নীড় পাতা » ব্রেকিং » ভাঙনের শঙ্কায় শহরের চেঙ্গীমুখ

ভাঙনের শঙ্কায় শহরের চেঙ্গীমুখ

রাঙামাটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র রিজার্ভ বাজার এলাকার চেঙ্গীমুখ হ্রদ ও নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য ১৯৮৬ সালে একটি দেয়াল নির্মাণের ১৫ বছর পর পানির স্রোকের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়। বিভিন্ন নদীর মোহনা একত্রে এসে এই জায়গাটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ায় এলাকাটি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেয়ালটি পুনঃসংস্কারের কথা থাকলেও সেই দেয়াল আজও সংস্কার হয়নি। এতে পুরো এলাকা পাঁচ শতাধিক পরিবার মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে দেয়াল পুনরায় নির্মাণে এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি আবেদন উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬০ সালে হ্রদ সৃষ্টির পূর্বে চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং ও বরকল নদীসমূহের স্রোতধারা মিলিত স্থান ছিল বর্তমান রাঙামাটি শহরের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র রিজার্ভ বাজারের চেঙ্গী মুখ। এ সমস্ত নদী উজানের সব গতিধারাগুলো এই এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যেতো। যে কারণে হ্রদ সৃষ্টির সময় থেকে এ জায়গাটির ওপর চলমান পানির গতিধারা সবসময় হানা দিতো। হ্রদ সৃষ্টির ফলে নদীগুলো সৃষ্টি হয়েছে হ্রদে, এসবের খরস্রোত গতিধারা কিছুটা স্থিমিত হলেও এই স্রোতধারা এখনো বয়ে চলেছে। সব নদীর স্রোতধারা ও হ্রদের গতিধারা একই জায়গায় মিলিত হওয়ার পর এর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ায় চেঙ্গীমুখ এলাকটি ভাঙ্গণের মুখে রয়েছে। দীর্ঘ বছর যাবৎ এলাকাবাসী চেঙ্গীর মোহনায় কিংবা চেঙ্গী মুখে দেয়াল নির্মাণের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৮৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ধারক দেয়াল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১৫ বছর পর ওই দেয়াল বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়ে। এতে আবারো বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এলাকার বাসিন্দা গনেশ দাশ বলেন, ধারক দেয়াল নির্মাণের পর ২০০২-০৩ সালের দিকে চেঙ্গী মুখ এলাকায় বেশিরভাগ স্থানেই দেয়ালটি ভেঙে পড়ে। এলাকাটি সরাসরি নদীর মোহনায় থাকায় পুরো এলাকা বিপর্যের শঙ্কা রয়েছে। সেই সময়ে দেয়ালটি ভেঙে পড়ার পর তৎকালীন পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ানের কাছেও বার বার ধর্ণা দিয়েছি। বর্তমানে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দেয়ার পরও দেয়ালটি সংস্কার হচ্ছে না। ২০১৭ সালে ১৩ জুন রাঙামাটিতে যে ভূমিধস হয়েছিল, সে সময়ও এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। অতিসত্ত্বর দেয়ালটি নির্মাণ না করলেও পুরো এলাকাটি হ্রদের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

রিজার্ভ বাজার এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে বলেন, যেহেতু নদী ও হ্রদের স্রোতধারা চেঙ্গীমুখ ও ঝুল্লিক্যা পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যেতো, সেজন্য এখানে ধারক দেয়াল পুনরায় সংস্কার করা খুবই প্রয়োজন। আশা করছি, রাঙামাটি ভূ-প্রকৃতির কথা মাথায় রেখে এই এলাকাটি রক্ষার জন্য দ্রুত দেয়াল নির্মাণ করা হোক।

চেঙ্গীমুখ এলাকার বাসিন্দা ও রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনছুর আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ দেয়াল না থাকায় কষ্ট পাচ্ছে। দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভাঙনের কবল থেকে মুক্ত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন বলেন, এলাকাটি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোন সময়ে বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকাটির বেশিরভাগ মানুষও দরিদ্র, তাদের পক্ষে দেয়াল তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারে কাছে দাবি জানাবো যাতে খুব দ্রুত এখানে দেয়াল তৈরির মাধ্যমে এলাকাটিতে রক্ষা করা হোক।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমরা দেখছি। অবশ্যই জনগুরুত্বপূর্ণ হলে আগামী অর্থবছরে প্রকল্প নেয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে এমএনলারমাপন্থী পিসিপি নেতা খুন

রাঙামাাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহযোগী ছাত্রসংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের …

Leave a Reply