নীড় পাতা » ফিচার » ক্যাম্পাস ঘুড়ি » বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ঐক্য’ এর পক্ষ থেকে নাজিফা জান্নাত প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লকডাউনের কারণে সকল প্রকার কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধ। তাদের আর্থিক অবস্থা ভীষণ খারাপ। যেখানে ঘরে দু’বেলা খাবারের নিশ্চয়তা নেই, সেখানে প্রতিদিন মিনিমাম ১০০ টাকার এমবি দিয়ে ক্লাস করা বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়। যাদের এই সামর্থ্য আছে তারা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ক্লাসে অংশ নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী শহরের বাইরের, গ্রাম অঞ্চলের, প্রতন্ত অঞ্চলের। দুর্বল নেটওয়ার্ক সেবার ফলে যেখানে ফোনেই কথা বলা যায় না, সেখানে অনলাইন ক্লাস করাটা অকল্পনীয় চিন্তা। আর যারা কোনো প্রকারে অংশ নিতে পারছেন তারা ক্লাসের পড়া কিছুই বুঝতে পারছেন না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনলাইন ক্লাস হলো সেমিস্টার ফি নেওয়ার একটি ফাঁদ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের রিটেক এবং অন্যান্য ভয় দেখিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করছে; যাতে পরবর্তী সময়ে সেমিস্টার ফি আদায় করা যায়৷ বর্তমান পরিস্থিতে শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা না করেই ক্লাস চালিয়ে যাওয়া ও সেমিস্টার ফি মওকুফ না করার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিণত হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। তাই আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজ থেকে সকল অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিলাম।

বিবৃতিতে ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে টিউশন ফি প্রদানের জন্য চাপ দিচ্ছে’ বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টার টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে। শিক্ষক ও স্টাফদের বেতন কর্তন করা যাবে না এবং করোনার পরবর্তী সময়ে কোন শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে সেজন্য শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করতে হবে।

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক এক বিবৃতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিস্টার ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা ছাত্র ইউনিয়ন।

বিবৃতিতে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অভিজিত বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত দেব নাথ বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উচ্চ ইন্টারনেট ব্যয় বহন করে অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষায় সংযুক্ত হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এ পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর যখন তিনবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হচ্ছে সেই পরিস্থিতিতে সন্তানের সেমিস্টার ফি ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ এর মত নেমে এসেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ঐতিহ্যবাহী র‌্যালি ছাড়াই রাঙামাটিতে জন্মাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু

মরণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী বর্নাঢ্য র‌্যালি ছাড়াই উদযাপিত হলো …

Leave a Reply