নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » মাঠে সেলিম-অপু-অরুন,লড়ছে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জেএসএস

মাঠে সেলিম-অপু-অরুন,লড়ছে আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জেএসএস

sadar-cover-pic-0112আগামী ৩১ মার্চ সর্বশেষ চারটি উপজেলায় নির্বাচনের মাধ্যমে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় শেষ হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। এদিন রাঙামাটি সদর,লংগদু,রাজস্থলী এবং বিলাইছড়ি উপজেলার নির্বাচন হলেও সবার নজর রাঙামাটি সদর ও লংগদু’র দিকেই। নানান বিবেচনায় রাঙামাটি সদরই গুরুত্ব পাচ্ছে সবচে বেশি।
এখানে লড়াইয়ে আছেন জাতীয় রাজনীতির প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী,সাথে পাহাড়ের দাপুটে আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস)র প্রার্থীও। ফলে জাতীয় আর আঞ্চলিকের লড়াইটা এখানে বেশ তীব্র ও প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ, সেই সাথে লড়াইটা মর্যাদারও। কারণ রাঙামাটি যে পাহাড়ের ‘রাজধানী’ হিসেবেই খ্যাত।

আওয়ামী লীগের সমর্থনে সদরে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসাইন সেলিম। সদালাপি ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত সেলিম,সাধারন মানুষের কাছে জনপ্রিয়ও। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে তিনি দলের সকল শ্রেণীর নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে পারেননি,আর আওয়ামী লীগের উপদলীয় কোন্দল,নানান পছন্দ অপছন্দের কারণে প্রত্যাশামতো এগুতে পারেননি তিনি। কিন্তু মানুষকে পথে ঘাটে উপযাচক হয়ে কুশলাদি বিনিময় আর যেচে পড়ে ‘চা’ খাওয়ানের কারণে মাঠে ঘাটের শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে তার একটি বেশ ভালো গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এই গ্রহণযোগত্যা কিংবা ভালোবাসাই হয়তো তাকে গতবারের মতো আবারো নির্বাচনী বৈতরনি পাড় করে দিবে।
আর শেষ বেলায় তারপক্ষে সরাসরি মাঠে নেমেছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারও,যে কারণে নেতাকর্মীরাও উদ্দীপ্ত হয়েছেন। এই উদ্দীপনা যদি শেষাবধি থাকে,তাহলে ভোটের মাঠের ‘বিপজ্জনক প্রার্থী’ সেলিম এর বিজয়ী হওয়া ঠেকায় কে !

রাঙামাটি বিএনপিতে নানান গ্রুপিং,তীব্র বিরোধীতাপূর্ণ রাজনীতি আর একাধিক প্রার্থীর মধ্যেও একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়ে প্রথমেই নিজের দুরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন মাহবুুবুল বাসেত অপু। রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক এই সম্পাদক বর্তমানে যুবদলের জেলা সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসাধারন সম্পাদক। তিনি নিজে এতোদিন দীপেন গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও,বর্তমানে তার পক্ষে মাঠে কাজ করছে যারা তাদের বেশিরভাগই মনীষ গ্রুপের নেতাকর্মী ! এছাড়া দীপেন গ্রুপের নেতাকর্মীরা যখন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে ব্যস্ত সেই সময় মনীষ গ্রুপের কর্মীরাই অপুর জন্য সবচে বেশি আস্থাভাজন হয়ে কাজ করায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই আছেন অপু। দলের কোন্দলেও নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে ঠিকই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ব্যক্তিগত জীবনে ‘ডেম কেয়ার’ চলাফেরা করলেও অপু মানুষের ‘বিপদের বন্ধু’ হিসেবেই পরিচিত। ফলে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশেরও স্পষ্ট দুর্বলতা আছে তার প্রতি। সদর উপজেলায় বিএনপির রিজার্ভ ভোট যদি পুরোটা টানতে পারেন আর দলীয় সভাপতি দীপেন দেওয়ান ও তার ‘নব্য বিএনপি’র বন্ধুরা যদি কিছু ‘পাহাড়ী ভোট’ তার জন্য সংগ্রহ করতে পারেন,তাহলে নির্বাচনের মাঠে অপুর বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর তাতেই বদলে যাবে নির্বাচনের যাবতীয় আগাম হিসেব নিকেষ সমীকরণ,যার নেতৃত্বই দিবেন হয়তো ‘বদলে যাওয়া অপু।’

রাঙামাটি শহরের মানুষের কাছে প্রায় অচেনা হলেও মগবানের একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা শিক্ষক হিসেবেও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তার সবচে বড় সুবিধা হলো সদর উপজেলায় ভোটের হিসেবে পাহাড়ী ভোটার বেশি এবং তিনি একাই পাহাড়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী,তাও আবার পাহাড়ের সবচে প্রভাবশালী দল জনসংহতি সমিতির সমর্থনে। ইতোমধ্যেই রাঙামাটির তিনটি উপজেলায় বিজয়ী জনসংহতি রাঙামাটি সদর উপজেলায় বিজয়ী হতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে,পাশাপাশি সরাসরি জনসংহতির নেতা বা কর্মী না হওয়ায় ইউপিডিএফ এর সমর্থনও পাচ্ছেন তিনি। ফলে জনসংহতি ও ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তিনি প্রায় একচেটিয়া ভোট পাবেন এটা নিশ্চিত। ভোটের ত্রিমুখী লড়াইয়ে আপাত: এগিয়ে থাকা এই প্রার্থীর জয়পরাজয় নির্ভর করছে ‘জাতীয়তাবাদী চেতনায়’ উজ্জীবিত হয়ে পাহাড়ী ভোটাররা এককভাবে তাকে ভোট দিচ্ছে কিনা,তার উপর। যদি আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে দুটি পক্ষকেই শেষ পর্যন্ত নিজের পক্ষে রাখতে পারেন তিনি,তবে ৩১ মার্চ বিকেলে শেষ হাসিটা হাসবেন তিনিই।

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিন প্রার্থীই। অপু সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকার কথা জানিয়েছেন,সেলিমও রিটার্নিং অফিসারকে জনসংহতি নিয়ন্ত্রিত ১৯ টি ভোটকেন্দ্রের তালিকা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন,নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন অরুন।
তবে পাহাড়ের সবচে গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হবেন কে আর কে হবেন নতুন চেয়ারম্যান তা দেখার জন্য অপেক্ষা আর ভোটের সমীকরণ মেলানো ছাড়া এখন আর কিছুই করার নেই, কারণ শুরু হয়ে গেছে ক্ষণ গণনা, ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় নির্ধারিত হবে তিন প্রার্থীর তথা তিন দলের ভাগ্য নির্ধারন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply