নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ভিডিপি’র প্লাটুন কমান্ডার হত্যা মামলার আসামি!

ভিডিপি’র প্লাটুন কমান্ডার হত্যা মামলার আসামি!

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুইটি হত্যা মামলার আসামি যুবদল নেতা মো. নাসির পিসি। সে উপজেলার মধ্যবোয়ালখালি ২নম্বর ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) প্লাটুনের কমান্ডার (পিসি)। শৃঙ্খল এ বাহিনীর মধ্যে তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীাত ও অনিয়মের অভিযোগ। কিন্তু কয়েকবার সে চাকুরিচ্যুত হলেও অদৃশ্য কোন শক্তিবলে সে তার স-পদে বরাবরই বহাল রয়েছেন।

হত্যা মামলাসহ অনিয়মে অভিযুক্ত এই যুবদল নেতার শৃঙ্খলা-বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা নিয়ে এলাকায় রয়েছে অনেক সমালোচনা। তার বাড়ি উপজেলার আশ্রম এলাকায় এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২০জুন দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কের সাতমাইল এলাকায় খুন হয় দীঘিনালার মোটর সাইকেল চালক চান মিয়া। চান মিয়ার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি ছিনতাই করা হয়। পরদিন নিহত চানমিয়ার স্ত্রী মুর্শিদা বেগম (২৯) বাদী হয়ে দীঘিনালা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় হত্যা মামালার আসামি নাসির পিসি পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে আটক হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন। এর পর নসির পিসির সাবেক ঠিকানা বরগুনার আমতলী থেকে নিহত চানমিয়ার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ। সে মামলার অভেযোগপত্রে নাসির পিসি ৪ নম্বর আসামি। মামলার বাদী মুর্শিদা জানান, মামলার চার্জ গঠন হয়েছে; তাতেও অভিযুক্ত হিসেবে নাসির পিসির নাম রয়েছে।

এছাড়া ২০১৬ সালের ৫সেপ্টেম্বর ভোর রাতে উপজেলার আশ্রম এলাকায় নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয় বাদল মিয়াকে। সেই মামলার বাদি নিহত বাদলের শ্যালক আবু বক্কর ছিদ্দিক। সে মামলাতেও প্রধান আসামি নাসির পিসি। মামলাটি সিআইডিতে তদন্তনাধীন রয়েছে। বাদি ছিদ্দিক প্রশ্ন করে বলেন, ‘এত কিছুর পরও নাসির পিসির একটি শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছেন কিভাবে?’

এর বাহিরে শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে নাসির পিসির বিরুদ্ধে। ভিডিপির সদস্যদের অজান্তে চাকুরিচ্যুত করে মোটা অংকের বিনিময়ে শূন্যপদে নিয়োগ বাণিজ্য করেন নাসির পিসি। নাসির পিসির প্লাটুনের সদস্য ছিলেন, মধ্যবোয়ালখালি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমান। মতিউর জানান, তিনি বেতন তুলতে গিয়ে দেখেন তাঁর চাকুরি নেই। পরে উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখেন তাঁর মাষ্টাররোলে লেখা রয়েছে তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন, যা মতিউর নিজেও জানেন না।

এছাড়া সদস্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আত্মীয়করণও করেছেন নাসির পিসির বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা না হলেও বেতছড়ি পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা নাসির পিসির মেয়ের জামাতা এমাদুল হককে তাঁর প্লাটুনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ভিডিপি’র সদস্য পদে।

এছাড়া নাসির পিসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতাও মেলে দীঘিনালা সেনাজোন থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে নাসির পিসির বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিবেদন থেকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিবেদনেও ফুটে ওঠে অনিয়মের চিত্র। এরকম দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকবার চাকুরিচ্যুতও হয়েছেন নাসির পিসি। কিন্তু অদৃশ্য কোনো ক্ষমতা বলে আবার নিয়োগও পেয়ে যান নাসির পিসি।

সর্বশেষ এই নাসির পিসির বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করেছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও। দুর্নীতিবাজ এবং সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে চাকুরিচ্যুতির পর আবার চাকুরি ফিরে পাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর গত ৮ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করেন আশ্রম এলাকার আবদুর রশিদ। বিষয়টি দেখার জন্য ডিজিকে (আনসার ও ভিডিপি) আবেদন পত্রের ওপরে লিখেছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানতে চাইলে নাসির পিসি দুর্নীতি অনিয়মের বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে জানান, হত্যা মামলায় আটক হওয়ার পর চাকুরিচ্যুত হয়েছিলেন। জামিনে আসার পর আবেদন করে চাকুরি ফিরে পেয়েছেন; আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে চাকুরি থাকবেনা।

জানতে চাইলে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বিদর্ভ চাকমা জানান, আগে নাসির পিসির কতবার চাকুরি গেছে তা তাঁর জানা নেই। তবে বর্তমানে আদালত থেকে সাজাপ্রাপ্ত হলে আর তার চাকুরী থাকবেনা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

গাছকাটা মামলায় কাপ্তাই যুবলীগ সভাপতির ৩ বছরের কারাদণ্ড

বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনকে কারাগারে …

Leave a Reply