নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের বলি ছয়শ প্রাণ

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের বলি ছয়শ প্রাণ

killingggপার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে বিরোধ ও সংঘাত যেন কমছেই না। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের ভ্রাতৃঘাতি বিবাদ, অন্তঃদ্বন্দ্ব আর খুনোখুনির ঘটনায় বলির পাঁঠা হচ্ছেন সাধারণ পাহাড়িরাই বেশি। আগে শান্তিচুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ দু‘টি গ্রুপ থাকলেও বর্তমানে এমএন লারমার আদর্শবাহী জনসংহতি সমিতির দ্বিধাবিভক্ত আরেকটি অংশের আবির্ভাব মূলত সাধারণ পাহাড়িদের মাঝে নতুনভাবে ভাবনা যোগ করে।

আদর্শগত দ্বন্দ্বের চেয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ক্রমেই দ্বন্দ্ব, সংঘাত, আতংক এবং ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে তিন পাহাড়ে। চুক্তির পর আঠারো বছরে এই সংঘাতে মারা গেছে অন্তত ৬ শতাধিক মানুষ। যারা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধের জের ধরে হামলা পাল্টা হামলা, চোরাগোপ্তা হামলা, মুখোমুখি গোলাগুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া পঙ্গুত্ব বরণ, অপহরণ, গুমের ঘটনায় আরো অসংখ্য পাহাড়ি ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের শিকার হন। অবশ্য ঘটনার শিকার অর্ধেকের বেশিই জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ এর নেতাকর্মী বা সমর্থক।

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত দৃশ্যমান হলেও জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা) তা মানতে রাজি নয়। তারা বলছে, আদর্শগত সংগ্রাম চললেও তারা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছেন না; চুক্তির বিরোধিতা ও পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনের নামে মূলত ইউপিডিএফ মানুষ হত্যা আর চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে। অন্যদিকে ইউপিডিএফ বরাবরের মতই বলেছে তারা ‘ভ্রাতৃঘাতি সমস্যার’ সমাধান চায় বলেই সন্তু লারমার প্রতি বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়েছে। এমএন লারমার আদর্শবাহী জনসংহতি সমিতির অপর অংশও ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের নিরসন চায়।

জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা অভিযোগ করেছেন, চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ তাদের ৯৩ সক্রিয় সদস্যসহ তিন শতাধিক সমর্থক শুভাকাক্সক্ষীকে হত্যা করেছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মী, সদস্য ও সমর্থককে অপহরণ করা হয়েছে। ইউপিডিএফ‘র মিডিয়া প্রধান নিরণ চাকমার পাল্টা দাবি, বিগত গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের ২৬৪ জন নেতাকর্মী খুন বা গুম হয়েছেন প্রতিপক্ষ সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির হামলায়। অন্যদিকে জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) গ্রুপের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তাদের ৩০ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস এর হাতে।

সাধারণ পাহাড়িরা বলছেন, অধিকার আদায় করতে চাইলেও ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত ও নিজেদের মধ্যে অহেতুক বিরোধে জড়াতে চান না তারা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক পাহাড়ির অভিযোগ, শহর কিংবা শহরতলীর তুলনায় দূর পাহাড়ের পাহাড়িরা অনেকাংশেই অসহায় ও নিরূপায়। পৃথক তিনটি ধারার রাজনীতির কাছে জিম্মি তারা। একটি দলের পক্ষে অবস্থান বা সমর্থন করলে অন্যদলটি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। প্রায়ই তাদের (জনগণকে) বিচারের মুখোমুখি হতে হয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কাছে। প্রতিবাদ বা নিরব থাকলেও খুন, গুম ও বা অপহরণ হতে হয়। এসব হতে বাদ পড়েন না হেডম্যান বা কার্বারি, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এমনকি গ্রামের বয়স্ক মুরব্বিরাও।

জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত কুমার চাকমা বলেন, নানা মত পথের লোক থাকবে; থাকবে রাজনীতিও। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যের বিকল্প নেই। সংঘাত বন্ধ হলে সবার জন্যই মঙ্গল।

ইউপিডিএফ‘র প্রেস ইউনিটের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, ভ্রাতৃঘাতি নয়; বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে সন্তু লারমার প্রতিও আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। জেএসএস‘র পক্ষ হতে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সন্তু লারমাই সংঘাত জিইয়ে রেখেছেন। জনসংহতি সমিতির শীর্ষনেতা সন্তু লারমার একগুয়েমির নেতিবাচক শিকার হচ্ছেন সাধারন পাহাড়িরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply