নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » ভুবন’র আলোয় আলোকিত রাঙামাটি

ভুবন’র আলোয় আলোকিত রাঙামাটি

Vuban-with-mother-01শিক্ষক বাবা মায়ের সন্তুান ভুবন দে’র আলোয় উদ্ভাসিত এখন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। শিক্ষা মন্ত্রনালয় আয়োজিত ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষন’ প্রতিযোগিতার বিজয়ী শীর্ষ বারোজনের একজন পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচে প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ভুবন দে। বাবা বিজন দে শহরের আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের অধ্যক্ষ আর মা অশ্রু চৌধুরী শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। ভুবন দে তার স্কুলের দিবা শাখার দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র,ক্লাসে তার রোল তিন।
বাবা-মা দুইজনই শিক্ষক বলেই হয়তো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার নয়, বড় হয়ে মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ হতে চায় রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সেরা মেধাবী ভুবন দে (এন্জেল)। তার মতে, সৎ ও মানবিক গুণসম্পন্ন একজন নাগরিকই পারে দেশের প্রকৃত সেবা করতে। বললো, ‘জীবনটা অনেক বড়। তাই এখনই বলতে পারব না ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার হব! শুধু একজন ভালো নাগরিক হতে চাই। নিজের কাজ নিজে করতে চাই।’
তুখোড় সব মেধাবীকে হারিয়ে যখন মঞ্চে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের প্রথম বিদ্যাপীঠ রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভুবনের নাম ঘোষণা করা হল তখন কি মনে হয়েছিল? এই প্রশ্নে ভুবন আনন্দিত হয়ে বলে, ‘খুব ভালো লেগেছে। এর আগে কখনো জাতীয় পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিনি। এবার করলাম আর সেরা মেধাবীর খেতাবও পেলাম। অসাধারণ অনুভূতি!’
ভুবনের প্রিয় বিষয় গণিত ও বিজ্ঞান। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বাইরের বই থেকেও গণিত অনুশীলন করত সে। বললো, ‘আমাদের পাঠ্যবই এমন যে এখানকার অংকগুলো ভালো করে সমাধান করলেই অনেক কিছু শেখা বা জানা হয়ে যায়। যেটা আমি সবসময় করতাম।’ দৈনিক তিন থেকে চার ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেই মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় সেরা হয়েছে সে। তার কাছে পড়াশোনার ধরা-বাঁধা কোনো নিয়ম নেই। বরাবরই অংক ও কম্পিউটারের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা ছেলেটির।
ভুবনের বিদ্যাপীঠ রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম খীসা তার ছাত্রের সাফল্যে যারপরনাই খুশি। তিনি বলেন,অনুষ্ঠানে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বারবার রাঙামাটির কথা বলছিলেন। আমি এই জন্য গর্ববোধ করেছি,ভুবন আমাদের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে। শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই ধরণের মেধা বিকাশের আয়োজনের মাধ্যমেই সত্যিকার মেধা যাচাই করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন।

ভুবন দে’র বাবা বিজন দে,ছেলের সাফল্যে আত্মহারা। তবে তিনি মনে করেন,যেতে হবে আরো বহুদুর। এই জন্য একজন পিতা হিসেবে,অভিভাবক হিসেবে তিনি সন্তানের পাশে থাকার প্রত্যয়ের কথাই জানালেন।

ভুবনের এটাই প্রথম কোন অর্জন নয়। এর আগে ২০০৮ সালে ডাচবাংলা-প্রথম আলো গণিত উৎসবে সে জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এছাড়া কা স্কাউটিং এর সর্বোচ্চ পদক ‘শাপলা এ্যাওয়ার্ড’ এবং স্কাউটিং এর সর্বোচ্চ পদক ‘প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ও পেয়েছে সে।
প্রসঙ্গত,ষষ্ঠ-অষ্টম,নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে ভাষা ও সাহিত্য,দৈনন্দিন বিজ্ঞান,গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে সৃজনশীল মেধা অন্বেষন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। উপজেলা,জেলা,বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রতিযোগিতা,যাতে মোট বারোজনকে নির্বাচিত করা হয়,যার মধ্যে একজন ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ভুবন দে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

‘আওয়ামীলীগ চুক্তি করেছে, তারাই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে’

‘আওয়ামীলীগ সরকারের আগে অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। উল্টো তারা পার্বত্য …

Leave a Reply