নীড় পাতা » বান্দরবান » বেপরোয়া হয়ে উঠছে তুমব্রু সীমান্তের রোহিঙ্গারা

বেপরোয়া হয়ে উঠছে তুমব্রু সীমান্তের রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত জেলা পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে এখনো ৬৩৩ পরিবারের প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নানা কৌশলে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গিয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ আছে।

শুধু তাই নয়, এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদকপাচারসহ জড়িয়ে পড়েছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও।
জানা গেছে, দেশি-বিদেশি নানা এনজিওর সাহায্য-সহযোগিতা পেয়ে বেশ বহাল তবিয়তেই তুমব্রু কোণারপাড়া, বাইশফাঁড়ি এলাকার নো ম্যান্স ল্যান্ডে জাঁকিয়ে বসেছেন রোহিঙ্গারা। যদিও সম্প্রতি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সেনাদের গতিবিধি বেড়ে যাওয়ায় তারা কিছুটা ভীত।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, তারা কোণারপাড়া, বাইশফাঁড়ি এলাকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। সেখানে আগের মতো তাদের কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থাগুলো তাদের মৌলিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমার সেনারা অবস্থান করছেন বলে তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা মিয়ানমার সেনারা যে কোনো সময় আবার চড়াও হতে পারে।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের বাসিন্দা সিরাজুল হক জানান, তুমব্রু সীমান্তে আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে বাংলাদেশে পাচার করছে। এ ছাড়া চোরাকারবারি, মারামারিসহ নানান অপরাধেও তারা লিপ্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে ভোটার হয়ে এলাকায় প্রভাবও বিস্তার করছে।

রোহিঙ্গাদের অপরাধে জড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, “তারা এতটাই উগ্র যে, কেউ তাদের সঙ্গে ভালো করে কথাও বলতে পারে না। তাদের এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত।”

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, ‘প্রশাসন তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।’

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, ‘নতুন করে অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি টহলসহ অন্যান্য কার্যক্রম জোরদার করেছে। রোহিঙ্গাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিজিবি সজাগ আছে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ‘উধাও’ ২ সন্তানের জননী

প্রেম মানে না বয়স না মানে কোন কিছুর বাধা, কিংবা জাতি ধর্ম বর্ণ। সবার জীবনে …

Leave a Reply