নীড় পাতা » প্রকৃতিপুরাণ » ভূমি কমিশনেই আটকে আছে চুক্তি বাস্তবায়ন !

ভূমি কমিশনেই আটকে আছে চুক্তি বাস্তবায়ন !

land-comisionপার্বত্য চুক্তির ১৮ বছর পরেও চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে পাহাড়ে পাহাড়ী ও বাঙালীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে এখনও। এখনও উভয় পক্ষের মধ্যে রয়েছে সন্দেহ ও অবিশ্বাস।

এরপরেও চুক্তি নিয়ে নানা ভিন্নমত থাকলেও পাহাড়ের বিশিষ্টজনরা মনে করেন চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পার্বত্য সমস্যার ইতিবাচক সমাধান সম্ভব। তাই চুক্তি বাস্তবায়নের সরকারের সদিচ্ছার প্রতি গুরুত্বারোপ তাদের।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রিন্টু চাকমা বলেন,চুক্তির ১৮ বছর পুর্ন হতে চলেছে কিন্তু চুক্তির যতটুকু বাস্তবায়ন হওয়ার কথা এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। যেমন ভুমি কমিশন গঠন,স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন,স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রনয়ন সবকিছু এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। এখানে হাজার হাজার একর ভুমি পর্যটনের নামে দখল করা হচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সাংগঠনিক সম্পাদক থোয়াই অং মারমা বলেন, পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এখানকার মানুষের প্রত্যাশা ছিল শান্তি বিরাজ করা কিন্তু সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে আমরা এখনো পৌছায়নি। তিনি বলেন, বিগত ১৮ বছরেও আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগত শরানার্থীদের এখনো পুর্নবাসন করা হয়নি। ভুমি কমিশন কার্যকর না হওয়ায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে অন্তরায়। চুক্তি অনুযায়ী সরকার পার্বত্য অঞ্চলের যেসব বিভাগুলো বাস্তবায়ন করার কথা ছিলো সেগুলো সরকার যথাসময়ে রোডম্যাপ ছাড়া কালক্ষেপন করে সেগুলোকে বাস্তবায়ন করছে না।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ যে পরিষদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পারে কিন্তু তাদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। এ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি তাদের বছরে দু-তিনবার সভা করার কথা ছিলো তাদের মধ্যেও তা সমন্বয় হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের মতামত ছাড়া অনেকগুলো আইন প্রনয়ন করা হচ্ছে। এখানে সেনাবাহিনী-বিজিবি ক্যাম্প সম্প্রসারনের নামে অনেক জায়গা দখল করা নেয়া হচ্ছে। তিনপার্বত্য জেলা থেকে দুই লক্ষাধিক জায়গা বন সম্প্রসারনের নামে অধিগ্রহন করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সাধারন সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, চুক্তি হওয়ার পুর্বে আমরা পার্বত্য এলাকায় বসবাস করেছি। কারন সে জায়গায় বসবাস করতাম সে জায়গায় আমি থাকতে পারব কিনা সন্দেহ ছিল। আমরা চেয়েছিল পার্বত্য চুক্তি হওয়ার পর এ এলাকার সাধারন জনগন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পাব। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ভুমি সমস্যা। এখানকার ভুমি সমস্যা যতক্ষন পর্যন্ত সমাধান না হবে ততক্ষন পর্যন্ত এখানে মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় করে কোন লাভ নেই। তিনি বলেন, আজকে যদি চুক্তি বাস্তবায়ন হতো তাহলে আমরা তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতাম । এর ফলে সাধারন জনগন সুফল ভোগ করতো। বর্তমানে পার্বত্য এলাকার জনসাধারন ঐ সুযোগ সুবিধাগুলো পাচ্ছে না। এখানে যারা দলীয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছে তারাই আখের গোছাচ্ছে। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় পাহাড়ের ছেলেমেয়েরা অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা শিখছে একটা চাকরাী পাওয়ার আশায়। কিন্তু শত যোগ্যতা থাকা সত্বেও তাদের চাকরী মিলছে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব চুক্তি বাস্তবায়ন হলে পাহাড়ী-বাঙালী সকলের মাঝে স্থায়ী একটি শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। হেডম্যান নেটওয়ার্কেও সা: সম্পাদক মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে কি লাভ হবে, যদি না আমি আমার প্রথাগত ভুমির অধিকার না পাই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-তথ্য প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের জন্য এবং এ এলাকার মানুষের শান্তি নিশ্চিত করার জন্য পার্বত্য চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের পর পর আমরা কিছু উদ্যোগ দেখেছি যেগুলো অশাব্যঞ্জক এবং কিছু বিষয় বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু এর কয়েক বছর পরে চুক্তি বাস্তবায়নে স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। পার্বত্য চুক্তির ১৮ বছর পর এসে চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি অত্যন্ত দু:খজনক। সরকারের সাথে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত সত্বেও সরকার কিন্তু সে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করছে না। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের যে একটা দায়িত্ব রয়েছে সরকার সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। তিনি বলেন,একদিকে চুক্তি বাস্তবায়ন না করা, আবার চুক্তিবিরোধী এবং এখানকার জুম্মস্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ কার্যক্রমের কারনে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পর্কে সজীব চাকমা বলেন,পার্বত্য চুক্তির ৭২ টি ধারা মধ্যে বস্তুত ২৫ টি ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে। এখনও দুই তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন হয়নি। এটি একটি জাতীয় এবং রাজনৈতিক সমস্যা সে সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৭ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ’

মোটা দাগে বলা যায়, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মূলত: ভূমি বিরোধ ও ভূমি কমিশন আইন কার্যকরের মধ্যেই আটকে আছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

দীঘিনালায় টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টিসিবি’র ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে …

Leave a Reply