওয়া গেলেও ঘাতককে না পেয়ে সকল সড়ক যোগাযোগের পথে সেনাতল্লাশিসহ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সর্বোপরি অস্ত্রগুলি উদ্ধারসহ ঘাতককে আটকের ব্যাপারে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply