নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা!

মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা!

language-pic-coverপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেছেন, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর জন্য সরকার কাজ করছে। বিষয়টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কাজের মধ্যে থাকলেও কিছু বাস্তব সমস্যাও আছে। তিনি মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে অর্থবহ করতে আরো গবেষনার ওপর জোর দেন। তবে, তিনি আগামী শিক্ষাবর্ষ হতেই (২০১৫) বহুল প্রত্যাশিত মাতৃভাষার বই পাহাড়ী শিশুদের হাতে পৌঁছানোর মত আশার কথা শোনাতে পারেননি।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী সকল শিশুকে স্কুলগামী করতে এবং ঝরেপড়া রোধে স্কুল ফিডিং এবং দূর্গম গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা চালুসহ স্কুল প্রতিষ্ঠায় শর্ত শিথিল করার জন্য তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহকে নিজস্বভাবে পরিকল্পনা গ্রহন এবং বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। পার্বত্য মন্ত্রী এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আরো অর্থ বরাদ্দ দিবেন বলে ঘোষনা দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সম্মেলন কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার তথ্য-উপাত্ত ভিত্তিক ‘গ্রাসরুট ভয়েস বা তৃনমূলের কন্ঠস্বর’ নামের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। অক্সফাম এর সহায়তায় খাগড়াছড়িস্থ জাবারাং কল্যান সমিতি দীর্ঘ গবেষনার পর বইটি প্রকাশ করেছে।

এই বইয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা ও সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে করনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। ‘তৃনমূলের কন্ঠস্বর’এ মূলত: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ছাড়াও দেশের অপরাপর ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠির বহুল প্রত্যাশিত মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি, স্কুলবিহীন পাহাড়ী গ্রামের শিক্ষা চিত্র, ভৌগলিক দূর্গমতা ও দারিদ্রতার কারনে শিক্ষার প্রতি অনিহা, ঝরে পড়া, মানসম্মত শিক্ষকের অভাবে মানসম্মত শিক্ষার সংকটসহ প্রভৃতি সংকটগুলো বর্নিত হয়েছে।

মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন, জাবারাং এর নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, সেভ দ্যা চিলড্রেন এর মেহেরুন নাহার স্বপ্না, অক্সফাম এর কনর মল্লয়, ধন রঞ্জন ত্রিপুরা, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের তপন কুমার দাস, পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব সুদত্ত চাকমা, অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, শিক্ষা কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়–য়া, সাংবাদিক আবু দাউদ, দয়ানন্দ ত্রিপুরা প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে বক্তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সেই ২০১২ সাল হতে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর কথা থাকলেও আজো আলোর মুখ দেখেনি। সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা সত্বেও বিগত শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তক শিশুদের হাতে পৌছে দেয়া হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্যও মাতৃভাষার বই ছাপানো হয়েছে বলে শোনা যায়নি। ফলে নিজের ভাষার বই ২০১৫ সালের জানুয়ারীতে আদিবাসী শিশুরা হাতে পাবে কিনা সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ, আইএলও ১০৭ এবং পার্বত্যচুক্তিতে সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী পাহাড়ী কমলমতি শিশুদের প্রত্যাশা পুরন না হলে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে বক্তারা সরকারের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, পাঠ্য বইয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ে দীর্ঘদিনের বহু ভুল তথ্য সংশোধন করার কাজ শুরু হয়েছে। ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ভাষা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক একটি পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর আগে আরো বেশি গবেষনার ওপর জোর দেন। এক সঙ্গে দেশের সব কটি ক্ষুদ্র জাতির ভাষায় পাঠ্যপুস্তক করা যাবে কিনা অথবা মাত্র গুটিকয়েক ভাষায় পাঠ্যপুস্তক করা হলে অন্য ক্ষুদ্র জাতির মানুষ মন খারাপ করবে কিনা সংশয় প্রকাশ করেন। একই স্কুলে ভিন্ন ভাষাভাষির ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি হবে; তাও গবেষনা করে দেখার পরামর্শ দেন।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সম্ভব সব কিছুই করা হবে। দূর্গম এলাকার শিশুরা যেন কষ্ট ছাড়াই লেখাপড়া করতে পারে; সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রয়োজনে শর্ত শিথিল করে হলেও স্কুল হবে। স্কুলের পাশে হোস্টেলসহ স্কুলে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি এক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে উদ্যোগ গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউনিসেফ পাড়াকেন্দ্র, জাবারাং পরিচালিত স্কুলে মাতৃভাষায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চলছে। এর বাইরেও সরকার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া যাতে আরো গতিশীল হতে পারে সেজন্য সহসাই পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের পক্ষ হতে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেয়া হবে।
পার্বত্য সচিব খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউট (পিটিআই) দ্রুত চালু করার আশ্বাস দেন। তিনি স্কুল ফিডিং চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল ব্যবস্থা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নির্ভর ভিন্নতর স্কুল ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করতে পার্বত্য জেলা পরিষদকে পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply