নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কেটে বিএডিসি’র বাঁধ !

মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কেটে বিএডিসি’র বাঁধ !

pahar-kata-picখাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে দক্ষিন মুসলিমপাড়া এলাকায় বড় একটি পাহাড় কেটে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশ(বিএডিসি)র বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণে পাহাড় কাটার জন্য কোন অনুমতিও নেয়া হয়নি। গত এক মাস ধরে প্রতিদিন বিশ জন শ্রমিক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়টি কাটছেন। বিএডিসি’র সহকারি প্রকৌশলী পাহাড় কাটার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। সরকারিভাবে কোন উন্নয়ন সংস্থা উন্নয়ন কাজে পাহাড় কাটার প্রয়োজন হলে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপন করার বিধান থাকলেও এ কাজে পরিবেশ সংক্রান্ত কোন অনুমতিও নেয়া হয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শন ও বিএডিসি’র কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়,২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যায়ে গত বছরের ২৯ আগষ্ট চাষাবাদের সুবিধার্থে মাটিরাঙা উপজেলার মুসলিম পাড়া ওয়াটার কন্ট্রোল এক্সট্রাকচার নামে একটি মাটির বাঁধের দরপত্র আহবান করে। দরপত্রের কাজ পায় রাঙামাটির মা হালিমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি থেকে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ মুসলিম পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় প্রায় তিন একর সমমানের একটি বড় পাহাড় কেটে শ্রমিকরা বাঁধ নির্মাণ করছেন। মাটি কাটার শ্রমিক সর্দার মো. বাবুল মিয়া জানান,জানুয়ারির ২২ তারিখ থেকে প্রতিদিন ২০ জন শ্রমিক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়টি কেটে বাঁধ নির্মাণ করছেন। পাহাড় কাটার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান,অনুমতি আছে কিনা তাঁর জানা নেই। এ সময় বিএডিসি’র কার্যসহকারী পরিচয়দানকারী আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি (পরে জানা যায় ওনি রাঙামাটির নান্টু নন্দী,যিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধি) জানান,আমি এ কাজের দায়িত্বে নেই। এখানে বেড়াতে এসেছি। তবে বিএডিসি মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে, এখানে পাহাড় না কাটলে মাটি পাওয়া যাবে না। তাই পাহাড় কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএডিসির খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,আব্দুল মালেক পরিচয় দানকারী ব্যক্তিটি বিএডিসি’র কেউ নন। তাঁর প্রকৃত নাম নান্টু নন্দী। তিনি একটি পক্ষে কাজটির তদারকি করছেন। বাঁধ নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারি প্রকৌশলী রাধা সেন দাশ জানান,আব্দুল মালেক ভুল পরিচয় দিয়েছেন। ওনি আসলে নান্টু নন্দী,ঠিকাদারের প্রতিনিধি। পাহাড় কাটা সর্ম্পকে বলেন,আমি প্রতিদিন গিয়ে কাজের তদারকি করি। সেখানে কোন পাহাড় কাটা হচ্ছে না।

বিএডিসি’র খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারি প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন,একটি বাঁধের কাজ করতে গেলে অনেক মাটি লাগে। দূর থেকে মাটি এনে বাঁধের কাজ করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশের দিকটা ঠিক রেখে পাহাড় থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করতে হচ্ছে। তবে তিনিও বলেন,কোন পাহাড় কাটা হচ্ছে না।

মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ড.মোহাম্মদ মাহে আলম বলেন,প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোন সংস্থা ও ব্যক্তি পাহাড় কাটতে পারেন না। পাহাড় কেটে বিএডিসি বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত পাহাড় কাটার এলাকা পরিদর্শন করে পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply