নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » মনোনয়ন না পেয়ে ডিগবাজি,অত:পর চেয়ারম্যান প্রার্থী !

মনোনয়ন না পেয়ে ডিগবাজি,অত:পর চেয়ারম্যান প্রার্থী !

uthin-chin-cover২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ছিলেন বিএনপির নেতা,২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি হলেন আওয়ামী লীগ নেতা, আর ওইদিনই পেলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ! অথচ বিএনপির সমর্থন নিয়েই তিনি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলের নির্বাচনী কাউন্সিলে দলীয় প্রার্থীর কাছে হেরে কিছুটা অভিমানে আর কিছুটা সুযোগের সন্ধানে বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি হচ্ছেন সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ৩২৮ নং পোয়াইতু মৌজা হেডম্যান উথিনসিন মারমা।

২৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনী ভোটাভুটিতে ৩০-১৪ ভোটে হেরে যাওয়ার পর,পরদিনই বিএনপিকে গুডবাই জানান তিনি। একদিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের রাঙামাটির শহরে চম্পকনগরের বাসায় তাঁর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সেখানেই তাকে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

সাধারণত বিএনপিতে সদ্য যোগদান করে নির্বাচনের সুযোগ থাকলেও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে এই রকম খুউব একটা দেখা যায়না। দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদেরকেই আওয়ামী লীগে সবসময় প্রার্থী করা হয়। কিন্তু এবার দেখা গেলো ঠিক তার উল্টো। জানা যায়, রাজস্থলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মংক্য মারমা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কথা ছিলো। কিন্তু গত ২ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হলে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থী সঙ্কটে পড়ে। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নিউচিং মারমা নির্বাচন করেন। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদে সদস্য হওয়ার ইচ্ছা পোষন করায় জনপ্রিয়তা চিন্তা করে উথিনসিন মারমাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। দলের তৃণমূল পর্যায়ে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন বলে দাবি উথিনসিন মারমার।

উথিনসিন মারমা বলেন, অতীতে যা গেছে,গেছে। তা নিয়ে আমি চিন্তিত নয়। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আমাকে গ্রহণ করায় জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। দলের নেতাকর্মীরা আমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। কোনোপ্রকার সন্দেহ-দ্বিধাদ্বন্দ্ব ব্যতীত তারা প্রতিদিনই আমার জন্য খেটে যাচ্ছেন। কোনো কারণে নিজে পরাজিত হলে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করবেন না বলেও নিশ্চিত করলেন তিনি ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবাচ মারমা বলেন, উথিনসিন মারমা বিএনপির সদস্য থাকলেও কোনো সক্রিয় কর্মী ছিলেন না। বিএনপির কোনো কর্মকান্ডে তিনি উপস্থিত থাকতেন না। তা ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন। এখানে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তিকেই বাছাই করতে হয়। উথিনসিন মারমা প্রার্থী হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সকলেই তাঁকে গ্রহণ করেছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, উথিনসিন মারমা ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী থোয়াইসুইখই মারমার কাছে হেরে যান। এরপর তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করে প্রার্থী হয়েছেন। যে ব্যক্তি প্রার্থী বাছাইয়ে আমাদের প্রার্থীর কাছে অর্ধেকের বেশি ভোটে হেরে গিয়েছিলো, তিনি কিভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করবে?

এদিকে নির্বাচনে আগ মুহুর্তে দলে যোগ দিয়েই দলীয় মনোনয়নে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় উথিন সিন মারমাকে নিয়ে আলোচনা এখন জেলাজুড়ে। তবে এনিয়ে বেশি কথা বলতে রাজি নন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। আগামী ৩১ মার্চ রাজস্থলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply