নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » মনপুদিদের স্বপ্ন জাগাচ্ছে পাহাড়ের মাল্টা

মনপুদিদের স্বপ্ন জাগাচ্ছে পাহাড়ের মাল্টা

maltaaaএদেশে মাল্টা চাষের ইতিহাস খুব বেশি দিন আগের নয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি সারাদেশে চাষাবাদ ও উৎপাদন খুব উল্লেখ করার মতও নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের কাছে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। মূলত: অনুকূল জলবায়ু ও আবহাওয়া কারনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টা চাষ। বারি মাল্টায় বাজার ভরে উঠায় এবার বিদেশি মাল্টা জায়গা করে নিতে পারেনি। এ কারনে কৃষি বিজ্ঞানীরা প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয়ের আশা করছেন।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্র উদ্ভাবিত মাল্টার নতুন জাত বারি মাল্টা-১ পাহাড়ে কৃষক ও বানিজ্যিক পর্যায়ে চাষাবাদ আগের তুলনায় বেড়েছে। খাগড়াছড়ি সদর ছাড়াও পানছড়ি, দীঘিনালাসহ জেলার প্রায় সব উপজেলায় এবারও মাল্টার চাষাবাদ করেছেন বহু সাধারন কৃষক। ঘরের আঙ্গিনায়ও মাল্টার চাষ হচ্ছে। এ বছর অনেকে বানিজ্যিকভাবে এই সুস্বাদু ফলটির বাগান করে লাভের মুখ দেখেছেন।

বৈজ্ঞানিকরা জানিয়েছেন, মাটি ও আবহাওয়া উপযোগি এ ফলটি এই অঞ্চলে খুবই সম্ভাবনাময়। ফলে কৃষকদের কাছে বারি মাল্টা-১ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গাজিপুর হর্টিকালচার রিচার্স সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মদন গোপাল সাহা জানান, রোগবালাই এবং ঝরে পড়া কম হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর বানিজ্যিক চাহিদাও বাড়ছে। মাল্টার উন্নত জাত বারি মাল্টা-১, ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে কৃষি বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছিলেন। ২০০৬ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ফলটি সম্প্রসারণ পর্যায়ের জন্যে মুক্তায়ন করে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে অন্তত ২শ‘টি মাল্টার বানিজ্যিক বাগান গড়ে উঠেছে। ফলে বাজার ছেয়ে গেছে বারি মাল্টায়। বিদেশি মাল্টার পরিবর্তে সবুজাভ মাল্টার প্রতিই সাধারন মানুষের আগ্রহ বেশি। প্রতি কেজি মাল্টা স্থানীয় বাজারে ৮০/১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

হর্টিকালচার রিচার্স সেন্টারের সাইট্রাস উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. আজমত উল্লাহ বারি মাল্টার উৎপাদন ও মিষ্টতায় নিজেও উৎফুল্ল হয়েছেন। তিনি বলেন, এই ফলের চাষাবাদ করে পাহাড়ের কৃষকরা কেবল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হবেনা; তাদের পুষ্টি নিরাপত্তায়ও অবদান রাখবে। সম্ভাবনাময় ফলটির বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও উৎপাদন কলাকৌশল কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে কৃষক আর্থ-সামাজিকভাবে লাভবান হবে এবং অন্যদিকে মাল্টার আমদানি জিরোতে নামিয়ে এনে বৈদেশিক মূদ্রাও সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

ফল গবেষনা কর্মকর্তারা জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই মাল্টার ফলন আসে। সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে একজন কৃষক চাইলেই লাখপতি হয়ে যেতে পারেন। তারা এক্ষেত্রে কৃষি গবেষনার বিজ্ঞানি ও সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদদেরকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা কৃষকদেরকে সুখবর দিয়ে বলেছেন, খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে মানসম্মত মাল্টার চারাকলম পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষিবিদ ও সচেতন কৃষকরা মনে করেন, স্থানীয় মানুষদের মাল্টা খেতে অভ্যস্থ করার পাশাপাশি এর বানিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে মাল্টা চাষ পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে একটি বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে।

৩ বছরেই লাখপতি মনপুদি
খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের আড়াই মাইল এলাকায় পাহাড়ি কৃষানী মনপুদি চাকমা মাল্টার ছোট্ট বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ২০১২ সালে মাত্র ১ বিঘা জমিতে ২০০ টি মাল্টার চারা লাগিয়েছিলেন। মাত্র ৩ বছরের মাথায় এবার তিনি অন্তত লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। জুমিয়া কৃষানী মনপুদি চাকমা এবার মাল্টা চাষ করেই স্বপ্ন দেখছেন জীবন বদলের। তার মত আরো অনেকেই মাল্টা বাগানে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। আরেক মাল্টা বাগানী উষাতন চাকমা বলেন, ‘মাল্টার ব্যাপারে ধারণাই পাল্টে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে এত লাভবান হবো ভাবতেই পারিনি আগে। তা দেখে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন।’ অতিসম্প্রতি কৃষি সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ মনপুদি চাকমার মাল্টা বাগান পরিদর্শন করেছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্রোহী রফিকের দুর্গে নৌকার নির্মলেন্দুর জয়

খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর দুর্গে জয় পেলেন নৌকার প্রার্থী। খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও …

Leave a Reply