মেয়র প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

Cover-photoooসবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। সারাদেশের মতো রাঙামাটি পৌরসভায়ও তাই কে হচ্ছেন আগামীর মেয়র এ নিয়ে আছে জোর আলোচনা। চায়ের কাপ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক আড্ডা সর্বত্রই এখনই মুখরিত,কে হচ্ছেন রাঙামাটির নগরপিতা। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে নেমে গেছেন। চলছে দৌড়ঝাঁপ। শুধু মেয়র প্রার্থীরাই নয়,কাউন্সিলর প্রার্থীরাও শুরু করেছেন জনসংযোগ ! নির্বাচনের এতো আগেই মাঠে নেমে পড়া প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদেরও তাই আগ্রহের শেষ নেই। চলছে নানা বিশ্লেষন,পর্যালোচনা।

সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধা,সবাই রাজনৈতিক ক্যালকুলেটরে হিসান নিকাশ করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নিজস্ব সমীকরন।

এখন পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে আলোচনা যারা আছেন,তাদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো,পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শফিউল আজম,জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু এবং আরেক যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশীদ,দুইবারের পৌর কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি আলোচনায় আছেন। এদের মধ্যে বর্তমান মেয়র যদি নির্বাচন করেন,তবে বাকীরা প্রার্থী হিসেবে থাকার সম্ভাবনা কম,তবে যদি তিনি নির্বাচন না করেন তবে প্রত্যেকের নিজের সামর্থ্যরে জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। কারণ,রাঙামাটি পৌর এলাকায় বিএনপির রয়েছে একটি রিজার্ভ ভোট ব্যাংক,যা দলীয় প্রার্থীদের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে ভূট্টো আবারো মেয়র প্রার্থী হোক,এটা চান অনেকেই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি নির্বাচন করতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো। তবে দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয়,সেইক্ষেত্রে তিনি কতটা প্রত্যাখ্যান করেন,সেটাই দেখার বিষয়। আবার বিরোধীদলীয় মেয়র হিসেবে কাজ করতে না পারার সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি নিজেও নির্বাচন করতে অতটা আগ্রহী নন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শফিউল আজম,রাজনীতিতে ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত,দলের বাইরে তার পরিচিতি কম থাকলেও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি আছে,ফলে সেটি কাজে লাগাতে পারলে তিনি পেতে পারেন দলীয় সমর্থন।

সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া মাহবুবুল বাসেত অপু’র মানুষকে মোটিভেটেড করার একটি বিরল গুণ আছে। সহজেই তিনি মানুষকে যেমন মুগ্ধ করতে পারেন,তেমনি বিপদ আপদে সবার পাশে দাঁড়ান দলীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে। ফলে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের সব নেতাকর্মীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় তিনি। তাকে প্রার্থী করা হলে পৌরসভাটি আবারো বিএনপির পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রার্থী হতে পারেন দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এডভোকেট মামুনুর রশীদও। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজে সম্পৃক্ততার কারণে শহরে বেশ পরিচিতও। ভদ্র ও বিনয়ী রাজনীতিক হিসেবেও আছে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। ফলে তার প্রার্থী হওয়ারও বিচিত্র কিছু নয়।

মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত যেসব প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে,তাদের মধ্যে মাঠে সবচে সক্রিয় এবং জোর প্রচারণায় আছেন পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি। বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তিনিও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। কিন্তু না পেলেও তিনি নির্বাচন করবেন,এটা অনেকটাই নিশ্চিত। ভোটারদের মাঝে তার একটা নীরব ও সক্রিয় সমর্থকগোষ্ঠীও আছে।

ক্ষমতাসীণ আওয়ামীলীগের প্রার্থী হচ্ছেন কে,এনিয়ে আছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আছেন,সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন,পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক মনসুর আলী,সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী জাকির হোসেন সেলিম,জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী। এদের মধ্যে নানা বিবেচনায় আব্দুল মতিনের সম্ভাবনাই বেশি,তবে তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি শেষাবধি কতটা পেরে উঠবেন বলা মুশকিল। কিন্তু ভদ্র ও অমায়িক নেতা হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নাতীত।
প্রতিবারই পৌরনির্বাচনে প্রার্থী হবেন সোলায়মান চৌধুরী কিংবা মনসুর আলী,এমন কথা শোনা গেলেও শেষাবধি দেখা যায়,তাদের দুজনের কেউই প্রার্থী হননা। এবারও কি একই ঘটনা ঘটবে নাকি তাদের যেকোন একজন প্রার্থী হবেন,তা এখনো বলা যাচ্ছেনা। তবে আলোচনায় আছেন তারা।

প্রার্থী হতে চান জাকির হোসেন সেলিমও। যিনি রাঙামাটি সদর উপজেলার প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন, এবং দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন বলেও জানিয়েছেন।

মেয়র প্রার্থী হতে চান যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরীও। তবে তৃণমূল থেকে উঠে আসা তরুণ এই নেতার জন্য বাধা অনেক। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে তাকে যতটা পছন্দ করেন নেতাকর্মীরা,তার চেয়ে অপছন্দকারিদের সংখ্যাই বেশি। তার উপর বড় বড় কিছু টেন্ডারপ্রক্রিয়ার সাথে তার সম্পৃক্ততা,জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে বিতর্কিত ভূমিকা এবং ‘আপোষকামি রাজনীতি’র কারণে দলের ভেতরেই তার শুভাকাংখির সংখ্যা খুবই কম। ফলে তিনি আদৌ মনোনয়ন পাবেন কিনা,এ নিয়ে সংশয় আছে যথেষ্ট। তবে নির্বাচন রাজনীতিতে বরাবরই কূশলী ও ঝানু,আকবর শেষ অবধি দলীয় মনোনয়ন পাওয়াটাও বিচিত্র কিছু নয়।

এবারই সম্ভবত প্রথমবারের মতো পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি সমর্থিত প্রার্থী থাকছে রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে। তাদের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন পৌর কাউন্সিলর ও শিল্পী কালায়ন চাকমা ও জনসংহতি সমিতির নেতা ডা: গঙ্গামানিক চাকমা। এদের দুজনের মধ্যে কালায়ন চাকমার সম্ভাবনাই বেশি। গনসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা ও ভদ্র-অমায়িক আচরণের কালায়ন মানুষের সুখে দু:খেও পাশে থাকার চেষ্টা করেন সবসময়। তবে গঙ্গামানিকও সামাজিক মানুষ হিসেবে সম্ভাবনার দৌড়ে আছেণ সমানতালে। তবে সাবেক গেরিলা সংগঠনটির নির্বাচনী কৌশল বোঝাটা এতো সহজ নয়,এই দুজনের বাইরের কেউ প্রার্থী হওয়াও তাই বিচিত্র কিছু নয়।

দলীয় প্রার্থীদের বাইরে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেণ সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান। দুইবারের বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই আওয়ামীলীগ নেতা এখণ সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও তিনি আওয়ামী পরিবারেরই অংশ। সেই হিসেবে তিনি হয়তো প্রথমে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন,কিন্তু না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সর্বশেষ ঈদে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান ও আয়োজন করে তিনিও বেশ আলোচনায় আছেন। তার একটি ব্যক্তিগত রিজার্ভভোট আছে,যা তার জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট।

আরো একজন প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি সর্বশেষ পৌর নির্বাচন পরাজিত মনিরুজ্জমানা মহসিন রানার ছোটভাই তেল ব্যবসায়ি শহীদুজ্জামান মহসিন রানা। রাঙামাটি শহরের অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনের দিকেই যাত্রা শুরু করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তিনি অটোরিক্সা চালক সমিতির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর যাত্রীদের স্বার্থ পরিপন্থী বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ,রিজার্ভবাজার-পুরানপাড়া ব্রীজ নির্মাণে তার পরিবারের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসির বৈরিতাসহ বেশ কিছু কারণে তিনি পিছিয়ে থাকবেন। তবে শেষাবধি তিনি যদি টেক্সী চালকদের দলীয় পরিচয়ের বাইরে এনে তাদের সবার ভোট নিজের আয়ত্বে রাখতে পারেন এবং রিজার্ভবাজারে আঞ্চলিকতার ধূয়া তুলতে পারেন,সেটাই হবে তার সম্ভাবনা তৈরির পথ।

প্রার্থীরা মাঠে,আর ভোটাররাও করছেন নানান জল্পনা কল্পনা। কে হবেন রাঙামাটির পরবর্তী নগরপিতা এনিয়ে সংশয় আর সম্ভাবনাময় আলোচনা সর্বত্র। কিন্তু শেষাবধি কি হবেন পৌর মেয়র সেইজন্য প্রতীক্ষা করতে হবে আরো অন্তত: ছয়টি মাস।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

৪ comments

  1. বাংগালীরা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতা করবে আর জয়ী হবে চাকমারা। হায়রে বাংগালী লিডাররা গতবারের মেয়র নির্বাচন আর ইদুঁর আর বেড়ালের গল্প থেকে শিক্ষা নেন। কখন আপনারা এই আওয়ামিলীগ, বি এন পি দলাদলি বাদ দিবেন। চাকমারা সব নিয়ে যাচ্ছে শুধু এই মেয়র পদটি নিতে পারে নি। মনে হয় এবার এটিও নিয়ে যাবে।

  2. আমার বিবেচনায় সবদিক চিন্তা করলে সাইফুল ইসলাম ভুট্টো-ই সবচেয়ে সেরা প্রার্থী।

  3. আমার বিবেচনায় সবদিক চিন্তা করলে সাইফুল ইসলাম ভুট্টো-ই সবচেয়ে সেরা প্রার্থী।

  4. আমার বিবেচনায় সবদিক চিন্তা করলে সাইফুল ইসলাম ভুট্টো-ই সবচেয়ে সেরা প্রার্থী।

Leave a Reply

%d bloggers like this: