নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » মামলার জটাজালে রাঙামাটি বিএনপি!

মামলার জটাজালে রাঙামাটি বিএনপি!

bnp_logoরাঙামাটিতে এখন মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে ব্যস্ত  বিএনপি ও তার অঙ্গ- সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলা শহরে অন্ততঃ দশটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করেছে বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদল এর বিভিন্ন ইউনিট। দেশের অন্যান্য জেলায় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চললেও রাঙামাটিতে শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার কারণে বর্তমানে রাঙামাটিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো সরকার বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি হরতালের পিকেটিং এর সময় করা মিছিলেও প্রধান শ্লোগান হিসেবে সামনে আসছে বিভিন্ন নেতাদের নামে শ্লোগান আর মামলা প্রত্যাহারের দাবি।

গত ২৫ অক্টোবর কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ ও ১৮দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে চারপুলিশসহ অন্ততঃ ১৫জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যালয় সহ প্রায় নয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ১১৪ জনের নামে মামলা করে। জেলা পরিষদ অজ্ঞাতসংখ্যক আসামি দিয়ে পৃথক একটি মামলা করে। মামলার পর পুলিশ এ পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে কেউই জামিন পাননি। ফলে গ্রেফতার আতংকে আছেন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। কারণ এর আগেও বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মামলা হলেও এইভাবে এত বিশাল তালিকায় নাম উল্লেখ করে মামলা দেয়ার ঘটনা ঘটেনি।

দুটি মামলাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখার লক্ষ্যে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। তবে মামলার পর দৃশ্যত তত্ত্বাবধায়কের চাইতেও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারে আন্দোলন ব্যস্ত রয়েছে বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদল। আর মামলা হওয়া নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই যুবদল ও ছাত্রদলের হওয়ায় এই সংগঠনদুটির দৌড়ঝাঁপই বেশি চোখে পড়ছে।04

একটি মামলার আসামী ও রাঙামাটি পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, তখন আন্দোলনে ভীত হয়ে পুলিশ দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করতে মামলা দিয়ে আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলন আর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জাতীয় আন্দোলন পাশাপাশি চলছে বলে জানান তিনি।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও একটি মামলা আসামী আবু সাদাত মোঃ সায়েম বলেন,বিএনপির সবচে শক্তিশালী সহযোগি সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাই এই মামলার উদ্দেশ্য। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,বিক্ষোভ হবে,এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার কোন ষড়যন্ত্র করেই আমাদেরকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরাতে পারবেনা। তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদারও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেছেন।

0607রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো জানান, নির্দলীয় সরকারের দাবি জানাতে গিয়েই দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে তাই মামলার প্রত্যাহারের আন্দোলনও নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনেরই একটি অংশ। তিনি বলেন, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে যে বিক্ষোভ এখন রাঙামাটিতে হচ্ছে, এর কারণে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে কোনো প্রভাব পড়বে না। মামলা প্রত্যাহারের আন্দোলন স্থানীয় সমস্যাভিত্তিক আন্দোলন আর তত্ত্বাবধায়কের আন্দোলনই মূল আন্দোলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।05

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,মামলাগুলো ভিত্তিহীন হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। দিনের আলোতে বিনা উস্কানিতে তারা যা করেছে,তা সবাই দেখেছে। জেলা পরিষদের অফিস ও গাড়ী ভাংচুরের সিসিটিভি ফুটেজও আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেগুলো পরীক্ষানিরীক্ষা করে প্রকৃত অপরাধীদেরই গ্রেফতার করছি। কেউ অপরাধ করে পার পাবেনা বলে সতর্ক করে দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,সেদিনের ঘটনার পর অনেক বিএনপি নেতাও আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন,সেদিন তাদের সমাবেশের ভেতর থেকেই পুলিশের উপর বিনা উস্কানিতে ঢিল ছোড়ার মধ্য দিয়ে ঘটনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন,আমরা তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করতে দিয়েছিলাম,কিন্তু তারা তাদের দেয়া কথা রাখেনি।

এদিকে মামলায় আটক হওয়া নেতাকর্মীদের জামিন না হওয়ায়  শংকা তৈরি হয়েছে অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে। আসামী হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের অনেকেই আশংকা করছেন,তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হতে পারে। এই কারণে সর্বশেষ হরতালে আসামী হওয়া নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো কম,আবার যারা ছিলেন তারা ও ছিলেন কৌশলী ভূমিকায়। পুলিশ দেখলে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছেন। আবার সিসিটিভি ফুটেজ আতংকেও ভূগছেন অনেকে। সবমিলিয়ে ২৫ অক্টোবরের সহিংসতার ঘটনার দুই মামলা নিয়ে বেশ অস্বস্তিতেই আছেন রাঙামাটির ১৮ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুই মামলার জটে পড়ে হাঁসফাঁস করছে দলটির নেতাকর্মীরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

Leave a Reply