নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » মাটিরাঙ্গার ইউএনও’র বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ

মাটিরাঙ্গার ইউএনও’র বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ

ইনফোসরকার প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিসিয়ান পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদানে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম’র বিরুদ্ধে নীতিমালা ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইনফোসরকার প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিশিয়ান নিয়োগের বিধি অনুযায়ী সর্বনি¤œ দরদাতা একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করার নিয়ম সম্বলিত ‘সেবা ক্রয় সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি’ জারী করা হলেও যথাযথ নিয়মনীতি না মেনে আবেদনকৃত কোন প্রতিষ্ঠানকেই নির্বাচিত করেন নি বলে অভিযোগ করেছে আবেদনকৃত পার্থীরা। বরং বহিরাগত পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদনকৃত স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জনবলের সাথে একিভূত করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং যা নীতিমালা পরিপন্থি বলেও অভিযোগ তাদের।
অভিযোগকারিরা জানিয়েছেন, ‘সেবা ক্রয় সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি’ অনুযায়ী কোটেশনে অংশগ্রহনকারী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪(চার) জন প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করার বিধান থাকলেও ইউএনও মাহে আলম’র পছন্দের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাত্র একজনের জীবন বৃত্তান্ত উপস্থাপন করা হয়। যা প্রকাশিত সেবা ক্রয় বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ বিপরীত। আরও অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও’র পছন্দের প্রার্থীকে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাশ করিয়ে স্থানীয় প্রার্র্র্থীদেরকে বাদ দিয়ে চাকুরি প্রদানের জন্য সু-কৌশলে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবেদনকৃত প্রার্থীদেরকে ইউএনও’র পছন্দের প্রতিষ্ঠান (জুম আল্ট্রা) পক্ষে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। নিয়োগ বোর্ডে বিটিআরসি’র একজন প্রকৌশলী, মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মাটিরাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিটার শিক্ষক সহ সর্বমোট ৩ জন থাকার কথা থাকলেও (লিখিত পরীক্ষা ও ব্যবহারিক পরীক্ষা তদারকির নিমিত্তে) শুধুমাত্র একজন দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও অভিযোগ তাদের।
এদিকে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষক মাটিরাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাকির হোসেন জানান, ইনফোসরকার প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিশিয়ান নিয়োগ নীতিমালা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা ছিলনা। মাত্র ১২ ঘন্টার নোটিশে পরীক্ষা নিতে হয়েছে।
ন্যুনতম তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোটেশন গ্রহন করার বিধান বিজ্ঞপ্তিতে উল্ল্যেখ থাকলেও অনুসন্ধানে তার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪ (চার) জন প্রার্থীর জীবন বৃত্তান্ত উপস্থাপন করলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় টেকনিশিয়ান সরবরাহের প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়নি। একাধিক প্রতিষ্ঠান একই দর প্রদান করলে লটারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার বিধান থাকলেও তাও করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল সরবরাহের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয় থেকে দেয়া স্বারক নং- ৫৬.০১.০০০০.১১৩.১১.০০১.২০১৩-৭২ তারিখ- ১৩/১১/২০১৩ খ্রিঃ নীতিমালার সাথে মিল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ইনফোসরকার প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিসিয়ান নিয়োগের বিষয়ে আমি অবগত নই, তবে তা লোকমুখে শুনেছি মাত্র। যদি টেকনিশিয়ান নিয়োগে কোন অনিয়ম হয় তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে জানতে ইউএনও ড. মোহাম্মদ মাহে আলম জানান, বিষয়টি ভুল বুঝাবুঝি মাত্র। নীতিমালা ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সুপারিশ সহকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। তারাই একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছেন। এখানে আমার কোন হাত নেই।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় টেকনিশিয়ান সরবরাহের প্রতিষ্ঠানগুলো “ইনফোসরকার প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ে টেকনিশিয়ান নিয়োগ” বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে না জানলেও বহিরাগত টেকনিশিয়ান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিভাবে টেকনিশিয়ান নিয়োগ” বিজ্ঞপ্তির সম্পর্কে অবগত তা নিয়ে সচেতন মহল ও উপজেলা সদরে ব্যপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply