নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » মাটিরাঙ্গায় ভোট দিলেই মিলেছে জিলাপি !

মাটিরাঙ্গায় ভোট দিলেই মিলেছে জিলাপি !

21
দুর পাহাড়ী গ্রাম থেকে পায়ে চলা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নারীরা এভাবেই এসেছেন ভোট দিতে…….
232
ভোট দিলেই মিলেছে জিলাপী……….

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। কোন কোন কেন্দ্রে দুপুর নাগাদও দেখা গেছে লাইনে হাতে গোনা কয়েকজন ভোটার। তবে ব্যতিক্রম ছিল পাহাড়ি ভোটরদের ক্ষেত্রে। ভোর হতেই দূর্গম এলাকা থেকে পায়ে হেটে কেন্দ্রে পৌঁছে, তাদের অংশগ্রহন ছিল স্বতস্ফূর্ত। আবার কোন কোন কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থীর লোকজন কর্তৃক প্রভাব বিস্তার, ভোটারদের টাকা প্রদান এবং ব্যাপক খানাপিনার আয়োজনের অভিযোগ করেছে প্রতিপক্ষ। ভবানী চরণ রোয়াজাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের উদ্ভুদ্ধের পর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় সাধারণ পাহাড়ি নারী ভোটারদের জিলাপি বিতরন করতেও দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থীত আনারস প্রতীকের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম (তাজু) ৩টি কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের হুমকি ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করলেও প্রশাসন তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, মাটিরাংগায় ৩৫টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৭০। সরেজমিনে দেখা গেছে বাঙ্গালী অধ্যুষিত অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম। পূর্বধলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১হাজার ২৪১। সকাল পৌনে ১০টায় কেন্দ্রটিতে ভোটার ছিল ২০ জনের মতো। আদর্শ গ্রাম এলাকার ধলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৭০। বিকাল ৩টায় কেন্দ্রটি ছিল ফাঁকা; সেময় প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন জানান ২ হাজারের মতো ভোট কাষ্ট হয়েছে। ভবানী চরণ রোয়াজাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে সেখানে আনারস প্রতীকের কর্মী খোরশেদ অভিযোগ করেন, মোটর সাইকেল প্রতীকের কর্মীরা তাদের উপর চড়াও হয়েছিল, প্রভাবিত করা হচ্ছে ভোটারদের; পরে বিষয়টি মিমাংসা হলেও আতংকে রয়েছে ভোটাররা।

matiranga-(khagrachari)-pic
কোন কোন কেন্দ্রে সকালেও ভোটের চিত্র ছিলো এমনই………

উপজেলা বিএনপির সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক হরি কিশোর ত্রিপুরা সেখানে একই অভিযোগ করে বলেন, ‘সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করে টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং ভাত খাওয়ানো হচ্ছে।’ এ অভিযোগের কিছুটা সত্যতা মিলে কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হওয়া মাকুমতৈছা পাড়ার পারিজা ত্রিপুরার কথায়। টাকা পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় দাবী করলেও পারিজা জানান, তিনি ভোট দিয়েছেন এখন মোটর সাইকেল প্রতীক প্রার্থীর নির্ধারিত বাড়িতে ভাত খেতে যাচ্ছেন। কেন্দ্রে অবস্থানরত পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনের নিকট কোন সমস্যা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,‘আমরা এরকম কিছু জানিনা; আপনারা যা শুনেন তা লিখে দেন। আমাদের কোন নামও কোড করবেননা।’

আনারস প্রতীকের প্রার্থী মোঃ তাজুল ইসলাম (তাজু) অভিযোগ করে বলেন, গোমতি বি,কে উচ্চ বিদ্যালয়, ভবানী চরণ রোয়াজা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও আচালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের জিম্মি করে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করছে প্রতিপক্ষ।

তবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডঃ মোহাম্মদ মাহে আলম জানান, কোথাও এধরনের ঘটনা নাই; যখন যেখান থেকে সংবাদ পেয়েছেন সেখানেই তাৎক্ষনিক আইনশৃংখলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। cover-matiranga

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply