নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » বোমাং রাজপুণ্যাহ বছর শেষে !

বোমাং রাজপুণ্যাহ বছর শেষে !

Bandarban-King-Pic_4
ফাইল ছবি

বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী রাজপুন্যাহ উৎসব হচ্ছে না এবার ! দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় নাশকতার আশঙ্কায় জানুয়ারীমাসে বোমাং সার্কেলের প্রজাদের কাছ থেকে জুমের বাৎসরিক খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ (পইংজ্রা) উৎসব আয়োজন করা যাচ্ছে না দাবী রাজপরিবারের। তবে দেশের চলমান অচলাবস্থা কেটে গেলে চলতি বছরের শেষেরদিকে ডিসেম্বরে উৎসব আয়োজন করার ইচ্ছা রয়েছে জানিয়েছেন বান্দরবান বোমাং সার্কেল চীফ ১৭ তম রাজা ইঞ্জিনিয়ার উচ প্রু মারমা।
রাজপরিবার সূত্র জানায়, রাজপূন্যাহ উৎসবের উদ্ধোধনী দিনে বান্দরবান বোমাং সার্কেল চীফ রাজা ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় পোষাক পরিধান করে রাজবাড়ী থেকে রাজকীয় বাঁশির সুরে অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসেন। এসময় তার সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজির, সিপাহী শালাররা রাজাকে গার্ড দিয়ে মঞ্চস্থলে নিয়ে যায়। বোমাং রাজা সিংহাসনে উপবিষ্ট হলে সারিবদ্ধভাবে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারী, রোয়াজারা রাজাকে কুনিশ করে জুমের বাৎসরিক খাজনা ও উপঢৌকন রাজার হাতে তুলে দেন। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ভিন্ন পেক্ষাপটের কারণে জুমের বাৎসরিক খাজনা আদায় অনুষ্ঠান রাজপূন্যাহ উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে না। এটি বোমাং সার্কেলের চীফ ১৭তম রাজা ইঞ্জিনিয়ার উচ প্রু মারমার প্রথম এবং বংশ পরাম্পরায় ১৩৮ তম রাজপূন্যাহ উৎসব আয়োজনের কথাছিল। ২০১৩ সালের গত ৬ ফেব্রুয়ারী বোমাং সার্কেলের ১৬তম রাজা কেএসপ্রু বার্ধক্যজনিত রোগে ৮১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণের পর গত বছরের ২৪ এপ্রিল বর্তমান রাজা দায়িত্ব নেন।
বোমাং রাজা ইঞ্জিনিয়ার উচপ্রু মারমা বলেন, বংশ পরাম্পরায় বোমাং রাজপ্রথা অনুযায়ী রাজ পরিবারের সবচেয়ে বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষ রাজা নির্বাচিত হয়। ১৮৭৫ সালে ৫ম তম বোমাং রাজা সাক হ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরস্পরায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবছরই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পইংজ্রা (রাজপূণ্যাহ) উৎসব হয়ে আসছে। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যর একটি অংশ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ী-বাঙ্গালী সকলে এই উৎসবে অংশ নেয়। বোমাং রাজা ইঞ্জিনিয়ার আরো বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে বোমাং সার্কেল এবং আগামীতেও রাখবে। বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল গঠিত।
প্রসঙ্গত: রাজপূণ্যাহ উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানে সপ্তাহ ব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা বসে নাগর দোলা, ভেরাইটিসু,পপসংগীত, পুতুল নাচ, মৃত্যুকূপসহ ব্যাাতিক্রমি নানা আয়োজন। এছাড়াও হরেক রকম জিনিসপত্রের দোকান এবং সারারাত ব্যাপী চলে যাত্রা অনুষ্ঠান। রাজপূণ্যাহ উৎসব পরিণত হয়েছে পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মিলন মেলায়। শুধুমাত্র বান্দরবান, রাঙামাটি নয় রাজপূণ্যাহ মেলা দেখতে ভীড় জমায় দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটকও।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply