নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ভোট শেষে ফেরার পথে ব্রাশফায়ার, নিহত ৭

ভোট শেষে ফেরার পথে ব্রাশফায়ার, নিহত ৭

হামলার শিকার চাঁদের গাড়িটি

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে নির্বাচন কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলায় অন্তত: ৭ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সারাদিন ভোট পালন শেষে একসাথে বিজিবি প্রহরায় গাড়ীবহর নিয়ে ফিরছিলেন নির্বাচনী কর্মীরা। এসময় দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের নয়মাইল এলাকায় তাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই ভিডিপি সদস্য আল আমিন,বিলকিস বেগম,মিহির কান্তি দত্ত,জাহানারা বেগম,পথচারি মিন্টু চাকমা, শিক্ষক মো: আমির হোসেন ও তৈয়ব আলী নিহত হন। তাৎক্ষনিকভাবে আহতদের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, সাজেক ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা প্রিজাইডিং অফিসার,পোলিং অফিসারসহ নির্বাচন কর্মকর্তারা সহযোগি আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিজিবি প্রহরায় বাঘাইছড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনটি চাঁদের গাড়িতে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপর ব্রাশফায়ার করা হলে দ্বিতীয় গাড়ীটি আক্রান্ত হয়। এসময় চালক গাড়ী না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ী থেকে তাদের নামানোর পর একের পর এক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকেন গুলিবিদ্ধরা।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদিম সারোয়ার জানিয়েছেন, তিনটি কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে তারা সবাই ফিরছিলো। তখন তাদের ওপর নয় মাইল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। তিনি জানিয়েছেন, আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।

নিবার্চনে অংশ নেয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানিয়েছেন, সন্তু লারমার জেএসএস’র এর বড়ঋষি চাকমা নিশ্চিত পরাজয় জেনে সকালে নির্বাচন বর্জন নাটক করার পর সন্ধ্যায় সরকারি কাজে নিয়োজিতদের উপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হামলার জন্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ কে দায়ি করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সহ সাধারন সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই ঘটনার সাথে আমাদের দুরতম সম্পর্কও নেই। কারণ ওই এলাকায় আমাদের কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম বা অবস্থান নেই। ওইটা পুরোটাই ইউপিডিএফ এর নিয়ন্ত্রিত এলাকা। আর আমরা যেহেতু সকালেই নির্বাচন বর্জন করেছি এবং লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি,আমরা কেনো এমন কাজ করব। আমরা গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী,গনতান্ত্রিক আন্দোলনেই আমাদের আস্থা আছে।

অন্যদিকে ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানিয়েছেন, ‘ এই ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের কারো কাজ নয়। এই নির্বাচনে আমাদের এইখানে কোন প্রার্থীও ছিলোনা। আমরা কেনো এই কাজ করতে যাবো ?’

প্রসঙ্গত, এই উপজেলায় জাতীয় কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র অন্যতম শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা। এই দুই নেতার ভোটযুদ্ধ নিয়ে উত্তাপ ছিলো সেখানে। ভোটের প্রচারণার মধ্যেই গত ৩ মার্চ তারিখ উপজেলার বঙ্গলতলিতে হামলায় নিহত হন জনসংহতি সমিতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা উদয় জয় চাকমা চিক্কোধন। সর্বশেষ ভোটের দিন সকালেই নির্বাচনে অনিয়ম,ভোট ও কেন্দ্র দখল এবং চারটি কেন্দ্রে রাতেই ভোট দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সকাল দশটায় ভোট বর্জন করেন জনসংহতি সমিতির প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ডেঙ্গুরোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় আর এডিস মশার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু রোগ থেকে সকলকে …

Leave a Reply