নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘মুর্খদের দিয়ে কিছুই হবে না’

রাঙামাটি জেলা পরিষদের উপবৃত্তি প্রদান

‘মুর্খদের দিয়ে কিছুই হবে না’

রাঙামাটির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন, ‘আমি যেহেতু রাজনীতি করি, আমি রাজনীতির একজন ছাত্র; আমরা সবসময় চাই, সবাই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ করুক। কিন্তু এর আগের কথা, সবাইকে পড়ালেখা করতে হবে, জানতে হবে। না হলে এই মুর্খদের দিয়ে কিছুই হবে না। তাই আমি সবসময়ই বলি, আমরা যা-ই করি না কেন, আগে নিজেদের পড়াশোনা ঠিক রাখতে হবে। এবং তোমরা যে যেখানই যাও না কেন সবাইকে ভাবতে হবে, দেশটা প্রথম। সবার আগে দেশ, তাই সবার দেশের প্রতি মমত্ববোধ থাকতে হবে।’

সোমবার বিকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিষদ শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব ছাত্রছাত্রীতের পাশ করিয়ে দেয়া নয়, তাদের জ্ঞান বাড়ার পথ দেখানো। যে সব শিক্ষকের নাম শিক্ষার্থীদের কাছে আমরত্ব মনে থাকে, তারাই গুরু। আর জীবনে লক্ষ্যেই পোছার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করাই স্বপ্ন। যে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদসহ অন্যান্যরা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে জাগিয়ে তোলার জন্য। আমি মনে করি, আগামীতে এই উপবৃত্তির অংকের টাকা বাড়ানো যায় কিনা সে বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্যগণ বিবেচনা করবেন।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখন যারা বৃত্তি পাচ্ছে, তাদের দেখে আমার পিছনে যাওয়ার অবকাশ জেগেছে। আমাদের শৈশব কৈশর ছিল অনেক কষ্টের। তখন রাত হলে মনে হত, এই রাত পুরাচ্ছে না কেন। ঠিকই দিন অনেক পাল্টেছে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মো. মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, লালটিয়ান পাংখোয়া ও রবিউল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, ‘এই উপবৃত্তি ২০১৯ সালেই দেওয়ার কথা। কিন্তু জেলা পরিষদের পর্যাপ্ত কর্মকর্তার সংকট। মাত্র একজন নিবার্হী কর্মকর্তা। তাই এই উপবৃত্তি দিতে এতটা সময় লেগেছে। তবুও আমি চেয়েছিলাম আরও আগে এই কাজটি সম্পন্ন করব। আমরা সীমিত বরাদ্দ অনুপাতে সীমাবদ্ধতার মাঝেও মেধা অনুযায়ী এই তালিদা প্রস্তুত করেছি। এখানে কোনো ধরণের স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয়করণ করা হয়নি। অনেকে এই উপবৃত্তি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছেন। আমার ছেলেও এই উপবৃত্তিতে আবেদন করে বৃত্তি পায়নি। কারণ সে কম মেধাবি, তাই সে বৃত্তি পায়নি। জেলা পরিষদের চিফ এবং পিআরও নিখুতভাবে এই তালিকা করা করেছেন। আমার অফিসে কাজ করার অফিসার কম। তাই অনেকটা তাড়াহুড়ে করেই এই কাজটা করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ১৭ মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের উপবৃত্তি প্রদান করব। এখনও যারা আবেদন করেনি, তারাও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের উপবৃত্তিতে আমরা উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০জন নিয়েছি, ২০২০ সালের উপবৃত্তিতে আমরা ১০০জন নিব। আমরা আগামী উপবৃত্তিতে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে দুই হাজার টাকা করে বাড়িয়ে দিব। জেলা পরিষদে আইনে আমরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা যাতে বাদ না পড়ে সেভাবেই অতীতে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও তাই করা হবে।’

বৃষ কেতু বলেন, ‘সারাদেশের তুলনায় তিন পার্বত্য জেলায় আমরা শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যে অনেকটা পিছিয়ে আছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান ৬১ জেলার মতোই আমাদের তিন পার্বত্য জেলাকে এগিয়ে নিতে। এখানে উপজেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতেও জনবল সংকট রয়েছে। অনেক অফিসে কর্মকর্তারা এসে দুই তিনমাস থেকেই চলে যান। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক উপজেলায় একটা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারি করেছেন। উপবৃত্তির এই টাকা দিয়ে কেবল বইপত্র কেনার জন্য নয়, জেলা পরিষদ মনে করে, এই টাকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যারা শিক্ষা নিচ্ছে তাদেরকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এই বৃত্তি।’

অনুষ্ঠানে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, আমরা চাইলেই উপবৃত্তির এই ৫ হাজার টাকাকে অবিস্মরণীয় করে রাখতে পারি। আমরা একাডেমিক বইয়ের বাহিরে স্মরণীয় কিছু বই কিনে পড়তে পারি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় বইমেলা শুরু হবে। আমরা বইমেলা থেকে এসব স্মরণীয় বই চাইলেই সংগ্রহ করতে পারি। আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমিও এই ধরণের বই কিনতাম, পড়তাম, নিজেকে নতুন করে জানতাম। আমি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েছি। ম্যান্ডেলাসহ এপিজি আবুল কালামের বই কিনতে পারি উপবৃত্তির এই টাকায়। জ্ঞান অর্জন বিভিন্নভাবেই করা যায়, কেউ ট্রাভেল করে, কেউবা বই পড়ে। একটা বই-ই পারে মানুষ পরিবর্তন করতে। তাই বই বাছাইয়েও আমাদের ভাবতে হবে।’

উল্লেখ্য, বিষয় ভিত্তিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রাপ্তদের সংখ্যা হলো উচ্চ মাধ্যমিক ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ জন, ডিপ্লোমা ছাত্রছাত্রীদের ৫ হাজার টাকা করে ২৫ জন, স্নাতক শিক্ষার্থীদেরকে ৮ হাজার টাকা করে ২৫ জন, স্নাতক (সম্মান) ৮ হাজার টাকা করে ২৫ জন, মেডিকেল, প্রকৌশল ও কৃষি শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে ২৫ জন, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা করে ২৫ জন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

আলীকদমে ভুট্টার কদর বাড়ছে

চলতি মৌসুমে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সিদ্ধ ভুট্টা বিক্রি করে চলছে চাষীদের জীবন-জীবিকা। অনেকে …

Leave a Reply