নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » মেঘ জমলেই বিদ্যুৎহীন খাগড়াছড়ি!

মেঘ জমলেই বিদ্যুৎহীন খাগড়াছড়ি!

আকাশে ‘মেঘ জমলে বা বিজলি চমকালেই’ খাগড়াছড়িতে বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবছরের মতো এবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খাগড়াছড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এমনিতে এখানে দৈনিক গড়ে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না। তার ওপর দুই দিন ধরে থেমে থেমে সামান্য ঝড়বাদলেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছে গোটা জেলা। ফলে বিদ্যুৎনির্ভর মানুষের জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুতের এই ভোগান্তিতে হাসপাতাল, বিভিন্ন আবাসিক ভবনে পানীয় জল সরবরাহ, বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎহীনতার কারণে তাঁদের সন্তানরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। পৌর কাউন্সিলর এ টি এম রাশেদ জানান, বিদ্যুৎযন্ত্রণায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পৌরসভা পানি উঠাতে পারছে না। চলছে না মোটর, মেশিনারিজ, ক্ষুদ্র কলকারখানাও। পানির অভাবে শহরে হাহাকার। ফ্যান পর্যন্ত ঘুরছে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, এতই লোভোল্টেজ থাকে যে এক ফোঁটা পানিও ওঠে না। দুই দিন ধরে তো বিদ্যুৎই নেই। সুজন খাগড়াছড়ির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ অবিলম্বে খাগড়াছড়িতে বিদ্যুতের গ্রিড সাবস্টেশন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লিয়াতক আলী চৌধুরী অভিযোগ করেন, শুধু আকাশে বিজলি চমকালেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, খাগড়াছড়ি পিডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাটহাজারী-ফটিকছড়ি পিডিবির অবৈধ যোগসাজশে খাগড়াছড়ির জন্য বরাদ্দ হওয়া বিদ্যুৎ ওই সব এলাকার কলকারখানা ও পল্লী বিদ্যুতের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। খাগড়াছড়িতে কলকারখানা নেই। কাজেই বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাই দায়ী বলে তাঁরা দাবি করেন।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগসংশ্লিষ্টদের দাবি, আশির দশকে অনেকটা দায়সারাভাবে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে টানানো লাইন দিয়েই বিদ্যুৎ চলছে খাগড়াছড়ির আট উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলা রাঙামাটির নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায়। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম (১০০ কিলোমিটারের বেশি) বিদ্যুৎ লাইন।

সূত্র জানায়, এই জেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা ১৪-১৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ছয় থেকে আট মেগাওয়াট। ফলে একসঙ্গে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের কোথাও কোনো ত্রুটি (ফল্ট) হলে তা খুঁজে পেতে হেঁটে পুরো লাইন চেক করতে হয়। খাগড়াছড়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উগাপ্রু মগ জানান, হাটহাজারী থেকে খাগড়াছড়ি জেলাশহর পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি অনেক পুরনো। তারপর বৈরী আবহাওয়ায় কোনোভাবেই লাইনে সরবরাহ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply