বেপরোয়া ‘ডেপুটি জেলার আব্দুল হান্নান’

zelarঅনিয়ম, দুর্নীতি, অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি-ধমকির পাহাড়সম অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। চরম বেপরোয়া হয়ে ওঠায় খোদ সহকর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দিয়েছেন গণস্বাক্ষর। তিনি খাগড়াছড়ির সাবেক জেল সুপার আব্দুল হান্নান। যাকে গত মাসে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদাবনতি করে ডেপুটি জেলার হিসেবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তাৎক্ষনিক যোগদানের নির্দেশ দেন কারা মহাপরিদর্শক।
তবে নিদের্শনার পরও নানা অজুহাতে বিলম্ব করে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও দীর্ঘ ১ মাস পার হয়ে গেলোও এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি তিনি। অন্যদিকে সরকারী বাসা দখল রেখেছেন তিনি। ব্যস্ত রয়েছেন ছাগল-ভেড়া পালনে !
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ১০ আগষ্ট পঞ্চপড় থেকে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে যোগদান করেন আব্দুল হান্নান। অতীতের পাহাড়সম অভিযোগ নিয়ে খাগড়াছড়িতে যোগদানের পর থেকে অব্যাহত থাকে সকল অনিয়ম, দূর্নীতি। যোগদানের পর থেকে কারারক্ষিদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচারন,অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি-ধমকি, ক্ষমতার অপব্যবহার করতে থাকে। আর এ কারণে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ১১-ই মে কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন খাগড়াছড়ি কারাগারের জেলার আব্দুল হান্নানকে পদাবনতি করে ডেপুটি জেলার হিসেবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তাৎক্ষনিকভাবে যোগদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি নানা অজুহাতে ১৬ মে সন্ধ্যায় দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এদিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন আব্দুল হান্নান। আদেশের এক মাস অতিবাহিত হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে সরকারী বাসা দখল করে রেখেছেন এবং প্রতিনিয়ত জেল সুপার ও কারারক্ষীদের সাথে অসদাচরণ এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যবস্থা নিতে কারারক্ষিদের গনস্বাক্ষরঃ
এদিকে গত ৯ জুন খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের কারা সহকারী বারেকুজ্জামান ও প্রধান কারারক্ষি মো: আবদুল কাদেরসহ কারাগারের সকল কারারক্ষি সাবেক জেলার মোঃ আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে কারারক্ষিদের প্রকাশ্যে গালিগালাজ, হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে জেলা সুপারে কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার মোঃ আবদুল হান্নানকে পদাবনতি করে ডেপুটি জেলার হিসেবে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করে তাৎক্ষনিকভাবে যোগাদানের নির্দেশ দেন। আদেশের প্রায় এক মাস পারও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে চাকুরি বিধিমালা লঙ্গন করে সরকারী বাসা দখল করে রেখেছেন এবং প্রতিনিয়ত জেল সুপার ও কারারক্ষিদের চোর ও শিবির ক্যাডার বলে গালিগালাজ এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
নিরাপত্তাহিনতার কারণে জেল সুপারের জিডিঃ
খাগড়াছড়ি কারাগারের জেল সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধানিয়া সাবেক জেলারের হুমকি ধমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতাসহ সাবির্কক বিষয় নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি(নং ৩৫২,তারিখ:০৯-০৬-২০১৫) করেছেন। তিনি বলেন, আমি নিজেই নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছি। উনি এখন অরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কোন কিছু কর্ণপাত করছেননা।
বিড়ম্বনায় বন্দিরাওঃ
সদ্য খাগড়াছড়ি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, তারা কারাগারে যে ক’দিন ছিলেন, জেলার মোঃ আবদুল হান্নানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন। তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। বন্দিদের জামিন, ওকালত নামায় স্বাক্ষর এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর টাকার জন্য আসামীদের আটকে রাখতেন। এমন কি কোন আসামী জামিন হলে তার জমা করা পিসির টাকা জেলার মোঃ আবদুল হান্নান রেখে দিতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তিনি নিজেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় পাল্টা হুমকি দিতেন।
ব্যস্ত তিনি ছাগল-ভেড়া পালনেঃ
একাধিক কারা রক্ষি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, তিনি খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের যোগদানের পর থেকে কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি প্রায় ছাগল-ভেড়া লালন-পালন শুরু করেন। বর্তমানে জোরপূর্বক তার দখলে রাখা সরকারী বাসায় প্রায় আড়াই হাজার ঘনফুট সেগুন কাঠ ও ফার্নিচার রয়েছে। রয়েছে ৮০ টি ছাগল-ভেড়া। আর ঐ ছাগল-ভেড়ার খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কারাগারের কাঠলগাছসহ অন্যান ফলের বাগান প্রায় ধবংস হয়ে গেছে।
ফিরে দেখাঃ
একটি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে পঞ্চগড় কারাগারে কর্মরত থাকাকালীন মোঃ আবদুল হান্নান কারা বিধি পরিপহ্নি ও অনৈতিক কার্যবলাপে জড়িয়ে পড়েন। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে তাকে শাস্তিমূলক বদলী করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বদলীর আদেশনামা ছিঢ়ে ফেলেন। সে সময় তার হাতে লাঞ্চিত হন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: ফিরোজ আহমেদ ও সহকারী কমিশনার এস এম ফেরদৌস ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। বিভাগীয় মামলা ছাড়াও নানা দূনূীতি ও অনিয়মের অভিযোগে মোঃ আবদুল হান্নান বেশ কয়েকবার বরখাস্ত করা হয়েছে। পঞ্চগর থেকে গত বছরের ১০ আগষ্ট মোঃ আবদুল হান্নান খাগড়াছড়ি কারাগারে বদলী হয়ে আসেন।
তদন্ত কমিটি গঠনঃ
একটি সূত্র জানায়, মোঃ আবদুল হান্নানের দূর্নীতি-অনিয়ম তদন্তে গত ২৮ মে চট্টগ্রামের ডিআইজি প্রিজন অসীম কান্ত পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলে, নোয়াখালীর কারাগারের জেল সুপার নজরুল ইসলাম ও কক্সবাজার কারাগারের জেলার আনোয়ারুল ইসলাম। এ কমিটি ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ি কারাগারে এসে তদন্ত করে গেছেন। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জানা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালী কারাগারের জেল সুপার নজরুল ইসলাম খাগড়াছড়িতে এসে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানান। তবে এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।
খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে জেলার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধানিয়া কারারক্ষিদের দেয়া গণস্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মোঃ আবদুল হান্নানকে সরকারী বাসা খালি করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য গত ৩০ মে নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি এখনো বাসা খালি করেননি। বরং এ নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ঐ বাসায় অপরিচিত লোকজনের আনা-ঘোনা বেড়েছে। তাদের আচারণ সন্দেহজনক এবং কারাগারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে অভিযুক্ত সাবেক জেল সুপার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এআইজি জলিল স্যার মৌখিকভারে আমাকে বলেছেন খাগড়াছড়ি থাকতে।’ তাই রয়েছি। অন্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুুল হান্নান বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও সাংবাদিকদের জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply