নীড় পাতা » ব্রেকিং » মুজিববর্ষে মুগ্ধ আয়োজন উন্নয়ন বোর্ডের

মুজিববর্ষে মুগ্ধ আয়োজন উন্নয়ন বোর্ডের

শুরু হয়েছে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা। ১০ জানুয়ারি মুজিবর্ষের আনুষ্ঠানিক ক্ষনগননা শুরু হয়েছে। এই ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিন থেকেই বছর ব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করবে দেশবাসী। কিন্তু ক্ষনগণনার দিন অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস থেকেই মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ব্যতিক্রমী ও বর্ণাঢ্য আয়োজন শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় পাঁচদিন ব্যাপী মনোমুগ্ধকর ও বণার্ঢ্য এই আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ের পর্যটন শিল্পকেও বিশ^বাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব-২০২০ এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত কোনো অ্যাডভেঞ্চার উৎসব। এমন ব্যতিক্রমী ও মনোমুগ্ধকর আয়োজনে বেশ উৎফুল্ল অংশগ্রহণকারী ও পাহাড়বাসী। যা মুজিব বর্ষকে ঘিরেই আয়োজন করা হয়েছে।

এই উৎসবকে ঘিরে বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে রাঙামাটিস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়। ১০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষের ক্ষনগণনার উদ্বোধন করেছেন। এর একদিন প্্রইে ১১ জানুয়ারি রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত আয়োজনের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রশান্ত সাগর পাড়ি দেয়া এনি কুইন মেরি, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর প্রমুখ।

আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ১১ জানুয়ারি রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা চা বাগানে বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত টি ট্রেইল হাইকিং। ১২ জানুয়ারি কায়াকিং সকাল নটায় শুরু-পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ঘাটে অবতরণ। বিকেল তিনটায় কাপ্তাই কর্ণফুলী মাঠে রোপ কোর্স। ১৩ জানুয়ারি সকালে আসামবস্তি ব্রিজ থেকে কর্ণফুলী মাঠ পর্যন্ত হাইকিং ও ট্রেইল রান। দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে কর্ণফুলী কলেজ মাঠে টিম বিল্ডিং এবং সন্ধ্যা ছয়টায় ক্যাম্প ফায়ার। ১৪ জানুয়ারি সকাল নয়টা থেকে কর্ণফুলী নদীতে সেইলিং বোট ও নৌ বিহার। উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি একই সাথে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে অ্যাডভেঞ্চার ইভেন্ট শুরু হয়েছে। ১২ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির আলুটিলা ও হর্টিকালচার পার্কে ক্যানিওনিং ও কেভ ডিসকভারি-সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বান্দরবানের রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়ায়ও কায়াকিং ও ক্যানিওনিং। বিকেল তিনটায় জিপলাইন ও ট্রি অ্যাকটিভিটি। ১৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়িতে মাউন্টেইন বাইকিং-সাজেক থেকে আলুটিলা পর্যন্ত। দুপুর আড়াইটায় রোপ কোর্স। সন্ধ্যা ছয়টায় ক্যাম্প ফায়ার। এদিন বান্দরবানের রুমা খালে হাইকিং। দুপুরে টিম বিল্ডিং ও সন্ধ্যায় ক্যাম্প ফায়ার। ১৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ির মায়ুং কপাল(হাতিমুড়া) হাইকিং সকাল নটায়। বান্দরবানের ওয়াই জংশন, সাইরু ও নীলাচল পরিদর্শন শেষে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে গমন। ১৫ জানুয়ারি ভোর ছয়টায় ফুরমোন ট্রেকিং-এর জন্য সাপছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং সকাল আটটায় ফুরমোন ট্রেকিং শেষ করে দুপুর বারোটায় রাঙামাটি ফেরা।
বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১১-১৫ জানুয়ারী তিন পার্বত্য জেলায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার উৎসব শুরু হলো। এতে দেশি-বেদেশি অ্যাডভেঞ্চার ১০০ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। তার মধ্যে স্থানীয় ৩১জন, দেশের অন্যান্য এলাকার ৫৩জন এবং ১৬জন বেদেশি এই অ্যাডভেঞ্চারে অংশ গ্রহণ করবেন।
আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন; একইসাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা দেশ-বিদেশের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। এই উৎসবের মাধ্যমে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন, পর্যটন খাতের অগ্রগতি, অ্যাডভেঞ্চার ক্রীড়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, টেকসই পর্যটনেরর উন্নয়নে এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমিয়ে আনতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন বোর্ড চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। একইসাথে অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভলের মাধ্যমে দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা প্রসারিত ও বিকশিত হবে বলেও মনে করেন তিনি।

১৫ জানুয়ারি সমাপনী দিনেও রয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। প্রধান কার্যালয়ে বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশেসিং এমপি। এছাড়াও দেশি-বিদেশি অতিথিবৃন্দও উপস্থিত থাকবেন। এদিন এভারেষ্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদারকে বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার সম্মননা প্রদান করা হবে। এছাড়াও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী ফানুস উড়ানো ও আতশবাজি প্রদর্শনের মাধ্যমে পাঁচদিনের অনুষ্ঠানের পর্দা নামবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়েও করোনার হানা, প্রথম দিনেই শনাক্ত ২

এত দিন ‘করোনামুক্ত’ থাকা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় হানা দিলো করোনা। রোববার রাতে আসা রিপোর্টে রাঙামাটির …

Leave a Reply