মধ্যরাতেই মৎস্য শিকার শুরু কাপ্তাই হ্রদে

kp-lakeদীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। শুক্রবার মধ্য রাত থেকেই জেলেরা কাপ্তাই হ্রদে অতীতের মতো মাছ শিকার করতে পারবে। জেলা প্রশাসনের এক প্রজ্ঞাপনে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কেবলমাত্র বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, রাঙামাটি জেলা থেকে লাইসেন্স গ্রহণ ও ধৃতব্য মাছের নির্ধারিত শেয়ার/শুল্ক প্রদান সাপেক্ষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার করা যাবে। তবে কাপ্তাই হ্রদে পাঁচটি অভয়াশ্রমে কোনো প্রকার মাছ শিকার করা যাবে না। এই পাঁচটি অভয়াশ্রম হলো- ফিসারি ঘাটের সম্মুখে হ্রদাংশের দুই বর্গকিলোমিটার, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সংলগ্ন দুই বর্গকিলোমিটার, জেলাপ্রশাসক বাংলো সংলগ্ন ১২ বর্গকিলোমিটার, রাঙামাটি বনবিহার এলাকা সংলগ্ন ৫৩.৫০ একর এলাকা এবং নানিয়ার উপজেলার ছয়কুড়ি বিলের ২০০ একর ঘোষিত অভয়াশ্রমে মাছ শিকার বন্ধের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। নয় ইঞ্চির নিচে কোনো পোনা মাছ ধরা যাবে না। বিএফডিসির নির্ধারিত অবতরণ কেন্দ্র ব্যতীত অন্য কোথাও মৎস্য অবতরণ করা যাবে না এবং মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ ব্যতীত কোনো মাছ বা শুটকি বিক্রয় করা যাবে না। তবে রাঙামাটি অধিবাসীদের জন্য বাজারে বিক্রয়কৃত মাছের ওপর কোনোপ্রকার শুল্ক ধার্য করা হবে না।

গত ১৮ মে মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকারের ওপর জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কাপ্তাই হ্রদের মাছের স্বাভাবিক প্রজননের জন্য প্রতিবছর সাধারণত তিন মাস বা তার অধিক সময় মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়।

কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন।

সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের সময়কাল অতিক্রান্ত হয়েছে এবং হ্রদে অবমুক্তকৃত মাছের পোনার আকারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ পুনরায় শুরু করা যায়। তবে মাছ ধরা মৌসুমে পোনা মাছ নিধন, কারেন্ট জাল ও মশারি জাল এর ব্যবহার বন্ধ, জাঁক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বন্ধকল্পে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি মাছ ধরা মৌসুমে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে পোনা মাছ নিধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, চলতি মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়ানের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার সদস্যদের তদারকি, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতসহ সকলের সহযোগিতার কারণে এ মৌসুমে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। ফলে এই মৌসুমে হ্রদ হতে কাক্সিক্ষত পরিমাণ মাছ আহরণ সম্ভব হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply