নীড় পাতা » ব্রেকিং » বৈসাবি বরণে বর্ণিল শোভাযাত্রা

বৈসাবি বরণে বর্ণিল শোভাযাত্রা

biju-picআনন্দ ও উন্মাদনায় রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু, সাংক্রান উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। প্রতিবছর এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে মূলত বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাহাড়িরা এতে অংশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই শোভাযাত্রায় নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক গায়ে দিয়ে তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। আনন্দ-আমেজে বৈসাবির উপলক্ষ সবার কাছে পৌঁছে দেয় এই শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার পরপরই পাহাড়িরা দীর্ঘদিনের কর্মক্লান্তি শেষে স্ব স্ব এলাকায় ফিরে যায়। এলাকায় ফিরে তারা পরিবারের সাথে বৈসাবির আনন্দ ভাগাভাগি করে।

এর আগে রোববার সকালবেলা রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে রাঙামাটি বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু, সাংক্রান উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।
জুম্ম সংস্কৃতি বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুম্মদের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক উৎসবে সকলের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য থাকার কথা থাকলেও তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সকলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে জুম্ম সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও তার বিকাশ সাধনের ক্ষেত্রে সহায়ক বিভিন্ন ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু গত ১৮ বছরেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুম্ম জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় চরম এক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এসময় বক্তারা দেশবাসিকে বর্ষবরণ ও বিদায়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম সংস্কৃতিতে রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সংগ্রামে সবাইকে মাঠে থাকতে হবে। আনন্দের উচ্ছ্বাসের এই সময়েও উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

রাঙামাটি বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু, সাংক্রান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, এমএনলারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর আহ্বায়ক বিজয় কেতন চাকমা, শিক্ষাবিদ মংসানু চৌধুরী।

এসময় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে পাহাড়িদের ঐহিত্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply