নীড় পাতা » প্রকৃতিপুরাণ » মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে গেলো দলছুট হাতিটি

মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে গেলো দলছুট হাতিটি

Kaptai-Hati.-24.10-(1)
এইভাবেই অসুস্থ হয়ে হ্রদের জলে পড়ে ছিলো হাতিটি

কাপ্তাই লেকের পানিতে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া একটি দলছুট বন্যহাতিকে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার প্রাণপন চেষ্ঠা করছেন বনবিভাগ ও চট্টগ্রাম ভেটেনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা। বুধবার রাতের কোন এক সময়ে বন্যহাতিটি কাপ্তাই লেকের পানিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে ভাসতে ভাসতে প্রায় চার কিলোমিটার দুরে লেকের মাঝে চলে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই লেকে টহলরত একদল বনকর্মী হাতিটিকে দেখে উদ্ধার করেন। চিকিৎসক ও বনবিভাগের পরিচর্যায় হাতিটি ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে।

বনকর্মকর্তরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কর্ণফুলী রেঞ্জের গহীন অরণ্য থেকে একটি দলছুট বন্যহাতি কাপ্তাই লেকের গভীর পানিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাপ্তাই লেকে বনবিভাগের একটি দল টহল দেয়ার সময় কলমিছড়া বিটের অফিস ঘোনা এলাকা সংলগ্ন লেকের পানিতে ডুবন্ত একটি হাতীর শুড় দেখতে পেলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানান। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রায় ১৬-১৭ বছর বয়সি অসুস্থ দাঁতাল পুরুষ বন্যহাতিটিকে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। গত দু’দিনের পরিচর্যা ও চিকিৎসায় বন্যহাতিটি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তারা। বর্তমানে হাতিটিকে লেকের পানি থেকে তুলে কলমিছড়া বিটের নজরটিলা এলাকায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন থাকার কারনে হাতিটির পায়ের ফুলাসহ শরীরের তাপমাত্রা কমেছে। ফলে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছে।

বনবিভাগ সুত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বন বিভাগের কর্মীরা টহল দেয়ার সময় কলমিছড়া এলাকায় কাপ্তাই লেকের পানিতে একটি হাতির শুড় নড়তে দেখেন। কাছে গিয়ে তারা নিশ্চিত হন সেখানে পানির নিচে একটা হাতি আছে। শুড়টি পানির ওপরে তুলে হাতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। ডুবন্ত অবস্থায় হাতিটিকে দেখতে পেয়ে টহল দলটি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর এসিএফ সামশুল মুহির চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে একদল বনকর্মী হাতিটিকে শক্ত রশি দিয়ে বেঁধে অপর একটি ট্রলারে করে টেনে চার কিলোমিটার দুরে নজরটিলা এলাকার লেকের পাড়ে নিয়ে আসা হলেও লেক থেকে ডাঙ্গায় তোলা যায়নি। কাপ্তাই উপজেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাহমিনা এটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

Kaptai-Hati.-24.10-(2)
চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠা হাতিটি

বৃহস্পতিবার বিকেলে হাতিটিকে উন্নত চিকিৎসা দিতে চট্টগ্রাম ভেটেনারী এন্ড এনিমল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিবেক চন্দ্র সুত্রধর, ডা. ফরহাদ, ডা. ভোজন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আসেন বনবিভাগ। গত দুইদিন ধরে বন্যহাতিটি তাদের নিবিড় পরিচর্যা এবং পর্যবেক্ষেণে রাখায় এখন নড়াচড়া করছেন।

চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন জানান, আহত বন্যহাতিটির শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে শরীরে বেশি তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত পানি এসে গেছে। হাতিটি এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। বনকর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা ধারণা করছেন হয়তো অন্যকোন হাতির সাথে মারামারি বা হিং¯্র কোন প্রাণীর আঘাতের কারণে এভাবে আহত হয়ে জঙ্গল থেকে লেকের পানিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় হাতিটি। ফলে লেকের পানি থেকে আর উঠতে পারেনি।
চিকিৎসকরা জানান, ১৬-১৭ বছর বয়সি দাঁতাল পুরুষ বন্যহাতিটি বর্তমানে পূর্বের তুলনায় কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছে। কারণ হাতিটি মুত্র ত্যাগ এবং একটু নড়াচড়া করছে এবং পায়ের ফুলা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। তবে একে সুস্থ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও বন কর্মকর্তারা।

তাৎক্ষণিক ভাবে জরুরী চিকিৎসা সেবা পাওয়ার কারণে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হাতিটি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে দাবী করে রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও সামশুল আজম বলেন, হাতিটি কিভাবে লেকের পানিতে পড়েছে তা জানা যায়নি। সম্পুর্ন সুস্থ হওয়ার পর বন্য হাতিটিকে পুনরায় বনে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানান এই বন কর্মকর্তা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply